জোর যার মুল্লুক তার: দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রত্নগর্ভা মায়ের জমি দখলের চেষ্টা, বুড়িচংয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫, শনিবার
বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
“জোর যার, মুল্লুক তার”— এই অপসংস্কৃতির জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি পশ্চিমপাড়া। এলাকার এক রত্নগর্ভা মা মোসাম্মৎ ফুল বানু তাঁর স্বামীর ক্রয়কৃত জমি দখলের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হাতে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও তাঁর অনুসারীরা।
গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ফুল বানুর স্বামী নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন জমিতে প্রতিপক্ষ সশস্ত্র অবস্থায় অনধিকার প্রবেশ করে প্রাচীরের পিলার ও বেড়া ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে ফুল বানু ও তাঁর পরিবারকে ভয়াবহ হামলার হুমকি দেয় তারা। ফুল বানুর চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে হামলা এড়ানো সম্ভব হলেও, সবার সামনেই তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের দিকে। ফুল বানুর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে এবং প্রতিপক্ষ আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের পথেও নেমেছে।
২৯ জুলাই বুড়িচং থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে ফুল বানু সিরাজুল ইসলামকে প্রধান আসামি এবং আরও ১৯ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হারুনুর রশিদ, বাবুল মিয়া, মোখলেছুর রহমান, রাসেল, নান্টু মিয়া, ইব্রাহিম হোসেন, ইমান হোসেন, ফারুক আহম্মেদ, মিজান, সোহেল, অমিত হাসান, বাবুল (২য়), মনির হোসেন (গাজীপুর), শরীফ, জামসেদ, কাজী বাশার, মাসুদ, সুমন ও হুমায়ুন।
অভিযোগ সম্পর্কে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি ১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি ছিলাম। আমি কোনো প্রভাব খাটাইনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বুড়িচং থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাকিব জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ফুল বানু ও তাঁর পরিবার প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এক গভীর বাস্তবতাকে তুলে ধরে—গ্রামবাংলায় দলীয় পরিচয়ের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরা দিনের পর দিন গরিব, অসহায় মানুষদের জমি দখল, হুমকি-ধমকি ও হয়রানির চক্রে ফেলে দিচ্ছে। এ চক্র বন্ধে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় “জোর যার, মুল্লুক তার” — এই অপদর্শনই গ্রামীণ সমাজের নিয়তি হয়ে উঠবে।