• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, আইন মেনে তালাকের পর সাবেক স্ত্রীর হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা: বৃদ্ধ মায়ের জীবন শঙ্কায়, আতঙ্কে পুরো পরিবার বন্দর এলাকা, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সীমান্তপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলে প্রশংসায় ভাসছেন বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মো. রাশেদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’-এর তাণ্ডব: অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা

Reporter Name / ৩৯৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

 


উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’-এর তাণ্ডব: অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা

বিশেষ প্রতিনিধি:

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘হালিম গ্রুপ’ নামের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৭ এবং বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্ট—এই তিনটি অঞ্চলে একাধিক অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য এবং নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এপিবিএনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্যাম্পগুলোতে এই গ্রুপের লাগাতার তৎপরতা ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার পরও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে বাহিনী প্রধান আব্দুল হালিম ও তার সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‘আরসা’ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়া বাহিনী

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন ‘আরসা’ থেকে বের হয়ে আব্দুল হালিম নিজের নামে ‘হালিম গ্রুপ’ গঠন করেন। মূলত তিনি আরসার সাবেক ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন। তার প্রকৃত নাম কেফাউত উল্লাহ, পিতা বাদশা মিয়া, মিয়ানমারের মংডুর নাফ্ফুরা পাড়ার বাসিন্দা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২১ সালে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে। এরপরই আরসার অভ্যন্তরীণ ভাঙনের মধ্য দিয়ে হালিম নিজের অনুসারীদের নিয়ে গঠন করেন স্বাধীন ‘হালিম গ্রুপ’।

অত্যাচারের নতুন মাত্রা: অপহরণ, ধর্ষণ ও মুক্তিপণ

ক্যাম্পজুড়ে এই বাহিনীর দাপট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন—দিবালোকেও এখন নিরাপদ মনে হয় না। গ্রুপটির সদস্যরা প্রকাশ্যে বাড়িঘরে ঢুকে লুটপাট, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং পুরুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবিতে নির্যাতন করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এমনকি হালিম গ্রুপের ভয়ে কেউ সিআইসি বা এপিবিএনের কাছে অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, “মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অত্যাচার দেখেছি, কিন্তু হালিম বাহিনীর নির্মমতা যেন সেটাকেও হার মানায়।”

সেকেন্ড ইন কমান্ড টুপি নুর ও মাদকের সাম্রাজ্য

হালিম গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছে আইয়ুব নুর ওরফে টুপি নুর। তার নেতৃত্বেই চলছে ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ। ক্যাম্পজুড়ে মাদক পরিবহন ও বিক্রয়ের জন্য রয়েছে পৃথক বাহিনী ও নেটওয়ার্ক।

সন্ত্রাসে নেতৃত্ব দিচ্ছে আরও কয়েকজন কমান্ডার

বর্তমানে ক্যাম্পে হালিম বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আমির রফিক
  • ফজল কবির ওরফে আবু আনাস
  • মৌলভী শোহাব ওরফে হাফেজ হামিদ হোসেন
  • নুরুল বশর
  • হাফেজ সাইফুল
  • রাহামত উল্লাহ

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য

১৪ এপিবিএন সূত্র জানায়, হালিম গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে মাস্টার মুহিব উল্লাহ, মুফতি আব্দুল্লাহ, হাফেজ শফিক, মুফতি হাসিমসহ অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকাণ্ড।

এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সিরাজ আমিন সাংবাদিকদের জানান, “কোনো গ্রুপ ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

স্থানীয় উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসাইন বলেন, “কয়েক মাস শান্ত থাকার পর আবার নতুন করে ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসীদের সক্রিয়তা বেড়ে গেছে। এতে শুধু রোহিঙ্গাই নয়, স্থানীয়রাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

শে্‌ষ কথা

একদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা আর অন্যদিকে ক্যাম্পজুড়ে চলা সন্ত্রাস, মাদক, নারী নির্যাতন—এই দ্বৈত বাস্তবতায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প যেন ক্রমেই এক ঘূর্ণিঝড়পীড়িত মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন—এই দমনহীন ‘হালিম গ্রুপ’কে রুখতে রাষ্ট্র কতটা সক্রিয় হবে?


More News Of This Category
bdit.com.bd