১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ – জনতার কণ্ঠস্বর www.bangladeshprothomsangbad.com
পরকীয়াতে বাঁধা দেওয়ায় গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন, মোবাইলে শুনানো হলো বাবাকে মেয়ের আর্তনাদ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা খাটের পায়ার সাথে বেঁধে বেদম মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের ভয়াবহ আওয়াজ ফোনে শুনানো হয়েছিল ভুক্তভোগীর বাবাকে। পরে পুলিশ গিয়ে অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে।
গৃহবধূর বর্ণনায় নির্যাতনের চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে ২৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারজানা বেগম জানান, প্রায় সাত বছর আগে আব্দুল গনির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দুই সন্তানের জননী ফারজানা বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী যৌতুকের নামে ধাপে ধাপে বাবার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, এমনকি ঘরের সামগ্রী পর্যন্ত নিয়ে গেছে। তারপরও তার চাহিদা থামেনি। বাবার পক্ষে আর চাহিদা মেটানো সম্ভব না হওয়ায় নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন করা হতো।
সম্প্রতি স্বামী পাশের বাড়ির এক বিধবা মামাতো বোনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে আপত্তি জানালে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রায়ই পিটাতো। ঘটনার দিনও আব্দুল গনি ওই নারীর বাড়ি গেলে বাঁধা দেন ফারজানা। এতে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে। রাতে ফের বাড়িতে গিয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভাসুর মিলে দরজা জানলা বন্ধ করে তাকে খাটের সাথে বেঁধে মুখে কাপড় চাপা দিয়ে বেদম নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে বুকের উপর পা চেপে ধরে। নির্যাতনের আর্তনাদ মোবাইল ফোনে শুনানো হয় তার বাবাকে। পরে তিনি জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফেরে হাসপাতালে।
বাবার বক্তব্য ফারজানার বাবা মো. হানিফ জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। শান্তির জন্য অনেক কিছু দিলেও নির্যাতন থামেনি। মেয়েকে মারধর করে তার চিৎকার তাকে ফোনে শোনানো হয়েছে এবং তাকে বাড়িতে না যেতে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরে থানায় অভিযোগ করলে হাতিয়া থানা থেকে এসআই প্রতিক পাল রাত ১০টার দিকে মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া সূর্যমুখী মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন জানান, আব্দুল গনির সঙ্গে স্ত্রী ফারজানার পারিবারিক কলহ বহুদিন থেকে চলছিল। শনিবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটেছে। রাত বেশি হওয়ায় স্থানীয়রা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। পরে পুলিশ এসে ফারজানাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেছে। স্বামী আব্দুল গনি মাছ শিকারে সাগরে গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
পুলিশের মন্তব্য হাতিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রতিক পাল বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। এখনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান অবস্থা ফারজানা বেগম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পিতা-মাতা চিকিৎসার দিকে ব্যস্ত রয়েছেন। নির্যাতনের অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক www.bangladeshprothomsangbad.com