• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বদলগাছীতে ভিপি সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, ৫ দিন পর আহত মাসুদ রাজশাহী মেডিকেলে মৃত্যু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ আসলামকে বিআইএফের ফুলেল শুভেচ্ছা দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ মাঠ পর্যায়ে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ, সমপরিমাণ অনুদান; উপজেলা পর্যায় থেকে উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার উদ্যোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দুই দিনের প্রশিক্ষণে ৩৮ হাজার ৮৪৭ পুলিশ সদস্য, পরে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ সদস্যকে দেওয়া হবে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে প্রশ্ন, নজরদারি কতটা কার্যকর? কেক, কোমল পানীয় ও দুধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ; পুরোনো আদালতের নথিতেও উঠে এসেছে খাদ্যমান নিয়ে উদ্বেগ বেনাপোল বন্দরে তিন ট্রাক পণ্য পাচার: দুই শেড ইনচার্জ বদলি হলেও কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ৪৪৪ প্যাকেজ উচ্চ শুল্কের ফেব্রিকসসহ পণ্য পাচারের ঘটনায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা, দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত; কাস্টমসের বিরুদ্ধে উঠছে নানা অভিযোগ এশিয়ান গেমস উপলক্ষ্যে জাপান গমন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যশোরের কেশবপুর আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সভাকে ঘিরে উত্তেজনা, সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়ের অভিযোগ; তৃণমূলে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান ১,৭০০-এর বেশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার তল্লাশি, আটক ৩৪ মোটরসাইকেল; কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য আটক

বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য, চলতি সপ্তাহেই চালু হচ্ছে রামপালের ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিট

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

অবসরে যাওয়া পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই আসছে আরও ৫০০ মেগাওয়াট | গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা | ২০৩১ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ২ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট ২৪

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সংকট মোকাবিলায় একাধিক সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করা, অবসরে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংগ্রহ, গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা সামনে এনেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এরই অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পুনরায় চালু করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় মোট ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও সংসদে তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন চলাকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

চলতি সপ্তাহেই রামপালের ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিট চালুর আশা

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে সরকারের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা রামপাল পাওয়ার প্লান্টের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা সম্ভব হবে।

ইউনিটটি পুনরায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় তাৎক্ষণিকভাবে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা যখন উৎপাদন সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, তখন বড় ক্ষমতার একটি ইউনিট পুনরায় চালু করা জাতীয় গ্রিডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ইউনিটটি চালুর পর নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন বজায় রাখতে জ্বালানি সরবরাহ, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং কেন্দ্রটির পরিচালন সক্ষমতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ওপর নির্ভর করছে না। বরং সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বন্ধ বা অবসরে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং নতুন করে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবসরে যাওয়া পাঁচটি পাওয়ার প্লান্টের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সেই আলোচনা সফল হয়েছে এবং এসব কেন্দ্র থেকে কোনো প্রকার ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই চলতি সপ্তাহ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে অবসরে যাওয়া কেন্দ্রগুলো থেকে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই বিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়টি সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে, এসব কেন্দ্র বাস্তবে কতটা দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে জমে থাকা কয়লা নিয়ে ব্যাখ্যা

উত্তরবঙ্গের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি নিয়েও সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পরিদর্শন করা হয়েছে। খনিতে অতিরিক্ত কয়লা জমে থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে না পারায় সেখানে কয়লা জমে ছিল।

এ ছাড়া খনির কয়লা দেশের অন্য প্রান্তে পরিবহন করাও ব্যয়বহুল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বড়পুকুরিয়ার কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন নয়, পরিবহন ব্যয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে সেই কয়লা কীভাবে কম ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেওয়া যায়, তা নিয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গে পরিবেশসম্মত প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়লা উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়লা পরিবহনের জন্য নতুন রেল অবকাঠামো তৈরি করা হতে পারে।

এতে একদিকে কয়লা পরিবহনের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোও শক্তিশালী হতে পারে।

গ্যাসের ঘাটতি: চাহিদা ৩৮০০, সরবরাহ ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে গ্যাস সরবরাহের। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক হওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও তার প্রভাব পড়ে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি।

এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে প্রতিবছর ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমেছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নতুন অনুসন্ধান ও কূপ খনন কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

কারণ দেশীয় উৎপাদন কমতে থাকলে গ্যাসের ঘাটতি পূরণে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম, পরিবহন ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের প্রত্যাশা, এসব কূপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং আমদানিনির্ভরতার ওপর চাপ কিছুটা কমানো যাবে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এসব উদ্যোগ থেকে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

