শ্রীপুরে ভূমিদস্যু উমেদ আলী ও ভাতিজা নাজমুলের রাজত্ব: ‘থানা কেনার’ দম্ভে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর)
অপরাধ ডেস্ক রিপোর্ট :
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমি দখল, সাধারণ মানুষকে নির্যাতন এবং সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত ভূমিদস্যু উমেদ আলী ও তার আপন ভাতিজা নাজমুলের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পরও এই চক্রটি দাপটের সাথে এলাকায় বিচরণ করছে এবং বর্তমান প্রশাসনকেও ‘কিনে ফেলেছে’ বলে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।
ক্ষমতার উৎস ও সম্পদের পাহাড়
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিসুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন উমেদ আলী ও নাজমুল। আনসার রোড এলাকায় তাদের ইশারা ছাড়া গাছের পাতা নড়তো না। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনকে পকেটে ভরে তারা বহু নিরীহ মানুষের জমি দখল করে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এই অল্প সময়েই তারা নামসর্বস্ব থেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ বা কোটিপতিতে পরিণত হয়েছেন।
বিএনপি কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও বর্তমান তৎপরতা
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী শাসনমলে উমেদ-নাজমুল চক্রের ভয়ে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী ঘর থেকে বের হতে পারতেন না। বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের দৌরাত্ম্য থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বজিৎ নামক এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা এখনও বিএনপির সাধারণ কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বর্তমানে শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের যে গোপন মিছিল বা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তার নেপথ্যেও এই চাচা-ভাতিজার অর্থ ও ইশারা কাজ করছে বলে জানা গেছে।
‘থানা কিনে ফেলার’ চাঞ্চল্যকর দাবি
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও এই চক্রটি দম্ভ করে বলছে যে তারা প্রশাসন ও থানাকে ‘টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছে’। স্থানীয়দের তারা প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছে, “পারলে আমাদের অ্যারেস্ট করাও, থানা আমাদের পকেটে।” তাদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনসার রোড এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “উমেদ আলী ও নাজমুল শুধু ভূমিদস্যুই নয়, তারা আস্ত একটা আতঙ্কের নাম। তারা আগের সরকারের সময় আমাদের জমি কেড়ে নিয়েছে, আর এখন টাকা ছিটিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার চাই।”
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো অপরাধী যদি প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীপুরের শান্তিপ্রিয় মানুষ এখন উমেদ আলী ও নাজমুল সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।