নিজেস্ব প্রতিবেদক
৮ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রাম বিপ্লব উদ্যানে কোটি টাকার মেলা বানিজ্য: জনস্বার্থে জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
চট্টগ্রাম মহানগরের সবুজ শোভিত বিপ্লব উদ্যানে ‘জুলাই বিজয় মেলা’র নামে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্যের এক বিশাল অন্যায় ও অবৈধ কার্যক্রম। সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে পার্কের কেন্দ্রে একটি বিশাল লোহার ডিস্ক স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি চলছে মেরি-গো-রাউন্ড, রোলার কোস্টারসহ বিভিন্ন বিনোদন রাইড ও ১২০টির মতো অস্থায়ী দোকান স্থাপনের কাজ।
‘ছাত্রসমাজ চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে ১৫ দিনের এই মেলার প্রধান উদ্যোক্তা নগর যুবদল নেতা আলিফ উদ্দিন ও তার অনুসারীরা। মেলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি সত্ত্বেও মেলা পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাজিদ, সাহাব উদ্দিন, রায়হান, কথিত যুবদল নেতা সুজনসহ কয়েকজন।
দোকান-ষ্টল বরাদ্দের খরচ নিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি দোকান থেকে দৈনিক ৫ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মেলার ১৫ দিনের মেয়াদে একেক দোকান থেকে মোট ৭৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই বিশাল বাণিজ্যের পেছনে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা পড়ছে মাত্র ২ লাখ টাকা। যা স্পষ্ট করে দেয় এখানে চলছে ভয়াবহ রাজস্ব ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়ম।
তথ্যসূত্র মতে, মাজিদের পরিচয় প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। কখনো সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে পাপনের বন্ধু, আবার কখনো জেলা প্রশাসকের আত্মীয় ও কখনো পুলিশ কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে পারমিশন সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এমন অসংগতি ও প্রতারণার ছত্রছায়ায় পার্কের মতো জনসাধারণের সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা পার্কে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত কঠোর সমালোচনা করেছেন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ রশিদুল হাসান বলেন, “বেশ কয়েক বছর আগে পার্কে অবৈধ কংক্রিট কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল যা নগরবাসীর সবুজ স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নতুন মেয়র আসার পর আশা করা হয়েছিল সেগুলো অপসারণ হবে, কিন্তু তা হয়নি। এখন আবার এ ধরনের মেলা জনস্বার্থের পরিপন্থী।”
এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, সরকার কতটুকু রাজস্ব আদায় করছে? রাজস্ব আদায়ে রিসিভ প্রদর্শনে মেলা কমিটির উদাসীনতা কি স্বচ্ছতার অভাবের পরিচায়ক? এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও পার্কের অপব্যবহার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।
সরকারি সম্পদ ও জনস্বার্থ রক্ষায় মেলা বন্ধ করে পার্কের সবুজ রক্ষা করা না হলে চট্টগ্রামের প্রাণশক্তি বিপন্ন হবে। কোটি টাকার বাণিজ্যের আড়ালে চলমান এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করাই সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।