যদি এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে দেশের শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা এবং অন্যান্য গ্যাসনির্ভর খাতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে।

তবে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের সাফল্যের হার, ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং সময়—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর বিডিং রাউন্ড

দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এ বিষয়ে বিশ্বমানের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে দেখা হয়। সমুদ্রভিত্তিক অনুসন্ধানে সফলতা এলে ভবিষ্যতে দেশীয় জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুত পাওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।

মোংলা বন্দর অববাহিকায় দুটি নতুন এফএসআরইউ

গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমদানিকৃত এলএনজি ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোংলা বন্দর অববাহিকায় চলতি বছরই দুটি নতুন এফএসআরইউ চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এফএসআরইউ বা Floating Storage and Regasification Unit-এর মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি করে সেটিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

মোংলা অঞ্চলে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল

এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের আরেকটি উদ্যোগ হিসেবে মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, এ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হলে দেশে এলএনজি আমদানি, সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

তবে বড় ধরনের জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়, পরিবেশগত বিষয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক চুক্তির মতো একাধিক বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস—দুই খাতেই সমান্তরাল চাপ

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে গ্যাস সংকটের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন হয়।

ফলে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনায় তাই একদিকে রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করা, অবসরে যাওয়া কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া এবং ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গ্যাসের জন্য ১৫০টি কূপ খনন, সমুদ্রে অনুসন্ধান, দুটি নতুন এফএসআরইউ এবং মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনালের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

সরকারের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরিকল্পনাগুলো দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।

চলতি সপ্তাহে রামপালের ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিট চালু হলে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি ফিরতে পারে। একই সময়ে পাঁচটি অবসরে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলে মোট উৎপাদন সক্ষমতায় আরও বড় সংযোজন ঘটবে।

কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু স্বল্পমেয়াদি উৎপাদন বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাস ও কয়লার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ কারণে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরিকল্পনাগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশীয় গ্যাস বাড়লে কমতে পারে আমদানিনির্ভরতা

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, দেশে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কার ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

কারণ এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা, ডলার সংকট, পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মতো বিষয় সরাসরি অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে পারলে একই সঙ্গে শিল্প খাত, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তবে গ্যাস অনুসন্ধানে শুধু পরিকল্পনা ঘোষণা নয়, দ্রুত অনুসন্ধান, সফল কূপ খনন, উৎপাদন শুরু এবং জাতীয় গ্রিডে সংযোগ—প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

জাতীয় গ্রিডে বড় সংযোজনের সম্ভাবনা

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে রামপালের ৬৬০ মেগাওয়াট এবং পাঁচটি অবসরে যাওয়া কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস খাতে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা, ৩০টি কূপে চলমান কাজ, অফশোর বিডিং রাউন্ড, মোংলা এলাকায় দুটি নতুন এফএসআরইউ এবং মাতারবাড়ির ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল—সব মিলিয়ে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে একই সঙ্গে মোকাবিলার কৌশল নিয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের গতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতার ওপর।

সংকট থেকে স্থিতিশীলতার পথে কতটা এগোতে পারবে বাংলাদেশ?

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সরাসরি যুক্ত। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেবল একটি খাতের সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে।

এই বাস্তবতায় সরকারের ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য এবং ২০৩১ সালের মধ্যে ২ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন নজর থাকবে তিনটি বিষয়ের দিকে—রামপালের ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিট কত দ্রুত উৎপাদনে ফিরছে, পাঁচটি অবসরে যাওয়া কেন্দ্র থেকে ঘোষিত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাস্তবে কতটা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রিডে আসছে এবং ১৫০টি কূপ খননের বৃহৎ পরিকল্পনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে প্রয়োজন হবে জ্বালানি নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, দেশীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, আমদানির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর জবাবদিহি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বর্তমান সংকট তাই শুধু তাৎক্ষণিক উৎপাদন বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্বাধীনতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
#বিদ্যুৎ_সংকট #রামপাল_পাওয়ার_প্লান্ট #৬৬০_মেগাওয়াট #বিদ্যুৎ_উৎপাদন #গ্যাস_সংকট #বড়পুকুরিয়া #এলএনজি #এফএসআরইউ #মাতারবাড়ি #অফশোর_গ্যাস_অনুসন্ধান #জ্বালানি_নিরাপত্তা #বাংলাদেশ


More News Of This Category
bdit.com.bd