প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৫
📰 Daily Bangladesh Prothom Sangbad
রেললাইনে টাকলা মুরাদ: অপপ্রচারের ডাক্তার, নৈতিকতার পলায়ন – এক দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিকের মুখোশ উন্মোচন
এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল ডাক্তার, আজ ঘৃণার প্রতীক
ড. মুরাদ হাসান—প্রাথমিকভাবে একজন ডাক্তার, পরে প্রতিমন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি পরিচিত “টাকলা মুরাদ” নামে—যিনি নৈতিকতাহীন রাজনীতি, নারীবিদ্বেষ, মিথ্যাচার এবং দম্ভের প্রতিচ্ছবি।
এই প্রতিবেদন তাঁর নৈতিক ও রাজনৈতিক পতনের এক খণ্ডচিত্র, যেখানে ভেসে উঠেছে—
অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সঙ্গে অশালীন কথোপকথন ফাঁস,
তারেক রহমান এবং তাঁর কন্যা জয়মা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য,
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার,
জনগণের টাকায় বিলাসিতা,
এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কথাবার্তা।
মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপ: নারীবিদ্বেষের নগ্নতা
২০২১ সালে একটি অডিও ফাঁস হয় যেখানে ড. মুরাদ, জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে ফোনে শারীরিক হুমকি এবং অশ্লীল প্রস্তাব দেন।
তোমার সঙ্গে কী করব, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না❞— এমন ভাষা ব্যবহার করেন তিনি।
এই ঘটনায় দেশের নারী সমাজ এবং সচেতন নাগরিকরা ফুঁসে ওঠে। এক নারীবিদ্বেষী, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি কীভাবে নারীদের প্রতি এমন আচরণ করতে পারেন—সেটি জাতির সামনে এক ভয়াবহ বার্তা দেয়।
তারেক রহমানকে ঘিরে অপপ্রচার: রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার স্বাক্ষর
ড. মুরাদ বারবার বিভিন্ন টকশো, ফেসবুক লাইভ, এমনকি চায়ের আড্ডায় পর্যন্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করে গেছেন। কখনো বলেছেন—
❝তারেক লন্ডনের শুয়োর❞ ❝ওরা বাংলাদেশ ধ্বংস করেছে❞
তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তারেক রহমানকে মাদকাসক্ত, অর্থ পাচারকারী, এমনকি ‘অবৈধ সন্তান’ বলেও আখ্যায়িত করেন। অথচ এসবই ছিল রাজনৈতিক চরিত্রহননের কৌশল—যার পেছনে ছিল নিজস্ব ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা।
জয়মা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা: সীমাহীন অমানবিকতা
একজন কিশোরী, একজন নারী, একজন সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রাজনীতিককে উদ্দেশ করে যে নোংরা ভাষায় তিনি কথা বলেছেন—তা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।
❝ও তো কুত্তার বাচ্চা❞— এমন অবমাননাকর উক্তি করে তিনি পুরো দেশের নারীবাদী আন্দোলনের তোপের মুখে পড়েন।
বলা চলে, তাঁর এই বক্তব্য নারীর মর্যাদার বিরুদ্ধে ছিল এক প্রতিক্রিয়া-সৃষ্টিকারী আগুন।
💰 দুর্নীতির রেলপথে ‘টাকলা মুরাদ’
প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময় তিনি সরকারি অর্থে বিলাসবহুল গাড়ি, বিদেশ সফর, এবং নিজের এলাকা জামালপুরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নিজের নামেই প্রকল্প চালু করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুরাদের নামে ৫৭টি “স্মৃতি ফলক” বসানো হয়েছিল, যার বেশিরভাগ ছিল নিজের অর্থে নয়, জনগণের করের টাকায়।
এর বাইরেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে—
সরকারি মেডিকেল চাঁদা বাণিজ্য,
প্রশিক্ষণ বরাদ্দ আত্মসাৎ,
স্থানীয় নেতাদের দিয়ে জোর করে প্রজেক্ট ভাগ।
মনস্তাত্ত্বিক ভ্রম ও ক্ষমতার দম্ভ
অনেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন, মুরাদের আচরণ ছিল “power intoxication”—অর্থাৎ ক্ষমতার মদে মাতাল। নিজের সীমা এবং দায়িত্ব ভুলে তিনি ভেবেছিলেন, সবকিছু পার পেয়ে যাবেন।
কিন্তু জনগণের বিবেক তাঁর মসৃণ রেললাইনে এক ট্রেন-দুর্ঘটনার মতোই থেমে দিয়েছে তাঁর ক্যারিয়ার।
সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য
🔹 সাবেক বিচারপতি নুরুল হুদা বলেন:
“এমন মানুষ রাষ্ট্র চালাতে পারে না। ওর মতন লোক রাজনীতির কলঙ্ক।”
🔹 নারী অধিকারকর্মী রাশেদা সুলতানা বলেন:
“একজন নারীর সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলেছে, তাতে ওর চিকিৎসা দরকার, মন্ত্রিত্ব নয়।”
🔹 একজন শিক্ষার্থী বলেন:
“আমরা এমন নেতা চাই না, যিনি মেয়েদের ভয় দেখান, না যে জনগণের টাকায় নিজের নাম জাহির করেন।”
দল থেকে বহিষ্কার, তবুও প্রচার থামেনি
দলের চাপেই তিনি পদত্যাগ করেন। পরে দল থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউব লাইভে তিনি গালাগালি চালিয়ে যান। নিজের অপমানজনক খ্যাতি নিয়ে কৌতুক বানিয়ে নিজের ‘টাকলা’ পরিচয় দিয়েও হীনমন্যতা লুকাতে পারেননি।
উপসংহার: ইতিহাস টিকিয়ে রাখে, ক্ষমা করে না
ড. মুরাদ হাসান একজন ব্যর্থ চিকিৎসক, ব্যর্থ রাজনীতিক, এবং একজন নৈতিকভাবে দেউলিয়া মানুষ—যাঁর পতন ছিল অবধারিত। তাঁর কর্মকাণ্ড জাতির জন্য এক শিক্ষা: ক্ষমতা পেলে মানুষ কীভাবে নিজেই নিজের পতনের দড়ি বোনে।
✍️ Nazmul Hassan সত্যের পক্ষে, বাংলাদেশের সাথে।