হেমায়েতপুরে যুবদল নেতার ডেরা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বদরুল গ্রেফতার: বহিষ্কারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার | ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
সাভার পৌর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বদরুল আলম সরদারকে রাজধানীর অদূরে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল রাতে ঢাকা জেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ইয়াসির সরকার শাওনের ব্যক্তিগত কার্যালয় (আস্তানা) থেকে তাকে আটক করা হয়। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্র হত্যার মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
নেপথ্যের ঘটনা ও ব্যবসায়িক সখ্যতা
অনুসন্ধানে জানা যায়, বদরুল আলম সরদার সাভারের সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল গণি এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের অন্যতম প্রধান ‘ডোনার’ বা অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৫ই আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি তিনি বিএনপি ঘরানার নেতা আমানপুত্রের অনুসারী এবং ঢাকা জেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ইয়াসির সরকার শাওনের আশ্রয়ে ছিলেন। ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সুবাদে শাওন তাকে নিজ তত্ত্বাবধানে তার ডেরায় লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের রহস্যজনক নীরবতা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভারের অনেক সাংবাদিক এই গ্রেফতারের বিষয়টি জানতেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে ‘বিকাশ পেমেন্ট’-এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই কারণে অনেক গণমাধ্যমেই এই স্পর্শকাতর খবরটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পৌর আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি
বদরুল আলম সরদার গ্রেফতার হওয়ার পরপরই সাভারের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন যুবদল নেতার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগ নেতার থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ছাত্র হত্যার মতো গুরুতর মামলার আসামি হওয়ায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোরালো দাবি উঠেছে। সচেতন নাগরিক সমাজ এবং তৃণমূলের দাবি, অনতিবিলম্বে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
র্যাবের বক্তব্য
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতা ও হত্যা মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।