তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রতিবেদক: জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
হচট্টগ্রামে আবুল কাশেম–আবু তাহের–সাদ্দামের পুনর্গঠন: নওফেল ও সামশুল হকের ঘনিষ্ঠদের ছত্রছায়ায় নাশকতার পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর কৌশলগত এলাকাসমূহ — কর্ণফুলীর নতুন ব্রিজ, টেরিবাজার, লালদিঘী, কোতোয়ালি মোড়, পটিয়ার মনষারটেক ও শান্তির হাট—কে কেন্দ্র করে একটি পুনর্গঠিত নাশকতামূলক নেটওয়ার্ক সক্রিয় হচ্ছে। ব্যবসায়ী লেবাসধারী আবুল কাশেম, তার দুই ভাই আবু তাহের ও সাদ্দামের নেতৃত্বে গঠিত এই বাহিনী দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় প্রকাশ্যে আসছে এবং এলাকায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, এই চক্রটি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও পটিয়ার সাবেক এমপি ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংযুক্ত। অভিযোগ আছে যে, নওফেল ও সামশুল হকের আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায়তায় আবুল কাশেমরা গত ঘটনাগুলোতে অর্থ ও জনবল জোগায়। অতীতে ছাত্র জনতার আন্দোলনের ওপর প্রচণ্ড হামলা, কোতোয়ালি থানায় লুটপাট, কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ ও নিউ মার্কেট মোড়ে গুলি বর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও খুনের ঘটনা এই চক্রের কার্যকলাপের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষত এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় আর্থিক সহযোগী হিসেবে আবুল কাশেমের নাম উঠে এসেছে।

চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আড়ালে চক্রটি গোপনে আস্তানা গড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মের্সাস মক্কা বাণিজ্যলয় (৫৩ নং মধ্যম চাক্তাই), মের্সাস আবুল কাসেম এন্ড সঙ্গ (৮১ নং মধ্যম চাক্তাই), মের্সাস চিটাগাং স্টোর (১১ নং মধ্যম চাক্তাই), মের্সাস আল মুনিরিয়া ট্রেডার্স (৩১৭ নং হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার) ও মের্সাস মদিনা ট্রেডিং (৩৩৬ নং খাতুনগঞ্জ)। পটিয়ার চরকানাইয়ের মিয়াজী পাড়া ফোরকানিয়া মসজিদ সংলগ্ন আবুল কাশেমের বাড়িও গোপন বৈঠক ও ক্যাডার পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
গত ৩০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর ৩১-এ মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মন্ত্রী জহরলাল হাজারী, ফয়েজ উল্লাহ চৌধুরী বাহাদুর, জাহাঙ্গীর আলম, মান্না বিশ্বাস, তানজিরুল হক চৌধুরী, নিজাম উদ্দিন কাজলসহ একাধিক নাম এসেছে। মামলাটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে আবুল কাশেম ও তার ভাইদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ আছে। ৪ ও ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের ওপর সংঘটিত হামলা, থানায় অগ্নি সংযোগ ও ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণ এবং এডভোকেট আলিফ হত্যাকাণ্ডে ওই দিন আবুল কাশেম, আবু তাহের ও সাদ্দামের নেতৃত্বে পরিচালিত বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণের ঘটনাগুলি তদন্তে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এ ধরনের একটি সুসমন্বিত চক্রের পুনর্গঠন জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। তথ্য রয়েছে যে, ভারতে পালিয়ে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু নেতা-কর্মীকে গোপনে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে। জেলহাজতে থাকা সামশুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী নুর রশিদ চৌধুরী এজাজসহ কয়েকজনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
সরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই নিস্পত্তিমূলক ও সুসংগঠিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তৎপরতা বাড়াতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, নাগরিক ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত অঙ্গসংগঠনের নাম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো মাল্টি-ফেসেটেড তদন্ত দাবির যোগ্য। যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, পরিবেশটি পর্যাপ্ত অস্থিরতা এবং অশান্তির দিকে ধাবিত হতে পারে।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com