রাষ্ট্র সংস্কারে গণমাধ্যমকে সাহসের সাথে সত্য বলার আহ্বান তারেক রহমানের
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্র সংস্কার ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল এবং নির্ভীক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গণমাধ্যম যদি নিরপেক্ষ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তবেই রাষ্ট্রের ভুলত্রুটি সংশোধন করে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে।
তোষামোদি পরিহারের আহ্বান
তারেক রহমান তার বক্তব্যে গত দেড় দশকের সাংবাদিকতার ধরনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণমাধ্যম যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বা সরকারের তোষামোদিতে লিপ্ত হয়, তখন গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে।” তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল স্তুতি বা গুণগান নয়, বরং শাসকের ভুলগুলো সাহসের সাথে তুলে ধরাই হলো প্রকৃত সাংবাদিকতা। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যম যদি আয়নার মতো সমাজের সত্য তুলে ধরে, তবে রাষ্ট্র সঠিক পথে চলতে বাধ্য হয়।
‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ ও ভয়ের সংস্কৃতি জয়
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো ভয় বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করা সাংবাদিকতার মূল দর্শনের পরিপন্থী। তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ (নিজে থেকেই সংবাদ চেপে যাওয়া) থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার অনেকাংশেই কমে আসবে।
জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার
দেশের গণমাধ্যমগুলো যেন কেবল ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং প্রান্তিক মানুষের হাহাকার যেন হেডলাইনে জায়গা পায়।” তার মতে, গণমাধ্যম যখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠে পরিণত হয়, তখনই দেশ সত্যিকারের উন্নতির পথে ধাবিত হয়।
শক্তিশালী বিরোধী দল ও গণমাধ্যম
তারেক রহমান তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন—একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের পাশাপাশি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের সমালোচনা করুন, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের আরও নিখুঁতভাবে দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে।”
ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এর বিনিময়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, গুজব বা আংশিক সত্য প্রচারের বদলে পূর্ণাঙ্গ ও সত্য সংবাদ পরিবেশনই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান চাবিকাঠি।
তারেক রহমানের এই আহ্বান সাংবাদিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি গণমাধ্যমের এই ‘ওয়াচডগ’ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।