খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন-বিরোধ: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল — অভিযোগ: উপজাতীয় উগ্রপন্থী দ্বারা সরকারি খাস জমি দখল
রিপোর্টার: নিজের প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৩:০০
শ্রেণি: রাজনীতি ও নিরাপত্তা
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের স্টুডেন্টস ইউনিটের উদ্যোগে রাজার ভাস্কর্য থেকে শাহবাগ পর্যন্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল — কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি: বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আজ (২৮ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের স্টুডেন্টস ইউনিটের আহ্বানে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকায় বোঝাপড়া ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তীব্র প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রজ্জু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শাহবাগে শেষ হওয়া মিছিলে বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লেঃ কর্নেল ফরিদুল আকবর ও সঞ্চালনা করেন মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। জেলা ও কেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সার্বজনীন সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়িতে সরকারি (খাস) জমি এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী উদ্দেশ্যে দখল করে রাখা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—দখলকৃত এলাকাগুলোতে অস্ত্র সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র মহড়া চলছে এবং এগুলো ইউপিডিএফের কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি সেখানে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের প্রচেষ্টা চলাকালে উগ্রপন্থীরা বাধা প্রদান করেছে; রাস্তা অবরোধ, গাছ কাটা, এবং ধর্মীয় চেতনায় জনসমাগম সৃষ্টি করে সেনাবাহিনীর কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে—এমন কথাই বক্তারা জানিয়েছেন।
বক্তারা আবেদন করেছেন—দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করে সন্ত্রাস-উগ্রপন্থী কার্যক্রম রুখতে হবে; দখল হওয়া রাষ্ট্রীয় জমি ও সংরক্ষিত বন ফিরে পেতে জরুরি উচ্ছেদ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক (সীমান্ত সড়ক, কাঁটাতার বেড়া, ড্রোন নজরদারি ইত্যাদি)। বক্তারা আরও দাবি করেন—পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি ‘মাউন্টেইন ডিভিশন’ গঠনের সুপারিশ করা হোক।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম (বৈশিষ্ট্যসূচক)
বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন, লেঃ কর্নেল ফরিদুল আকবর (অব.), মোঃ মোস্তফা আল ইহযায, অধ্যাপক ড. আবু মূসা, মোঃ আরিফ বিল্লাহ (ভিজিটিং প্রফেসর, জংজু নরমাল ইউনিভার্সিটি, চীন), মিজানুর রহমান চৌধুরী (লাভ বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান), ড. হেলাল উদ্দিন (ডিএমসি দক্ষিণের নায়েবে আমীর), আবু সালেহ আকন, এড. তাছমিম রানা (সাবেক সাংসদ, বিএনপি), বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রোকনউদৌলা (অব.), ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, মুফতী শহীদুল ইসলাম, লেঃ কর্নেল আসাদ উদ্দিন (অব.), লেঃ কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব.), মেজর মাসুদ (অব.), মেজর শাহিন আলম (অব.), মেজর মিজানুর রহমান (অব.) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ গণমানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ-প্রমাণ ও ঘটনার ধারাবিবরণ
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উগ্রপন্থী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে অস্ত্রের গুদাম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঘাঁটি নির্মাণ করেছে।
২৪ অক্টোবর সেনা ক্যাম্প নির্মাণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করার প্রচেষ্টার সময় এলাকাবাসী রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে এবং রাতে নির্ধারিত ভবিষ্যৎ ক্যাম্প স্থাপনের জায়গায় ধর্মীয় মূর্তি স্থাপন করা হয়—পরে তা নিয়ে সঙ্ঘাত ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, উগ্রপন্থীরা স্থানীয় নিরীহ নারী ও শিশুদের সামনে আনিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে বিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করেছে।
দাবিসমূহ
