নির্মাণ শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে উল্টো মামলা: ভবন মালিক কোহিনূরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশে নির্মাণ খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনা আবারো আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন (বি-২২০৫) এর সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ন্যায্য পাওনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে রাজধানীর এক ভবন মালিক ডাক্তার কোহিনূরের বিরুদ্ধে।
ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ শেষ করার পর শ্রমিকদের পাওনা মেটাতে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু মালিক কোহিনূর টাকা না দিয়ে উল্টো সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে হুমকি দেন যে, তিনি তাদের নামে মামলা করবেন। পরবর্তীতে তিনি থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন।
পাওনার হিসাব নির্ধারণের জন্য থানার পক্ষ থেকে ভবনের ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে পরিমাপের সময় নির্ধারণ করা হলেও, কোহিনূর নিজেই সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত করেন। পরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তার ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে সঠিক পরিমাপ করে পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।
এই সময়ে দেলোয়ার ও অন্যান্য শ্রমিকরা নানা ধরনের পুলিশি হয়রানির শিকার হন। পাওনা না পেয়ে ও অবিচারের কারণে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য অভিযোগ
ভবন মালিক ডাক্তার কোহিনূরের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে, তাতে বেশ কিছু আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে—
1. শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলা
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এর জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ড উভয়ই হতে পারে।
2. প্রতারণা মামলা
কাজ করিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা না দেওয়া এবং উল্টো ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রতারণার শামিল।
3. হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ
সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে মামলা করার হুমকি দেওয়া এবং পুলিশের মাধ্যমে হয়রানি করানো—এটি ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
4. চুক্তি ভঙ্গ মামলা
শ্রমিকদের সাথে মৌখিক বা লিখিত যে চুক্তি হয়েছে, তা ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা সম্ভব।
সম্ভাব্য সাজা ও শাস্তি
যদি আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে—
শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা সহ সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রতারণার জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
হুমকির জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
চুক্তি ভঙ্গের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের আদেশ আসতে পারে।
একজন শ্রমিক তার ঘামঝরা পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে অবদান রাখেন। অথচ ন্যায্য পাওনা না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হওয়া কেবল শ্রমিকের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য অপমানজনক। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসাথে, ভবন মালিক কোহিনূরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এই ধরণের ঘটনাকে উৎসাহিত করা হবে।