বিদেশে কর্মসংস্থানের কথা বলে লোক সংগ্রহে একাধিক গ্রুপ ব্যবহারের অভিযোগ; সামনে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ভিসা ও টিকিটসংক্রান্ত নথি—তবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে লোক সংগ্রহ, একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পরিচালনা এবং বিদেশগামী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কথিত দালালচক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য, গ্রুপে লোক সংগ্রহের কথোপকথন এবং বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত কিছু নথি ঘিরে নতুন করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশে চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা, প্রয়োজন অনুযায়ী লোক সংগ্রহ করা এবং তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার একটি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এ কাজে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের হাতে আসা তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণে অভিযোগের বিভিন্ন দিক সামনে এলেও, তোফাজ্জাল সরাসরি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো স্বাধীন, পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ঘিরে প্রশ্ন
প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে তোফাজ্জালের নামসংবলিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে কাজের খবর ও লোক সংগ্রহসংক্রান্ত গ্রুপের অস্তিত্বের তথ্য সামনে এসেছে।
একটি গ্রুপের নাম হিসেবে দেখা যায়, “TUFAZZUL HOSSIN কাজের…” এবং অপর একটি গ্রুপে “TUFAZZUL সৌদির কাজের খবর” ধরনের নাম ব্যবহৃত হয়েছে। একটি গ্রুপে কয়েক শত সদস্য থাকার তথ্যও দেখা গেছে। সেখানে তোফাজ্জালের নাম প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে প্রদর্শিত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
আরেকটি গ্রুপে বিদেশে কাজের জন্য লোক প্রয়োজন—এমন বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রুপে যুক্ত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রচারের বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে।
তবে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কারও নাম প্রশাসক হিসেবে থাকা, বিদেশে চাকরির তথ্য দেওয়া বা লোক সংগ্রহের বার্তা আদান-প্রদান করা মাত্রই সেটিকে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এসব তথ্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন, চুক্তি, ভিসা প্রসেসিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কতটা সত্য?
তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—বিদেশে কর্মসংস্থানের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত অভিযোগের মোট আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করার মতো পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, লেনদেনের ধারাবাহিক বিবরণ, লিখিত চুক্তিপত্র কিংবা কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ফলে “কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ” কথাটি অভিযোগকারীদের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; এটিকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—কতজন ব্যক্তি তার সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন, কার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, কোন তারিখে টাকা নেওয়া হয়েছে, কোন মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে, কার নামে টাকা গেছে, কোনো রসিদ বা চুক্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদৌ বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কি না।
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
শামীমের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার অভিযোগ
তোফাজ্জালকে ঘিরে নতুন অভিযোগ সামনে আসার আগে কবীর ওভারসীজের অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার এম. সালাউদ্দিন শামীম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল।
তোফাজ্জালের দাবি ছিল, বিদেশে পাঠানো বা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তাকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা, নগদে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে শামীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শামীমের পাল্টা দাবি, বরং তোফাজ্জালের কাছেই তার ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তোফাজ্জাল তার কাছ থেকে বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তি, চুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং নিজের মানহানি হয়েছে দাবি করে আইনগত সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
শামীমের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
এম. সালাউদ্দিন শামীম ভূঁইয়া আরও দাবি করেছেন, তোফাজ্জালের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনের বিষয় রয়েছে এবং তোফাজ্জালের কাছ থেকে এখনো ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।
তবে এই ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার দাবিও বর্তমানে শামীমের বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর সত্যতা নির্ধারণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, লেনদেনের রসিদ, চুক্তিপত্র, বিকাশ বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে তোফাজ্জালের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবির ক্ষেত্রেও ব্যাংক, বিকাশ, নগদ লেনদেন ও চুক্তিসংক্রান্ত নথির পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।
অর্থাৎ দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই বড় ধরনের আর্থিক দাবি রয়েছে। কিন্তু দাবি আর প্রমাণ এক বিষয় নয়। সাংবাদিকতার স্বার্থে উভয় পক্ষের দাবির পেছনে থাকা নথি যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশযাত্রার নথি ও ভিসা-টিকিটের তথ্য
অনুসন্ধানে বিদেশযাত্রাসংক্রান্ত কিছু নথি ও টিকিটের তথ্যও সামনে এসেছে। এর মধ্যে জুলকার নাইন নামে একজন যাত্রীর ঢাকা থেকে মুম্বাই হয়ে জেদ্দা যাওয়ার এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিটের তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়।
এ ছাড়া কয়েকজন ব্যক্তির পাসপোর্টসংক্রান্ত নথির তথ্যও সামনে এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা বিমান টিকিট থাকা মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবৈধভাবে বিদেশ পাঠানো বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বরং এসব নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, ভিসা আবেদনের কাগজপত্র, নিয়োগপত্র, অর্থ প্রদানের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির রেকর্ড মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একাধিক গ্রুপ পরিচালনার অভিযোগ
তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে বিদেশে কাজের জন্য লোক খোঁজা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব গ্রুপে বিভিন্ন সময় বিদেশে চাকরি বা কাজের সুযোগসংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা হয়েছে। সম্ভাব্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গ্রুপ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যদি এসব গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
বিশেষ করে গ্রুপের অ্যাডমিন, মডারেটর, অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি, ভিসা প্রসেসিংয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রকৃত নিয়োগদাতা—এদের মধ্যে আর্থিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক কী ছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কথিত দালালচক্রের কাঠামো কী?
