• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রেম, বিয়ে ও বিচ্ছেদের পর নতুন অভিযোগ: তানজিলাকে ঘিরে রবিউলের বক্তব্যে উঠছে নানা প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে; সাত মাসের সংসার ও বিচ্ছেদের দাবি—সরাসরি চ্যাটে রবিউলের একাধিক অভিযোগ যশোর কেশবপুর থানার নবাগত ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজের দায়িত্ব গ্রহণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করার প্রত্যয় নিষিদ্ধ আ. লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ সহকারী শিক্ষক খালেদুজ্জামান ও ইউপি সদস্য আসাদুলের ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশ। জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটান ও মালদ্বীপের শীর্ষ নেতাদের পৃথক বৈঠক বাংলাদেশ-ভুটান ও বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্ব; পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে মতবিনিময় বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও জোরদারে আলোচনা; অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয় যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব  নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে কৃষকদল ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ পলাশবাড়ীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা ও হুমকির শিকার একটি পরিবার সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামান ও ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে পূর্ববিরোধকে ঘিরে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার প্রধান শিক্ষক শার্শায় চলমান বিশেষ অভিযানে নাশকতা মামলার তদন্তে পাওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ

হাতিয়ার ঢালচরে ভূমিহীন বনাম দখলদার, সিডিএসপি’র জরিপে নতুন আশা

Reporter Name / ১০৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

হাতিয়ার ঢালচরে ভূমিহীন বনাম দখলদার, সিডিএসপি’র জরিপে নতুন আশা

মাহিদুল ইসলাম হিমেল
হাতিয়া উপজেলা প্রতিনিধি

জলবায়ুর প্রভাব আর মেঘনার ভাঙনে প্রতি বছর নোয়াখালীর হাতিয়ায় হাজারো মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে পড়ে। উদ্বাস্তু এসব মানুষের আশ্রয় মেলে নদীতীর, বেড়িবাঁধ কিংবা মেঘনার বুকে জেগে ওঠা চরে। মূল ভূখণ্ড থকেে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হওয়ায় হাতিয়ার নদী পয়স্তি এসব চরের নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই প্রশাসনের বাইরে থাকে। ফলে শুরু থেকেই ভূমিদস্যু ও বনদস্যুর দখল-প্রবণতা দেখা যায়। এই বৈরী পরিস্থিতিতেই যুগের পর যুগ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন নদীভাঙা মানুষ। হাতিয়া ও মনপুরার মাঝামাঝি মেঘনার বুকে জেগে ওঠা ‘ঢালচর’ তেমনই এক অন্ধকার অধ্যায়, যেখানে র্দীঘ প্রায় সত্তর বছর ধরে নেই প্রশাসনের সরাসরি নজরদারি। এখানে নিয়ম চলে মনপুরা ও পার্শ্ববর্তী ভূমিদস্যুদের ইচ্ছামতো। অবশেষে চলতি মাসের শুরুতে সিডিএসপি-৫ প্রকল্প ঢালচরের উন্নয়ন ও বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে জরিপ শুরু করায় ভূমিহীনদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়।

প্রায় ৮৫ বছর আগে জেগে ওঠা ঢালচর হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সুখচর ইউনিয়নের ১নং ওর্য়াডে অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে পলি জমে ভোলার মনপুরা কাছাকাছি হওয়ায় সেখানকার একটি গোষ্ঠী চরটির দাবিদার হয়ে ওঠে। মনপুরা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও তার ভাতিজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী নানা কৌশলে ঢালচরের বিশাল অংশ নিজেদের দখলে নিয়েছেন। তাদের দাদা-পিতারাও একইভাবে দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদে হাতিয়ার ভূমিহীনদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রয়াত আজহার উদ্দিন (আজরদ্দি) মিয়া।

ওই সময় (১৯৬৯) মনপুরার ভূমিখেকোদের হামলায় ঢালচরে আহত বৃদ্ধ ভূমিহীন সারু মিয়া এবং আনোয়ার মীরসহ একাধিক ভূমিহীন জানান, মনপুরার দখলদাররা হামলা করে হাতিয়ার ঢালচরের ২২ জন ভূমিহীনকে হত্যা করেছে এবং ওইসব হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন। সেই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কালপরিক্রমা এখনও চলমান। বর্তমানে চরটির দক্ষিণ অর্ধেকে নাজিম উদ্দিন চৌধুরী পরিবার আর উত্তর অর্ধেকে হাতিয়ার ভূমিহীনদের বসবাস। উত্তরাংশে নাজিম উদ্দিন গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে রামগতি এলাকার ফখরুল গ্রুপ ভূমিকা রাখছে বলে জানা যায়। বিনিময়ে চরবাসীদের ফখরুল গ্রুপকে দিতে হয় কিছু মাইনে। তবুও ভয়-আতঙ্কে তাদের দিন কাটে। অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলতেও তারা ভয় পায়।

*ঢালচর বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও মোকদ্দমা*

ঢালচর সংশ্লিষ্ট হাতিয়া সুখচর ইউনিয়নের তৎকালীন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৬০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বোর্ড অব রেভেনিউর অতিরিক্ত সচিব এন আহমেদ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের পরিচালককে এক অফিস আদেশে লিখেছেন, ঢালচর নোয়াখালী জেলার সীমানায় নতুন জেগে ওঠা একটি চর এবং এটি নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মনপুরা বাকেরগঞ্জ (ব্রিটিশ ভারতের প্রাক্তন জেলা-বর্তমান ভোলা) জেলার একটি থানা। তিনি নোয়াখালী ও তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার মধ্যে সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে এই অফিস আদেশ জারি করেন। একই বছরের ১১ মে বোর্ড অব রেভেনিউর সদস্য (বিশেষ) এস বি হ্যাচ বার্নওয়াল এক অফিস আদেশে ঢালচর সর্ম্পকে বলেন, এটি নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি নতুন চর। একই অফিস আদেশে নোয়াখালী জেলা কালেক্টরের পক্ষ থেকে ঢালচরে সেটেলমেন্ট র্কাযক্রম শুরু হয়।

১৯৬০-৬১ সালে ঢালচর ৫১নং তৌজি (চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় কালেক্টরিতে সংরক্ষিত থাকা রেজিস্ট্রার) হিসাবে ১ হাজার ১৫৩টি বন্দোবস্ত নথির প্রত্যেক বন্দোবস্তের অনুকূলে ২.৫০ একর জমি জমাবন্দি করা হয়। ৪৪৬ জন বন্দোবস্তকারীর কাছ থেকে কবুলিয়াত গ্রহণ করা হয়।

তার এমন আদেশের বিরুদ্ধে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার জমিদার পরিবারের রাজেশ কান্ত রায় বরিশাল ২য় সাবজজ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেন। এতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দাবি করলে আদালত ১৯৬০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢালচরে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

১৯৮৭ সালের ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. ইনামুল হকের সভাপতিত্বে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণ বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নোয়াখালী জেলার ১৯১৩-১৬ সালের সিএস জরিপের রেখা ও ভোলা জেলার ১৯৪০-৪২ ও ১৯৪৫-৫২ সালের আরএস জরিপের রেখার মধ্যবর্তী রেখাই নোয়াখালী-ভোলা জেলার সীমানারেখা হবে। একই সিদ্ধান্তের ওপর ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ ভূমি মন্ত্রণালয়ের শাখা-২ একটি প্রজ্ঞাপন (৩/৯১-১২৭) জারি করে।

