“বঞ্চিত সাজেকবাসীর সহযোগীতায় এগিয়ে আসুন!
কলেজ নির্মাণে সহযোগীতায় আপনার ভূমিকার বিকল্প নেই”
এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্হান, শিক্ষা ও চিকিৎসা- এই পাঁচটি মৌলিক অধিকার যেকোনো দেশের সকল নাগরিকের।একজন মানুষের মৌলিক চাহিদাও। যার কোন-একটির কমতি হলে, মানুষ তার জীবন গতিতে অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সভ্য জগতে তার প্রয়োজনীয়তা আরো প্রকট।এক সময় মানুষ শিক্ষা দীক্ষাহীন জীবন-যাপন করতে পারলেও বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর সভ্য জগতে তার কোনটির ঘাতটি হলে অচল।
কাপ্তাই বাঁধ ও চুক্তির আগের পার্বত্য পরিস্হিতির শিকার হয়ে নিজবাস্তুভিটা থেকে উদ্ভাস্তু হয়ে মিজোরাম সীমান্ত ঘেঁষে সাজেকে অবস্হানরত প্রায় ৩৩ হাজার অধিক সাধারণ পাহাড়ি দীর্ঘ যুগ যুগ ধরে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বেশ কিছুর সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
চুক্তির আগে সাজেক নদীর একেবারে মিজোরাম সীমান্ত ঘেঁষে থাকলেও চুক্তির পর তারা অবস্হান নেয় কাচলং ও গঙ্গারাম এলাকায়। নিজবাস্তুভিটায় ফিরে যেতে চাইলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ সেটেলারদের কারণে নিজ বাস্তুভিটায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হয় নি। এই ব্যপারে রাষ্ট্রীয় কোন উদ্যেগ আজ পর্যন্ত নেয়া তো হয় নি, বরং গঙ্গরাম-কাচালং তাদের বর্তমান বাস্তুুভিটা থেকেও তাদেরকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। ২০০৮ সাল, ২০১০ সালে সাজেকে তৎকালীন বাঘাইহাট জোন কমান্ডার মোঃ ইমতিয়াজের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়াটিয়া স্যটেলার বাঙালি এনে সাম্প্রদায়িক ডাঙ্গায় নিহত শহীদ লাডু মুনি, বুদ্ধ পুদি, লক্ষী বিজয় তার স্বাক্ষ্য।
তৎপরবর্তী সাজেক রুইলুই ও কংলাক পর্যটন স্হাপনের মাধ্যমে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয় অধিকতর সংখ্যালুঘু জনজাতির (চাকমা, মারমা, বম, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংকুয়া, সাঁওতাল, খুকি) প্রায় শতাধিক পরিবার।
বায়তুল মোকারমের মত শতকোটি টাকা ব্যয়ের বিনিময়ে নির্মিত করা হয় মুসলিম বিহীন এলাকায় বিলাস-বহুল মসজিদ।
পর্যটনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী এক শ্রেণীর আমলাদের কোটি কোটি টাকার আয় ইনকাম হলেও স্হানীয়রা নূন্যতম শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা থেকেও চিরতরে বঞ্চিত।
প্রতি বছর চিকিৎসার অভাবে অকালে মারা যায় অনেক শিশু-কিশোর-বয়বৃদ্ধ নারী পুরুষ।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অগণিত সম্ভাবনাময় কচি-কাঁচা শিক্ষার্থীরাও।
চুক্তির পরবর্তীতে ইউএনডিপি তত্বাবধানে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার বন্দোবস্তু করণে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্হাপণ করে দেয়া হয়। তন্মধ্যে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। বাকী রয়েছে আরো বেশ কয়টি। তারপরও জনসংখ্যানুপাতে স্কুলের সংখ্যা খুবই নগন্য। অপরদিকে স্হানীয়দের উদ্যেগে সাজেক এলাকায় বেশ কয়টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিস্হাপণ করা হয়েছে।তারমধ্য বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিও করণ হলেও বাকী স্কুলগুলো সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়ায় বহু সমস্যার মুখোমুখী হয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে বছরের পর বছর। দুয়েকটির মধ্যে সম্ভাবনা থাকলেও, অনেকটির মধ্যে সম্ভাবনাহীন পরিস্হিতি বিরাজ করছে।
যেখানে ২২টি সরকারী প্রাথমিক স্কুল, ১০টির অধিক বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০টির অধিক মাধ্যমিক-নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিদ্যামান, ৩৩ হাজার অধিক জনসংখ্যা, দেশের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ থানা। সেখানে জনস্বার্থে নেই কোন একটি হাসপাতাল, নেই একটি কলেজও।
কলেজ না থাকায় মাধ্যমিক-নিম্ন মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে বা উত্তীর্ণ করে প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে।
সরকারী কোন সাড়া না পেয়ে সর্বশেষ ২০২৫ সালে স্হানীয়দের স্ব-উদ্যেগে উচ্চ শিক্ষা সম্প্রসারণে সাজেক কলেজ স্থাপন ও নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। শুরুতে সকল প্রশাসনিক স্তরে অবগত করা হলেও স্থাপনের নির্মাণ কাজ যখন দুই-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হয়, ঠিক সেই সময় সেনাবাহিনীরা বাঁধা প্রদান করে এবং ব্রিটিশ আমলের মৃত বন-আইন দিয়ে কলেজ স্থাপনার নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদানসহ কলেজ স্হাপনা নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক, ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য পরিচয় চাকমা, এগোজ্যাছড়ি মুরুব্বী সুমেন চাকমা ও কানন চাকমা সহ অজ্ঞাত নামা বহুজনের নাম উল্লেখ করে তিনটি মামলাও করা হয়েছে।
এই নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কার্যক্রম ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কোর্ট প্রদত্ত নির্মাণ কাজ স্হগিতাদেশ সাইন বোর্ড।
গতকাল রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ে দু্টি মামলার ১ম শুনানী হলেও আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দ্বিতীয় শুনানীর নোটিশ ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে বিবাদীগণের কাছে। বাকী ফৌজদারী মামলার শুনানী দিন তারিখ এখনো দেয়া হয় নি। ফৌজদারী মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে ইতিমধ্যে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।একই সাথে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীসহ সকল প্রশাসনের ওপর।
দেশী-বিদেশী সকল শ্রেণী পেশার মানুষসহ সকলের কাছে সাজেক কলেজ নির্মাণে সহযোগীতা আশু প্রয়োজন জরুরী হয়েছে। প্রত্যেকে যার যে সামর্থ্য অনুসারে আর্থিক সহযোগীতা সহ সকল প্রকার সহযোগীতায় এগিয়ে আসার আহ্বান করা হচ্ছে।
বিদেশে যারা জুম্মো প্রবাসী রয়েছেন, আপনারা এককালীন অনুদান (ডুনেশন) প্রদান করুন, নিজ মাতৃভূমি স্বজাতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসুন।।
সহযোগীতার জন্য যোগাযোগ করুন- সাজেক কলেজ স্থাপন ও নির্মাণ কমিটির আহব্বায়ক, অতুলাল চাকমা চেয়ারম্যান ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ মোবাইল 01841021900
নগদ/বিকাশ নাম্বার:-01869834406
এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ।