• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
যশোর কেশবপুর থানার নবাগত ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজের দায়িত্ব গ্রহণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করার প্রত্যয় নিষিদ্ধ আ. লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ সহকারী শিক্ষক খালেদুজ্জামান ও ইউপি সদস্য আসাদুলের ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশ। জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটান ও মালদ্বীপের শীর্ষ নেতাদের পৃথক বৈঠক বাংলাদেশ-ভুটান ও বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্ব; পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে মতবিনিময় বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও জোরদারে আলোচনা; অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয় যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব  নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে কৃষকদল ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ পলাশবাড়ীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা ও হুমকির শিকার একটি পরিবার সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামান ও ইউপি সদস্য আসাদুলের সঙ্গে পূর্ববিরোধকে ঘিরে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার প্রধান শিক্ষক শার্শায় চলমান বিশেষ অভিযানে নাশকতা মামলার তদন্তে পাওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ পঞ্চগড়ে একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর—দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন,

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’-এর তাণ্ডব: অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা

Reporter Name / ৪১৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

 


উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’-এর তাণ্ডব: অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা

বিশেষ প্রতিনিধি:

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘হালিম গ্রুপ’ নামের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৭ এবং বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্ট—এই তিনটি অঞ্চলে একাধিক অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য এবং নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এপিবিএনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্যাম্পগুলোতে এই গ্রুপের লাগাতার তৎপরতা ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার পরও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে বাহিনী প্রধান আব্দুল হালিম ও তার সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‘আরসা’ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়া বাহিনী

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন ‘আরসা’ থেকে বের হয়ে আব্দুল হালিম নিজের নামে ‘হালিম গ্রুপ’ গঠন করেন। মূলত তিনি আরসার সাবেক ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন। তার প্রকৃত নাম কেফাউত উল্লাহ, পিতা বাদশা মিয়া, মিয়ানমারের মংডুর নাফ্ফুরা পাড়ার বাসিন্দা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২১ সালে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে। এরপরই আরসার অভ্যন্তরীণ ভাঙনের মধ্য দিয়ে হালিম নিজের অনুসারীদের নিয়ে গঠন করেন স্বাধীন ‘হালিম গ্রুপ’।

অত্যাচারের নতুন মাত্রা: অপহরণ, ধর্ষণ ও মুক্তিপণ

ক্যাম্পজুড়ে এই বাহিনীর দাপট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন—দিবালোকেও এখন নিরাপদ মনে হয় না। গ্রুপটির সদস্যরা প্রকাশ্যে বাড়িঘরে ঢুকে লুটপাট, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং পুরুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবিতে নির্যাতন করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এমনকি হালিম গ্রুপের ভয়ে কেউ সিআইসি বা এপিবিএনের কাছে অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, “মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অত্যাচার দেখেছি, কিন্তু হালিম বাহিনীর নির্মমতা যেন সেটাকেও হার মানায়।”

সেকেন্ড ইন কমান্ড টুপি নুর ও মাদকের সাম্রাজ্য

হালিম গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছে আইয়ুব নুর ওরফে টুপি নুর। তার নেতৃত্বেই চলছে ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ। ক্যাম্পজুড়ে মাদক পরিবহন ও বিক্রয়ের জন্য রয়েছে পৃথক বাহিনী ও নেটওয়ার্ক।

সন্ত্রাসে নেতৃত্ব দিচ্ছে আরও কয়েকজন কমান্ডার

বর্তমানে ক্যাম্পে হালিম বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আমির রফিক
  • ফজল কবির ওরফে আবু আনাস
  • মৌলভী শোহাব ওরফে হাফেজ হামিদ হোসেন
  • নুরুল বশর
  • হাফেজ সাইফুল
  • রাহামত উল্লাহ

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য

১৪ এপিবিএন সূত্র জানায়, হালিম গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে মাস্টার মুহিব উল্লাহ, মুফতি আব্দুল্লাহ, হাফেজ শফিক, মুফতি হাসিমসহ অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকাণ্ড।

এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সিরাজ আমিন সাংবাদিকদের জানান, “কোনো গ্রুপ ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

স্থানীয় উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসাইন বলেন, “কয়েক মাস শান্ত থাকার পর আবার নতুন করে ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসীদের সক্রিয়তা বেড়ে গেছে। এতে শুধু রোহিঙ্গাই নয়, স্থানীয়রাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

শে্‌ষ কথা

একদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা আর অন্যদিকে ক্যাম্পজুড়ে চলা সন্ত্রাস, মাদক, নারী নির্যাতন—এই দ্বৈত বাস্তবতায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প যেন ক্রমেই এক ঘূর্ণিঝড়পীড়িত মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন—এই দমনহীন ‘হালিম গ্রুপ’কে রুখতে রাষ্ট্র কতটা সক্রিয় হবে?


More News Of This Category
bdit.com.bd