• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে চৌগাছায় তোলপাড়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও জলবায়ু মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বারোপ ভুয়া  কবিরাজি, অপচিকিৎসা ও রমরমা প্রতারণার জালে দিশেহারা সাধারণ মানুষ আইন লঙ্ঘন, ভুয়া লাইসেন্স প্রদর্শন ও জীবনহানির মারাত্মক ঝুঁকিতে হাজারো রোগী; প্রেম, বিয়ে ও বিচ্ছেদের পর নতুন অভিযোগ: তানজিলাকে ঘিরে রবিউলের বক্তব্যে উঠছে নানা প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে; সাত মাসের সংসার ও বিচ্ছেদের দাবি—সরাসরি চ্যাটে রবিউলের একাধিক অভিযোগ যশোর কেশবপুর থানার নবাগত ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজের দায়িত্ব গ্রহণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করার প্রত্যয় নিষিদ্ধ আ. লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ সহকারী শিক্ষক খালেদুজ্জামান ও ইউপি সদস্য আসাদুলের ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশ। জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটান ও মালদ্বীপের শীর্ষ নেতাদের পৃথক বৈঠক বাংলাদেশ-ভুটান ও বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্ব; পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে মতবিনিময় বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও জোরদারে আলোচনা; অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয় যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব  নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে কৃষকদল ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে চৌগাছায় তোলপাড়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

চৌগাছায় স্কুলে প্রধান শিক্ষকের ওপর বর্বরোচিত হামলা: ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও নতুন শিক্ষানীতিতে ফাঁদে অপরাধীরা, বিএনপির হাই কমান্ড ও প্রশাসনের জিরো টলারেন্স

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর:

যশোরের চৌগাছায় পাতিবিলা হাজী শাহজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শেখ মোঃ ওয়ালিউর রহমানের ওপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের সরকারি প্রস্তাবনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল ও সন্ত্রাসী চক্র প্রধান শিক্ষকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় যশোর জুড়ে শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কারণ
প্রাপ্ত তথ্য ও থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাতিবিলা হাজী শাহজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ৩ সদস্যের নামের একটি প্রস্তাবিত তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর মাধ্যমে যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়।

মনোনীত তিন প্রার্থী হলেন:
১. মোঃ সুমন রেজা (৩৩): যুবদল নেতা ও চৌগাছা নার্সিং কলেজের শিক্ষক (সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মোছাঃ সাবিরা সুলতানার ডিও লেটারপ্রাপ্ত)।

২. সিদ্দিকুর রহমান (৫৬): সহকারী অধ্যাপক, সলুয়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজ (সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি জহুরুল ইসলামের সুপারিশকৃত)।

৩. মোঃ মনিরুজ্জামান (৩৭): যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারী ও জেলা যুবদল সভাপতি তমালের সুপারিশকৃত।

১ নম্বর অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ (৪১) চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. সালামের সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথি প্রধান শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করেননি। ফলে সরকারি বিধি অনুসরণ করে এবং সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের জরুরি নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষক ৩ জনের তালিকা প্রেরণ করেন।

প্রস্তাবে নাম না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বেলা ১২:০০ ঘটিকার সময় রাজু আহম্মেদ ও ‘চশমা মোমিন’ (৪৫)-এর নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা তাকে প্রস্তাবের কাগজ ফেরত আনার জন্য চাপ দেয় এবং একপর্যায়ে কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

আলমগীর মেম্বার ও নেপথ্যের চক্রের ইন্ধন
অভিযোগ রয়েছে, রাজু আহম্মেদের পেছনে স্থানীয় আলমগীর মেম্বারসহ একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এরা আর্থিক প্রলোভন ও পেশিশক্তির জোরে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদে আধিপত্য বিস্তারের চক্রান্ত করছিল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রবীণ শিক্ষককে মিথ্যা রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষুব্ধ।

আইনি বিশ্লেষণ: যেসব ধারায় সাজা ও জরিমানা হতে পারে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করে সরকারি/বেসরকারি কর্তব্যরত শিক্ষকের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত কঠোর ধারাসমূহ প্রযোজ্য:

১. ধারা ১৪৩/১৪৭ (বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা): বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে সহিংসতা ও দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

২. ধারা ৪৪৭/৪৪৮ (অনধিকার প্রবেশ): স্কুলে অনধিকার প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

৩. ধারা ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান): মারধর করে শারীরিক ক্ষতি করার অপরাধে ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড।

৪. ধারা ৩২৫ (গুরুতর আঘাত বা ফ্লোরে ফেলে নির্যাতন): গুরুতর শারীরিক জখমের অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

৫. ধারা ৩৫৪/৩৫৫ (সরকারি/পেশাগত কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করা): শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও বলপ্রয়োগ করার অপরাধে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড।

৬. ধারা ৫০৬ (অপরাধমূলক হুমকি বা জীবননাশের হুমকি): ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড।

এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি শৃঙ্খলা আইন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, সরকারি বা আধা-সরকারি প্রশাসনিক কাজে বাধা প্রদানকারী ব্যক্তিদেরকে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্ল্যাকলিস্টসহ তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সম্মান রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বা শিক্ষকদের ওপর কোনো প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কঠোর আইনি অবস্থান গ্রহণ করেছে।

দলীয় প্রধানের কঠোর নির্দেশনা: বিএনপির দলীয় হাই কমান্ড থেকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কোনো ব্যক্তি যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখলদারি বা চাঁদাবাজিতে যুক্ত হয়, তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিষ্কারসহ জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা হবে।

বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষক সমাজ
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক শেখ মোঃ ওয়ালিউর রহমান বলেন, “পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক ছিলেন, নিজেও সারা জীবন শিক্ষা প্রসারে কাজ করেছি। কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ আমার ছিল না, শুধু সরকারি নিয়ম মেনে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। আইন হাতে তুলে নিয়ে আমাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, আমি তার ন্যায়বিচার চাই।”

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইপূর্বক জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিকেরা অবিলম্বে মূল হোতা রাজু, চশমা মোমিন ও পেছনের ইন্ধনদাতা আলমগীর মেম্বারসহ সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আকুল দাবি জানিয়েছেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd