৯জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
নাবালিকার বিবাহে বাধা দিলে নীলফামারী লক্ষীচাপ ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সাংবাদিক লান্চিত ও ক্যামেরা চিন্তাই
আব্দুস সালাম,নীলফামারীঃ নীলফামারীতে নাবালিকার বিবাহ ঠেকাতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ই জুলাই) রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষিচাপ ইউনিয়ন পরিষদের, ২ নং ওয়ার্ডের জঙ্গলী পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ জুলাই জঙ্গলী পাড়ার হরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে নিপেন্দ্র নাথ রায়ের বিয়ের আশীর্বাদ অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সময়ে হঠাৎ করে পার্শ্ববর্তী গ্রামের একটি নাবালিকা মেয়ে এসে উপস্থিত হয় প্রেমিকার দাবিতে। মেয়ে পক্ষ ঘটনাটি জানতে পেয়ে, ছেলের বাড়িতে মেয়েটিকে রেখে চলে যায়।
এরপর তিনদিন ধরে ছেলের পার্শবর্তী পরের বাড়িতে মেয়েটি থাকলে, সেখান থেকে সাংবাদিকদের খবর দিলে নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালি শাহ্, গ্লোবাল টিভির সাংবাদিক সোহেল রানা, স্বদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক নুরল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা সেখানে গিয়ে সরেজমিনে জানতে পারেন, ছেলের সাথে মেয়ের কোন সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র মোবাইলে একটি ম্যাসেজ করার কারণে একটি পক্ষ ঐ মেয়েটিকে ছেলের বাড়িতে রাখার চেষ্টা করে, পরবর্তীতে পাশের বাড়িতে রেখে চলে যায়।
মেয়েটিকে পাশের বাড়ির ঐ বাড়িওয়ালা রাখতে না চাইলে সাংবাদিক স্বপ্না আকতার স্বর্ণালি শাহ্ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে অবগত করান এবং সদর পুলিশকে ঘটনাটি জানান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলে সাংবাদিক স্বপ্না একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানকে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলার পর স্থানীয় মেম্বার জগদিশ চন্দ্রের বাড়িতে মেয়েটিকে রাখার জন্য নিয়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানেই উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান সাংবাদিক স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালি শাহকে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকতার পেশার ওপর হুমকি-ধামকি দেন।
এসময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে সন্ত্রাসীবাহিনী নীরেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র শ্যামল রায় গ্লোবাল টিভির সাংবাদিক সোহেল রানার হাতে থাকা ডিজিটাল ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ও স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালি শাহের গলায় পরা সোনার চেইন হাতিয়ে নেন এবং ওরনা দিয়ে গলা চেপে ধরেন। এই ঘটনা নীলফামারীতে প্রকাশ হলে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম কালু, সাংবাদিকের মা জেলা মহিলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসরীন আক্তার, জেলা এনপিসির সমন্বয়ক আক্তারুজ্জামান খান সহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কয়েকজন সাংবাদিক দ্রূত ঘটনাস্থল গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এই ঘটনার বিষয়ে লক্ষীচাপ ইউনিয়নের অত্র এলাকার বাসিন্দারা বলেন, “এখানে যারাই একটু পয়সা কড়ির মালিক হন, তাদেরকে এইরকম হয়রানি করে এই চক্র পয়সা-কড়ি হাতিয়ে নেয়। বিভাগীয় তদন্ত হলে এই সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এরপর গতকাল স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালির স্বামী গ্লোবাল টিভির জেলা প্রতিনিধি সোহেল রানা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এম.আর সাঈদ স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”