• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শার্শায় চলমান বিশেষ অভিযানে নাশকতা মামলার তদন্তে পাওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ পঞ্চগড়ে একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর—দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন, যশোরের শার্শায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামকে ঘিরে বিএনপির বিশাল শুভেচ্ছা মিছিল ও মতবিনিময় আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে বেনাপোলে নেতাকর্মীদের বিশাল মিছিল; যশোরে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা বিএনপির মতবিনিময় জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়; সাংগঠনিক বিষয়সহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অভিযানে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উদ্বার সাংবাদিকদের ফাঁসাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ কেশবপুর প্রেসক্লাবে হামলার পর আহতদের চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ নিয়ে প্রশ্ন; স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ‘ভুয়া’ চিকিৎসা নথি তৈরির অভিযোগ, তদন্ত দাবি পাবনায় জামায়াত কর্মী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্পের যোগসূত্র,তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য কাউনিয়ায় দূর্নীতির নিউজ প্রকাশে ৪ সাংবাদিক এর নামে জিডি তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-কার্তুজসহ ৩ জন আটক

পঞ্চগড়ে একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর—দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন,

পঞ্চগড় প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আপেল ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ / ১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপন ও চাকরিবিধি উপেক্ষার অভিযোগ

পঞ্চগড়ে একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর—দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
আসাদুজ্জামান আপেল
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ এক যুগ, কেউ দেড় যুগ, আবার কারও ক্ষেত্রে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, হাজিরা দেওয়ার পর দায়িত্বস্থলে না থাকা এবং সেবাপ্রার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এতে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তাদের বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত কোনো আদেশ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না।

তবে শুধু দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করলেই কোনো সরকারি কর্মচারী অপরাধ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে বৈধ পদায়ন, প্রশাসনিক অনুমোদন, জনবল সংকট, বদলি আদেশ, চাকরির বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই করেই প্রকৃত বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

হিসাবরক্ষক শাহজাদা ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। সে হিসাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি একই কর্মস্থলে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন বা বদলি-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) রহমতুল্লাহ ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসাবে প্রায় ১৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন তিনি।

একই তারিখে, অর্থাৎ ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন নেয়ামত উল্লাহ। তিনিও প্রায় ১৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) মাহমুদ উন নবীও ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগদানের পর থেকে প্রায় ১৮ বছর একই কর্মস্থলে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিনিয়র স্টাফ নার্স মমতা সূত্রধর ২০১০ সালের ১৯ জুলাই দেবীগঞ্জে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। সে হিসাবে প্রায় ১৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

সহকারী সেবক সুশীল কুমার দাস ১৯৯৪ সালের ১২ এপ্রিল চাকরিতে যোগদান করেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে এটি তার সরকারি চাকরিতে যোগদানের তারিখ নাকি দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের তারিখ—তা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন। তাই তাকে নিয়ে একই কর্মস্থলে ৩২ বছর থাকার দাবি সরকারি নথি ছাড়া নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।

কার্ডিওগ্রাফার তৌহিদুল ইসলাম ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্ট সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর যোগদান করেন বলে তথ্য রয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে দেবীগঞ্জে কর্মরত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট মোমিনুর রহমান ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। সে হিসাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন তিনি।

ভান্ডার রক্ষক একরামুল হক ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসাবে প্রায় ২২ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

অফিস সহায়ক রশিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই যোগদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি একই কর্মস্থলে রয়েছেন।

নার্সিং সুপারভাইজার শিউলি আক্তার ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে তথ্য রয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১৩ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

সিনিয়র স্টাফ নার্স নুরী আক্তার ২০১৩ সালে দেবীগঞ্জে যোগদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারও প্রায় ১৩ বছর একই কর্মস্থলে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সিনিয়র স্টাফ নার্স শামীমা আক্তার ২০১৩ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। তিনিও প্রায় ১৩ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে।

সিনিয়র স্টাফ নার্স দিলরোজ আক্তার ২০১৬ সালে দেবীগঞ্জে যোগদান করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী খাতুনের যোগদানের সাল সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। কোথাও ২০১৩ এবং কোথাও ২০১৬ সাল উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার কর্মকাল সরকারি নথি যাচাই করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা নিয়ে আইনি অবস্থান কী?

সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা এবং কোনো বৈধ বদলি আদেশ অমান্য করা—দুটি বিষয় এক নয়। কোনো কর্মচারী দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ তৈরি হয় না।

তবে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩০ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর আচরণ ও শৃঙ্খলার বিষয় সংশ্লিষ্ট বিধি এবং সরকার কর্তৃক জারি করা আদেশ দ্বারা নির্ধারিত হয়। একই আইনের ধারা ৩১ অনুযায়ী সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আইন অনুসরণ করে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করতে পারে। আর ধারা ৩২ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে বিধি অনুযায়ী লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীর অফিস বা কর্মস্থলে উপস্থিতি-সংক্রান্ত বিধি বা সরকারি আদেশ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৯ অনুযায়ী কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে বেতন কর্তনের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যদি নির্দিষ্ট কোনো বৈধ বদলি আদেশ থাকার পরও তা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া যায়, অথবা অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ, কোনো কোনো কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দেওয়ার পর কর্মস্থলে নিয়মিত অবস্থান করেন না। আবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) অফিসে থাকা পর্যন্ত কিছু কর্মচারী কর্মস্থলে থাকেন এবং তিনি বের হয়ে গেলে তারাও কর্মস্থল ত্যাগ করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো দিন হাজিরা দেওয়ার পর ব্যক্তিগত কাজে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পরে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সময়মতো না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো হয়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে হাজিরা খাতা, বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য, ডিউটি রোস্টার, ছুটির রেকর্ড, দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি আইনে শাস্তির সুযোগ

যদি তদন্তে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ বা উপস্থিতি-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; প্রযোজ্য সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলা বিধির অধীনে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩১ বিভাগীয় কার্যধারার সুযোগ দিয়েছে এবং ধারা ৩২-এ দোষী সাব্যস্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে লঘু ও গুরুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত তদন্তের আগে বা অভিযোগের ভিত্তিতে ধরে নেওয়া যায় না। অভিযোগ, কারণ দর্শানো, তদন্ত এবং প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আইনগত প্রক্রিয়া।

জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপন কতটা প্রযোজ্য—সেটিই মূল প্রশ্ন

এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা” কথাটি কোন নির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে তা স্পষ্ট করা।

প্রজ্ঞাপনের নম্বর, তারিখ, বিষয়বস্তু এবং সেটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য কি না—এসব যাচাই করা জরুরি।

কারণ কোনো সাধারণ বদলি বা পদায়ন-সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্যাডার/নন-ক্যাডার অবস্থান, পদ, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব বদলি-পদায়ন বিধি অনুযায়ী বাস্তব প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে।

ফলে শুধু দীর্ঘ কর্মকাল দেখে “চাকরিবিধি লঙ্ঘন” হয়েছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করাই হবে অধিকতর নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

বদলির দায়িত্ব কার?

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কর্মরতদের বদলি বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, নার্সদের বদলির বিষয়টি নার্সিং কর্তৃপক্ষ করে থাকে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের বদলির বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করে থাকে। তাদের বদলির বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও জানান তিনি।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়—এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট নার্সিং কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা বদলি-পদায়নের নথি যাচাই করলেই দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রশাসনিক কারণ পরিষ্কার হতে পারে।

নথি যাচাই হলে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের কর্মরতদের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার উত্তর খুঁজতে শুধু অভিযোগ নয়, সরকারি নথিও সামনে আনা জরুরি।

প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর—

* বর্তমান পদে যোগদানের তারিখ;
* দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম যোগদানের তারিখ;
* সর্বশেষ বদলি বা পদায়ন আদেশ;
* বদলি স্থগিত বা প্রত্যাহারের কোনো আদেশ আছে কি না;
* একই কর্মস্থলে থাকার প্রশাসনিক অনুমোদন;
* উপস্থিতির রেকর্ড;
* ছুটির হিসাব;
* দায়িত্ব বণ্টনের রোস্টার;
* এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন

যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে জবাবদিহিতা জরুরি

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানীয় মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এখানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, সহায়ক কর্মচারীসহ প্রত্যেকের দায়িত্ব যথাসময়ে পালন করা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তাই দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা বৈধ ও অনুমোদিত হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা বা সেবাপ্রার্থীদের সেবা না দেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—তাদের মধ্যে কার কার বদলি আদেশ হয়েছে? কারা সেই আদেশের আওতায় পড়েছেন? কারা প্রশাসনিক অনুমোদনে একই কর্মস্থলে রয়েছেন? কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগ তদন্ত হয়েছে কি না? এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিগত অবস্থান কী?

এসব প্রশ্নের উত্তর সরকারি নথির মাধ্যমে প্রকাশ পেলে অভিযোগ ও বাস্তবতার পার্থক্যও স্পষ্ট হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং বদলি-পদায়ন ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই করবে। অভিযোগ সত্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও স্পষ্ট করা হবে—এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই পারে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে।


More News Of This Category
bdit.com.bd