২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১১:০৪ — জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ, জনতার কণ্ঠস্বর
আনোয়ারায় সম্পত্তি জবরদখল ও মিথ্যা কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে শেলী আকতারের সংবাদ সম্মেলন — দৃষ্টি আকর্ষণ, তদন্ত ও দায়েরকৃত মামলার কার্যকর অনুসরণ দাবি
চট্টগ্রাম বিভাগ প্রধান :
চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানা এলাকার হাইলধর ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেলী আকতার (৩৭) শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে, বংশগত মৌরশী সম্পত্তি জোরপূর্বক জবরদখল করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও হামলার হুমকি দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে আবদুল খালেক (জন্ম: ০৫/০৭/১৯৮০; জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ১৯৮০১৫১০৪৭৬০০৮৯৪৫) ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেলী আকতার জানিয়েছেন — তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মৌরশী নামক জমির মালিক। উক্ত জমির কাগজপত্র অনুসারে কবলা নং ৫০৫৭ (তারিখ: ১০/১২/১৯৬৯ ইং) ও বি.এস ১৭৪ নং খতিয়ান, দাগ নং ২৪৭৯; এছাড়া আর.এস ২২০ নং খতিয়ান, দাগ নং ১৮৮০ — এই সমস্ত রেকর্ডে ভূমি তাদের পূর্বপুরুষের নামে তালিকাভুক্ত আছে। অভিযোগের সারমর্মে বলা হয়েছে, নজির আহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি এবং তাঁর ওয়ারিশদের অংশীদারিত্বে থাকা জমি ছিল; পরে পরিচিত প্রতারক চক্র গতবৎসরে ভুয়া দলিল, জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহার করে এ জমি অনধিকৃতভাবে দখল করে নেয় এবং বর্তমানে ভূমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
শেলী আকতার সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন যে — বিশেষত কাগজপত্র নং ৩৮৭৫ (তারিখ: ২৩/১০/১৯৭৮) একটি ভুয়া দলিল। উল্লেখ্য, উক্ত দলিলটি আবদুল খালেকের দেওয়ানি জন্মতারিখ থেকে তিন বছর পূর্বের; ফলে দলিলটির সময়সীমা এবং প্রাসঙ্গিকতা স্বভাবতই প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া ৩০/০৬/১৯৭৬ তারিখে ২৮৮৯ নং কবলায় ভাণ্ডা জায়গার বর্ণনা করে আরও একটি দলিল তৈরি করা হয় (তারিখ: ১৮/১২/২০১৭), যেখানে কাগজে ৩ গন্ডা উল্লেখ থাকলেও দলিল যাচাই-বিচারে দেখা যায় ঐ জায়গায় সাড়ে ৫ গন্ডা বা ১১ শতক পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়েছে — এ ঘটনাও জালিয়াতির সন্দেহ জাগায়। অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে নজির আহাম্মদের ওয়ারিশরা পর্যায়ক্রমে বহু জাল দলিল তৈরী করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং একই সময়ে শেলী আকতারের নামে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি চালাচ্ছে; তাঁকে ধমক, হামলার হুমকি এবং মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
শেলী আকতার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন — উল্লিখিত জাল দলিল, মিথ্যা সাক্ষী ও প্রশাসনিক ঘাটতি অনুসন্ধান করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেই বিচারের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বলেন— এই ধরনের কাগজপত্র ও জায়গার অসৎ দখলের ঘটনায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আন্দোলনী ও ফৌজদারি কার্যক্রম চালাতে হবে যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
আইনগত পর্যবেক্ষণ:
প্রাথমিকভাবে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য আইনগত ধারাসমূহের মধ্যে রয়েছে — মিসইন্ট্রেপ্রিটেশন/জালিয়াতি করে দলিল প্রস্তুত করা (সাম্ভাব্য দ্রষ্টব্য: দণ্ডবিধি ও ভূমি সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য), জবরদখল, মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি, এবং আত্মসত্ত্বা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অপরাধ। বাস্তবচিত্র নির্ধারণের জন্য মৌলিক দলিল যাচাই, ভূমি রেকর্ড (খতিয়ান, দাগ, কুপন) ও সংশ্লিষ্ট সময়ের নথিপত্র ক্রমানুসারে তদন্ত অপরিহার্য। ন্যায়বিচারের পথে এগোনোর জন্য আদালতে প্রয়োজনীয় সুনামের উচ্চমানের সাক্ষ্য ও দলিলাদি উপস্থাপন করা প্রয়োজন হবে।
দাবি ও অনুরোধ:
১) শেলী আকতার দাবি করেছেন যে উক্ত জাল দলিল ও অবৈধ দখলের ঘটনা তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন, থানা ও ভূমি রেকর্ড শাখাকে অবিলম্বে সঙ্গে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হোক।
২) দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দলিল তৈরি ও ব্যবহার, জবরদখল ও হয়রানির অভিযোগে দ্রুত ফৌজদারি মামলা করা হোক এবং দুদক-সহ প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোকে তদন্তে নিযুক্ত করা হোক।
৩) তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হোক এবং প্রয়োজনীয় হলে ফরেনসিক দলিল যাচাই করানো হোক।
৪) শেলী আকতারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে— তাহলেই তিনি সহিংসতার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
সতর্কতা ও বাস্তববাদী নোট:
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে— আমরা এখানে অভিযোগভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করছি; বর্তমান প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব তথ্য অভিযোগকর্তার প্রদানকৃত বিবরণ ও দলিলের উল্লেখ অনুসারে জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে উল্লিখিত সব অভিযোগ অমিলহীনভাবে প্রমাণিত হবে; সেজন্য তদন্তপ্রক্রিয়া এবং আদালতের রায়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে। কেউ যদি আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত হন, তখনই শাস্তির হার এবং প্রকার নির্ধারিত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ও স্বাধীন তদন্ত অনিবার্য।
উপসংহার ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
শেলী আকতারের তরফ থেকে ইতিমধ্যে স্থানীয় থানায় এবং ভবিষ্যতে প্রমাণসমর্থ সাক্ষ্য-দলিলসহ যথাযথ আইনি চালান (সিভিল/ফৌজদারি) নেয়ার প্রসঙ্গ তারা উত্থাপন করেছেন। দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ এ ঘটনাটি নজিরীয় গুরুত্বের ঘটনা হিসেবে অনুসরণ করবে এবং প্রাপ্ত যেকোনো অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া, তদন্তপত্র ও আদালতের অগ্রগতি প্রকাশ করবে।