সুন্দরগঞ্জে এমএসআর দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ — ডা. দিবাকর বসাকের বিরুদ্ধে তদন্ত নির্দেশ
প্রতিবেদক:
মোঃ মিঠু মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা, ২১ অক্টোবর ২০২৫:
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের আহবানকৃত দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) ২০২৫ অমান্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাকের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে মেসার্স স্বর্ণী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ শাহাদত হোসেন খন্দকার ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. দিবাকর বসাক নিয়মবহির্ভূতভাবে পিপিআর ২০২৫ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও পুরাতন পিপিআর ২০০৮ অনুসারে দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছেন। অথচ পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১৫৪ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে — নতুন নীতিমালা জারির পর সকল ক্রয় কার্যক্রম পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, ডা. দিবাকর বসাক সেই প্রতিনিধি ছাড়া যাচাই সভা পরিচালনা করেছেন। আরও অভিযোগ করা হয় যে, যাচাই-বাছাই কমিটির কয়েকজন সদস্য দিবাকর বসাকের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে প্রভাব খাটাচ্ছেন।
অভিযোগকারী শাহাদত হোসেন খন্দকার জানান, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ করছি। এবারও কম দামে ও গুণগত মান বজায় রেখে দরপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে অন্যায়ভাবে জবাব চাওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়।”

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ রফিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক পত্রে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাককে নির্দেশ দিয়েছেন, কেন তিনি পিপিআর ২০২৫ না মেনে পুরাতন নীতিমালা অনুসারে যাচাই-বাছাই করেছেন এবং ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন তা অবহিত করতে।
পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে —
> “পিপিআর ২০২৫ এর বিধি ১৫৪ ধারা অমান্য ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিললে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সকল দায়ভার আপনাকেই (ডা. দিবাকর বসাক) বহন করতে হবে।”
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে —
সাময়িক বরখাস্ত,
বিভাগীয় তদন্ত,
পদাবনতি বা বদলি,
এবং দুর্নীতির প্রমাণ পেলে দুদক তদন্ত ও ফৌজদারি মামলা।