এর আগে ১৯৯৪ সালের ৭ আগস্ট ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তিকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভোলার জেলা প্রশাসক তার জেলার আরএস রেখা এবং নোয়াখালী জেলার সিএস জরিপের রেখার মধ্যবর্তী রেখাকে ভোলা-নোয়াখালী আন্তঃজেলা সীমানা রেখা হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করলে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা উক্ত প্রস্তাব যুক্তিযুক্ত বলে একমত প্রকাশ করলে তা সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়। এ সকল সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারের এলজিইডি, ইউএনডিপি/ল্যান্ড প্রজেক্টের আওতায় ১৯৯৪ সালে প্রণীত থানা নকশায় সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, ঢালচর সর্ম্পূণ নোয়াখালী জেলার অর্ন্তগত।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে অমান্য করে নোয়াখালী ও ভোলা জেলার চলমান সীমানা বিরোধ নিয়ে ২০১০ সালে নাজিম উদ্দিন চৌধুরী তার লোক দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেন বলে চরবাসী অভিযোগ করেন। রিটের আসামি (নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের কাছে) বা সরকার পক্ষের কাছে নোটিশের কোনো কাগজপত্র পৌঁছানো হয়নি বলেও অভিযোগ ছিল তখন। এতে ওই বছরের ৯ আগস্ট বাদীদের অনুকূলে একতরফা রায় হয় ঢালচর ওরফে চর ডাম্পিয়ার নামে।

বিষয়টি নিয়ে মিজানুর রহমান ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা (সলসিটির) বরাবর ঢালচরের পক্ষে একটি আবদেন করেন। আবেদনে বলা হয়, আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট রিট আবদনের আদেশ বা আরজির কপি না পাওয়ায় বিবাদীদের জবাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ওই বছরের ৯ আগস্ট বাদীদের অনুকূলে একতরফা রায় হয়। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও সরকার পক্ষকে অজ্ঞাত ও প্রকৃত তথ্য গোপন রাখায় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ঢালচরের বাসিন্দা এবং হাতিয়া উপজেলার স্বার্থ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এছাড়া বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতাও সৃষ্টি হয়।

২০১৬ সালে আদালতের এক নির্দেশে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর নোয়াখালী-ভোলা আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণের জন্য জরিপ কাজ শেষ করে এক স্মারকপত্র জারি করে। অধিদফতরের পরিচালক (জরিপ) আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই স্মারকপত্র অনুযায়ী ঢালচর শতভাগ নোয়াখালীর সীমানায় রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ড বইয়ে দেখা যায়, ১৯৯৯-২০০০ সালের ঢালচর ৫১নং তৌজি হিসাবে ৬ হাজার নথি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। যেখানে বর্তমানে হাতিয়ার নদীভাঙা ভূমিহীনরা বসবাস করছে।

২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল জরিপ কর্মসূচির নাম করে ঢালচরের মাঝামাঝি স্থানে পিলার স্থাপনের নামে নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ঢালচরবাসীর সাথে সংর্ঘষ বাঁধান। এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিন চৌধুরী কানুনগো জাহাঙ্গীর আলমকে বাদী করে ৪৮ জন ভূমিহীনের বিরুদ্ধে মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেন ভূমিহীন নেতা ইকবালসহ ভুক্তভোগীরা।

ভূমিহীনরা জানান, মনপুরার এই প্রভাবশালী পরিবার স্বাধীনতা র্পূব ও উত্তর সময় থেকে একেকবার একেক শক্তি এবং গোষ্ঠীর সাথে সর্ম্পক গড়ে ঢালচরের দক্ষিণ পাশের প্রায় চার র্বগকিলোমিটারের মতো করায়ত্ত করে রেখেছে।

এদিকে, মনপুরা সহকারী জজ আদালতের দে.মো. নং ১০/২০২৪ এ ঢালচরকে চর ড্যামপেয়ার উল্লেখ করে এটিকে তাদের জেগে ওঠা নতুন চর বলে দাবি করা হয়। এটি মনপুরার কলাতলী ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াড।