অনতিবিলম্বে বর্মাছড়ি এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম লঘু করা।
দখলকৃত সকল রাষ্ট্রীয় খাস জমি ও সংরক্ষিত বন উদ্ধার করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা।
দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা (গ্রেফতার, তদন্ত, বিচার) গ্রহণ।
পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ‘মাউন্টেইন ডিভিশন’ বা সমমানের বিশেষ ব্যবস্থা গঠন।
সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, কাঁটাতার বেড়া ও ড্রোন নজরদারি চালু করে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে—ধর্মকে হাতিয়ার করে অপপ্রচার প্রতিরোধ করা হবে।
প্রাসঙ্গিক আইনগত ও প্রশাসনিক প্রতিকার — শাস্তি/আইনি ব্যবস্থা (প্রস্তাবিত)
নোট: নিচের শাস্তি/ব্যবস্থা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা-স্বরূপ প্রস্তাবিত। কোনো ধরনের অতর্কিত বা বহিরাবিচারের আহ্বান করা হচ্ছে না; সমস্ত ব্যবস্থা পরিচালিত হবে বিচারসম্মত ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী।
১) অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র কার্যকলাপ
যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার, অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র কার্যকলাপের নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে—তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দণ্ডবিধির উপযুক্ত ধারায় মামলা করে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
প্রমাণিত হলে সাজা হিসেবে কারাদণ্ড, জরিমানা ও সম্পত্তি জব্দ সহ কঠোর শাস্তি দাবি করা হবে (আইন অনুযায়ী)।
২) সরকারি খাস জমি ও সংরক্ষিত বনাংশ দখলের অপরাধ
বন সংরক্ষণ আইন, ভূমি দখলবিরোধী বিধান ও প্রশাসনিক আদেশ মোতাবেক উচ্ছেদ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত শাস্তি কার্যকর করা হবে।
অবৈধ বন্দোবস্ত/হস্তান্তর বাতিল ঘোষণা করে জমি পুনরুদ্ধার ও সরকারি তালিকায় ফেরত নেয়া হবে; দখল করা স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হবে।
৩) উস্কানিমূলক আচরণ ও সশস্ত্র গ্রুপ গঠন
সুস্পষ্ট দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার চেষ্টা থাকলে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী ধারায় মামলা, তদন্ত ও দণ্ডপ্রাপ্তির ব্যবস্থা।
পরিচালিত হলে অপ্রতুল প্রমাণ ছাড়া সাধারণ বেঁচে-মর্যাদা রক্ষা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪) জবরদস্তি, জন-অবরোধ ও দলে দলে সহিংসতা
রাস্তাঘাটে অবরোধ বা কীবলু চাহিদা আদায়ে যাদের দ্বারা সহিংসতা হয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা এবং উপযুক্ত শাস্তি দাবি করা হবে (গ্রেফতার, চলমান মামলা)।
৫) প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রতিকার
অভিযুক্তদের ব্যাপারে প্রশাসনিক জিজ্ঞাসাবাদ, স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে—তদন্তে যে কোন প্রয়োজনে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট/জেলাপ্রশাসন/বিসিজি অংশগ্রহণ করবে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া; ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাত প্রশমন ও ঐক্য ফেরাতে আন্তঃসম্প্রদায়িক সংলাপ আয়োজন।
জেলা ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ
দ্রুত, সাবধানে ও আইনগতভাবে তদন্ত পরিচালনা করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের যে কোন কারণভিত্তিক অভিযোগ শোনা ও সমাধান করার জন্য নিয়মিত জনসংযোগ ও উন্নয়ন কাজ কার্যকর করা প্রয়োজন।
পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও সীমান্ত সুরক্ষার সমন্বিত কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে যাতে সন্ত্রাসী প্রভাব নষ্ট হয়।
শেষ কথা
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তারা একটি কড়া হুশিয়ারি দেন—যদি কর্তৃপক্ষ সময়ভিত্তিক ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেন, তাহলে দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। তারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন—পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বভৌমত্ব, আইন-শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
রিপোর্ট প্রস্তুত ও সংগৃহীত: নিজের প্রতিনিধি
রিপোর্ট সম্পাদনা: সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ (স্টুডেন্টস ইউনিট) দ্বারা প্রদত্ত বিবৃতি ও উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের সংকলন।