বিশেষ গোয়েন্দা ও অনুসন্ধান রিপোর্ট: বেনাপোলের শুল্ক ফাঁকি ও দেশবিরোধী সিন্ডিকেটের নেপথ্যে হুমায়ুন কবির
বিষয়: ‘ট্রেড কমিউনিকেশন’-এর স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবিরের হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি, কাস্টমস কমিশনারের সাথে যোগসাজশ এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি।
১. পরিচয়ের আড়ালে ক্ষমতার অপব্যবহার
বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘ট্রেড কমিউনিকেশন’-এর স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবির নিজেকে একজন ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও তার ক্ষমতার আসল উৎস সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের ভাইয়ের পরিচয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পারিবারিক পরিচয়কে তিনি ‘আলাউদ্দিনের চেরাগ’ হিসেবে ব্যবহার করে কাস্টমস ও বন্দরের সকল নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন।

২. কাস্টমস কমিশনারের সাথে ‘অশুভ’ আঁতাত
হুমায়ুন কবিরের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন বিতর্কিত কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরী। জনশ্রুতি ও প্রাপ্ত তথ্যমতে:
শুল্ক ফাঁকির মহোৎসব: কমিশনার বেলাল চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে কোটি কোটি টাকার কাস্টমস শুল্ক ফাঁকি দিয়ে হুমায়ুন কবির হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
প্রকাশ্য দম্ভ: এখনো তার ফেসবুক প্রোফাইল ও কভার ফটোতে কমিশনার বেলাল চৌধুরীর ছবি শোভা পাওয়া এই অশুভ সম্পর্কের এক নজিরবিহীন প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পকেটে পুরে অবৈধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন।
৩. দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ড ও বহিঃশত্রুর সাথে সম্পৃক্ততা
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে:
ভারতের ‘র’ (RAW) এজেন্টদের সাথে সখ্যতা: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিভিন্ন এজেন্টের সাথে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন সিএন্ডএফ এজেন্ট হয়ে ভিনদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে এই ধরণের গোপন ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
আওয়ামী সিন্ডিকেটের গোপন তথ্য: অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের হয়ে সীমান্তের এপাড়-ওপাড় তথ্য আদান-প্রদান এবং অর্থ পাচারের (Money Laundering) প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন।
৪. প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা ও দাবি
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে এমন ব্যক্তি কীভাবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ওপর জনগণের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবিগুলো রাখা হলো:
অবিলম্বে গ্রেপ্তার: রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ড এবং শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে হুমায়ুন কবিরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
সম্পদ বাজেয়াপ্ত: ‘ট্রেড কমিউনিকেশন’ এবং তার বেনামি সকল সম্পদের উৎস তদন্ত করে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
কমিশনার বেলাল চৌধুরীর সাথে যোগসূত্র তদন্ত: শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের যে বিশাল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য বেলাল চৌধুরী ও হুমায়ুন কবিরের যৌথ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
গোয়েন্দা নজরদারি: ভারতীয় র এজেন্টের সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা কতটুকু এবং এর ফলে দেশের কী কী ক্ষতি হয়েছে তা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।