২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সময়: দুপুর ১২:৩৩
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ – জনতার কণ্ঠস্বর
www.bangladeshprothomsangbad.com
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর আজ ট্রাইব্যুনালে শেষ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
রবিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি ৫৪তম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ছাত্র–জনতার জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, নিপীড়ন ও গণঅপরাধ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এ সময় আদালতে প্রসিকিউশন টিমের নেতৃত্ব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার ধারাবাহিকতায় এর আগে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের পিতা, নিখোঁজদের স্বজনরা, জুলাই আন্দোলনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। প্রসিকিউশন বলছে, এ সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো সম্মিলিতভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সেই সময়ের গণঅপরাধের চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে।
অন্যদিকে আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে রাজসাক্ষীর মর্যাদা পেয়েছেন এবং এরই মধ্যে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার পক্ষে আইনজীবী হিসাবে কাজ করছেন যায়েদ বিন আমজাদ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১০ জুলাই এ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেয়। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার শেষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে মামলার প্রমাণ উপস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। এখন পরবর্তী ধাপে যুক্তিতর্ক ও রায়ের দিকে অগ্রসর হবে আদালত।
এ মামলাটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে—একটি দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম–খুনের দায়ে এবং অপরটি ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দমনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তদন্ত কর্মকর্তার এই শেষ সাক্ষ্য মামলার কাঠামোকে আরও সুসংহত করেছে। এখন আদালতের রায়ের দিকেই দেশের জনগণের দৃষ্টি।