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে শুধু তোফাজ্জালের ভূমিকা দেখলেই হবে না। বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় আর কারা যুক্ত ছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
কেউ যদি লোক সংগ্রহ করেন, অন্য কেউ টাকা গ্রহণ করেন, আরেকজন ভিসা প্রসেস করেন এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন—তাহলে প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন তালিকা, মেসেজ হিস্ট্রি, ফোন নম্বর, ব্যাংক হিসাব, বিকাশ লেনদেন, রসিদ, ভিসা আবেদন, টিকিট বুকিং এবং বিদেশি নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্যও যাচাই জরুরি
তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য আলাদাভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তারা কত টাকা দিয়েছেন, কাকে দিয়েছেন, কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছেন, টাকা দেওয়ার সময় কোনো রসিদ পেয়েছেন কি না, কোনো চুক্তি হয়েছিল কি না, ভিসা বা নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন কি না, বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে আটকে যায় এবং টাকা ফেরতের বিষয়ে কী যোগাযোগ হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একইসঙ্গে কেউ যদি অভিযোগ করে থাকেন যে তাকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে, তাহলে তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিকাশ স্টেটমেন্ট, মোবাইল যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও যাচাই করা প্রয়োজন।
শুধু স্ক্রিনশট নয়, প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল যাচাই
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ক্রিনশট খুব সহজে সংরক্ষণ, সম্পাদনা বা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা সম্ভব। তাই কোনো স্ক্রিনশট দেখেই অপরাধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে নিরাপদ নয়।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস, মূল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, পূর্ণাঙ্গ চ্যাট হিস্ট্রি, গ্রুপ অ্যাডমিনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মূল লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগের আর্থিক ভিত্তি স্পষ্ট হতে পারে।
শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই নীতি
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে যেমন অভিযোগের প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন, তেমনি শামীমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই জরুরি।
শামীমের দাবি অনুযায়ী, তিনি তোফাজ্জালের কাছে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা। অন্যদিকে তোফাজ্জালের দাবি ছিল তিনি শামীমকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কেবল বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কার বক্তব্য কতটা সত্য—নথিই দিতে পারে উত্তর
এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে—কার কাছে কী পরিমাণ টাকা গেছে এবং কোন উদ্দেশ্যে গেছে।
যদি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের রেকর্ড, চুক্তিপত্র, রসিদ, ব্যাংক বা বিকাশ লেনদেন এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের নথিতে তার প্রতিফলন থাকার কথা।
অন্যদিকে শামীমের দাবি যদি সত্য হয় যে তোফাজ্জালের কাছে তার ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে, তাহলেও সেই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি থাকা প্রয়োজন।
অর্থাৎ উভয় পক্ষের বক্তব্যের নিষ্পত্তি হতে পারে নথির মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি
বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, কেউ অনুমোদিতভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন কি না এবং কোনো অবৈধ মধ্যস্থতাকারী চক্র সক্রিয় ছিল কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রয়োজনে অভিযুক্ত ব্যক্তি, অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট এজেন্সি, বিদেশগামী যাত্রী এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে তদন্ত করা যেতে পারে।
বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত নথি মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
তোফাজ্জালের বক্তব্যের বিষয়
তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি, বৈধ ব্যবসায়িক অনুমোদন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।
একইভাবে শামীমের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রকাশের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের অবস্থান
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ কোনো ব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগ, স্ক্রিনশট কিংবা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে না।
এই প্রতিবেদনে তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। “কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ” সংক্রান্ত দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
একইভাবে এম. সালাউদ্দিন শামীম ভূঁইয়ার ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনার দাবিকেও তার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; এটিকেও আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
সাংবাদিকতার মূলনীতি অনুযায়ী, অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আনা জরুরি।
এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ব্যাংক ও বিকাশ লেনদেন, চুক্তিপত্র, ভিসা-সংক্রান্ত নথি, বিমান টিকিট, হোয়াটসঅ্যাপের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় সরকারি নথি যাচাই করা হলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ—জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশে দায়িত্বশীলতা, ভারসাম্য ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।