নাজিম উদ্দিন পরিবারের অনুগত স্থানীয় বেলাল মেম্বার জানান, তাদের এই অংশে ১২০ পরিবার (রায়তি) বসবাস করছে, আর ভোটার সংখ্যা ২০০ শ’র মতো। সেখানে সবাই ভালোভাবে বাস করছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে চরের দক্ষিণের এই অংশে দেখা যায়, স্বল্পসংখ্যক লোকের জন্য সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল,দোকানপাট, সোলারপ্যানেল এবং মোবাইলফোন টাওয়ারসহ প্রভৃতি আধুনিক সব স্থাপনা রয়েছে। সেখানে রয়েছে নাজিম উদ্দিন ও তার দখল সহযোগী চাচা কামাল উদ্দিনের অট্টালিকা। বিশাল চরজুড়ে রয়েছে তাদের মৎস্য ঘের ও খামার। গরু-মহিষের খামারসহ রয়েছে নান্দনিক রেস্টহাউজও।

চর দখল সংক্রান্ত বিষয়ে নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করনেনি।

অপরদিকে, ঢালচরে বর্তমানে এক হাজার ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে শিশু, নারী-পুরুষ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন। ভোটার রয়ছেে দুই হাজারের বেশি। এখানে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা এবতেদায়ী শিক্ষা কেন্দ্র। ফলে শত-শত শিশু বিনা শিক্ষায় বেড়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও যোগাযোগের ন্যূনতম সুবিধাও নেই।

মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন একটি মাত্র সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে। যেখানে ১৫-২০ জন শিশুকে নিয়ে একটা হেফজখানা চালু আছে। আশপাশে মসজিদ এবং নূরানী মাদ্রাসাও ৪টা আছে।

*পেশা:* মাছ ধরা আর কৃষি হলো চরবাসীর প্রধান পেশা। জীবনমান তাদের নিম্ন র্পযায়ে।

*বনায়ন:* হাতিয়া উপজেলার নলচিরা বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢালচর বিটে ৪৩৪ হেক্টর সংরক্ষতি বন ঘোষণা করা হয়েছে। যা বনদস্যুদের কারণে এখন ছোট হয়ে আসছে।

*ভূমি খেকোদের পরিচয়:* খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনপুরা ও ঢালচরের পার্শ্ববর্তী ভূমি খেকোদের পাশাপাশি হাতিয়াতেও রয়েছে একাধিক চাঁদাবাজ ও ভূমি খেকো। এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। জাহেদ, কেফায়েত উল্লা ও সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমানে পলাতক আছেন। পলাতকদের একজন চরে চাঁদাবাজি করে হাতিয়ার মূল ভূখণ্ডে বিল্ডিং গড়েছেন। বর্তমানে তানসেন নামের একজন আছেন। এরা সবাই এক ভূমিহীনের দাগ আরকেজনের কাছে বিক্রি করত। দাগ বিক্রি বা চাঁদার পরিমাণ ছিল ৬ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা র্পযন্ত।

*চরবাসীদের দাবি*

ঢালচরের ভূমিহীনদের সাথে স্থানীয় দিদার মেম্বার জানান, এখানে জরুরি ভিত্তিতে দুইটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবতেদায়ী শিক্ষা কেন্দ্র চালু করাসহ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুবই দরকার। বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও জরুরি। একইসঙ্গে সিডিএসপি জরিপ কার্যক্রমে তাদের জীবন-মান, অবকাঠামোসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন পথ উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

ঢালচরে সিডিএসপি-৫ প্রকল্প জরিপ টিমের কো-অর্ডিনেটর কাইয়ুম জানান, এখানে কাজ করতে এসে নানান বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, বিভিন্নভাবে ফোন দিয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপের এজেন্টেরা তাদের নজরদারিতে রেখেছিল বলেও জানান তিনি।

এডিসি রেভেনিউ, নোয়াখালী- ঢালচরসহ আশপাশের চরগুলোতে সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বন্টনের জন্য একটা বাস্তবায়নকারী সংস্থা নিয়োগের মাধ্যমে দস্যুতা ও দখলদারত্বের অবসান করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এসব বিষয়ে নোয়াখালী জেলার এডিসি নাজমা বিনতে আমিন জানান, সিডিএসপি টিমের সাথে কথা হয়েছে, আবারো তাদরে সাথে বৈঠক হবে। তখন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০১০ সালে দায়ের করা রিটে ভোলা একতরফা রায় নেওয়ার বিষয়ে তথ্য উপাত্ত দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd