৫১ লাখের ঘোষণা, সাড়ে ৬ কোটি টাকার পণ্যের অভিযোগ!
বেনাপোল কাস্টমসে রাতের লক, সকালে ওজনের হিসাব বদল,নেপথ্যে কারা? গডফাদার, মাস্টারমাইন্ড ও ‘ম্যানেজ’ চক্রের সন্ধানে অনুসন্ধান
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বেনাপোল প্রতিনিধি | যশোর
বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি আমদানি চালানকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন—ঘোষিত পণ্যের মূল্য কত, বাস্তবে চালানে কত পণ্য, কোন HS Code-এ শুল্কায়ন হয়েছে, প্রকৃত ওজন কত, অতিরিক্ত পণ্য থাকলে তার পরিমাণ কত এবং সর্বোপরি—এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কারা?
চালানটির ঘোষিত আমদানি মূল্য যেখানে প্রায় ৫১ লাখ টাকা, সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, পণ্যের প্রকৃত মূল্য কয়েক কোটি টাকা এবং সর্বনিম্ন আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
আরও গুরুতর অভিযোগ—চালানটিতে ঘোষণার বাইরে বিপুল পরিমাণ পণ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাতের বেলায় চালান লক করা, পরদিন অতিরিক্ত ওজনের একটি রিপোর্ট, কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী প্রকৃত অতিরিক্ত পণ্যের পরিমাণ আরও বেশি—এই পার্থক্যই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তবে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে কাস্টমসের মূল পরীক্ষণ প্রতিবেদন, ওজন স্লিপ, Bill of Entry, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, HS Code এবং চূড়ান্ত শুল্কায়ন নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা জরুরি।
—
প্রশ্ন একটাই—৫১ লাখের চালান কীভাবে ৬ কোটির ওপরে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চালানটির মেনিফেস্ট নম্বর:
৬০১/২০২৬/০০৩/০০৪৭২৭৯/০৮
ঘোষিত পণ্য:
– প্যাকেজ: ৬৮৭
– মোট ওজন: ২৮,২৬৮ কেজি
– নিট ওজন: ১৬,৮৫৪ কেজি
– ঘোষিত আমদানি মূল্য: প্রায় ৪১,৩০১.২০ মার্কিন ডলার
– বাংলাদেশি টাকায় ঘোষিত মূল্য: প্রায় ৫১ লাখ টাকা
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, চালানটির প্রকৃত পণ্যের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।
এখানেই প্রথম তদন্তের প্রশ্ন:
ইনভয়েসে যদি ৫১ লাখ টাকা থাকে, তাহলে একই পণ্যের বাজারমূল্য বা কাস্টমস মূল্যায়ন কীভাবে ৬ কোটি টাকার ওপরে পৌঁছায়?
এটি কি শুধুই মূল্যায়নের পার্থক্য, নাকি পণ্যের ধরন, পরিমাণ, HS Code অথবা ঘোষণায় কোনো অসঙ্গতি রয়েছে?
—
৫৭১ প্যাকেজ ইমিটেশন—সবচেয়ে বড় রহস্য এখানেই
চালানের মধ্যে ৫৭১ প্যাকেজ উচ্চ শুল্কযুক্ত ইমিটেশন পণ্য থাকার কথা বলা হয়েছে।
দাবি অনুযায়ী—
মোট ওজন: ২৪,০৬৩ কেজি
নিট ওজন: ১৪,০৫৫ কেজি
এই অংশেই টিআর নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চালানে অস্বাভাবিক হারে টিআর দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, অন্যান্য কাস্টম হাউজের প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এটি ব্যতিক্রমী।
কিন্তু এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—টিআর/শুল্ক-সংক্রান্ত হিসাব পণ্যের প্রকৃতি, HS Code, মূল্যায়নযোগ্য মূল্য ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই শুধু অন্য কাস্টম হাউজের কোনো একটি হার দিয়ে এই চালানের বৈধতা বা অবৈধতা নির্ধারণ করা যাবে না।
প্রশ্ন হলো—এই চালানের জন্য ঠিক কোন HS Code ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোন সরকারি ট্যারিফের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে?
বাংলাদেশ কাস্টমসের অনলাইন Harmonised Tariff-এ পণ্যভিত্তিক HS Code তালিকা ও শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে।
—
রাতের লক, সকালে অতিরিক্ত ওজন—কী ঘটেছিল?
ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক অংশ হিসেবে সামনে এসেছে চালানটি লক করার বিষয়টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাতে চালানটি লক করা হয়। পরদিন সকালে অতিরিক্ত ২,০৪০ কেজি পণ্য থাকার কথা উল্লেখ করে রিপোর্ট দেওয়া হয়।
কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি—
«অতিরিক্ত পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কেজি বা তারও বেশি হতে পারে।»
এখন প্রশ্ন:
১. রাতে কত প্যাকেজ পরীক্ষা করা হয়েছিল?
২. লক করার সময় মোট ওজন কত ছিল?
৩. সকালে ওজন নেওয়ার সময় কোন মেশিন ব্যবহার করা হয়?
৪. ওজন মেশিনের ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট আছে কি?
৫. প্রথম ও দ্বিতীয় ওজনের ভিডিও বা CCTV ফুটেজ আছে কি?
৬. ২,০৪০ কেজি অতিরিক্ত পণ্য কীভাবে নির্ধারণ করা হলো?
৭. ব্যবসায়ীরা যে ৬ হাজার কেজির দাবি করছেন, সেটির ভিত্তি কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বের করে দিতে পারে রাতের লক থেকে সকালের রিপোর্ট পর্যন্ত আসলে কী ঘটেছিল।
—
আসল গডফাদার কে?
এই প্রশ্নটিই এখন বেনাপোলের ব্যবসায়ী মহলে ঘুরছে।
তবে কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া ‘গডফাদার’ বলা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
বরং তদন্তের আওতায় আসা উচিত পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেইন।
একটি বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ বাস্তব হলে সাধারণত তদন্তে অন্তত কয়েকটি স্তর দেখা দরকার—
প্রথম স্তর: আমদানিকারক
ঘোষণাপত্রে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে?
ইনভয়েস কে তৈরি করেছে?
প্যাকিং লিস্টে কী ছিল?
পণ্যের প্রকৃত মূল্য কে জানত?
ঘোষণার বাইরে পণ্য থাকলে তার দায় কার?
দ্বিতীয় স্তর: সিএন্ডএফ এজেন্ট
Bill of Entry কে প্রস্তুত করেছে?
HS Code কে নির্বাচন করেছে?
মূল্যায়নের তথ্য কে দিয়েছে?
কাস্টমসের সঙ্গে যোগাযোগ কে করেছে?
চালান দ্রুত খালাসের জন্য কারা তৎপর ছিল?
তৃতীয় স্তর: পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন
পরীক্ষণ কর্মকর্তা বাস্তবে কী পেয়েছেন?
কত প্যাকেজ খুলে দেখা হয়েছে?
কী কী পণ্য পাওয়া গেছে?
প্রকৃত ওজন কত?
ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তব পণ্যের পার্থক্য কত?
চতুর্থ স্তর: শুল্কায়ন
কোন HS Code ব্যবহার করা হয়েছে?
কোন TTI প্রয়োগ করা হয়েছে?
কাস্টমস মূল্য কত নির্ধারণ করেছে?
চূড়ান্ত Duty Assessment কত?
পঞ্চম স্তর: অনুমোদন
কে চালানটি ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন?
কোন কর্মকর্তা নথিতে স্বাক্ষর করেছেন?
কোন পর্যায়ে আপত্তি উঠেছিল?
আপত্তি থাকলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে?
—
‘ম্যানেজ’ কথাটির সত্যতা বের হবে নথিতেই
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চালানটি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা হয়েছে।
এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।
কিন্তু ‘ম্যানেজ’ শব্দটি প্রমাণ করতে হলে দরকার—
– ফোন কলের বৈধ তদন্তযোগ্য রেকর্ড;
– অফিসিয়াল নোটশিট;
– পরীক্ষণ প্রতিবেদন;
– মূল্যায়ন প্রতিবেদন;
– অনুমোদনপত্র;
– সংশোধিত Bill of Entry;
– Duty Assessment;
– জরিমানার আদেশ;
– CCTV ফুটেজ;
– ওজনের রেকর্ড;
– পণ্য খালাসের সময়কার নথি।
অর্থাৎ গডফাদার খুঁজতে হলে মানুষের মুখের কথা নয়—ফাইলের গতিপথ অনুসরণ করতে হবে।
—
কারা নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো প্রক্রিয়া?
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—
কে নির্দেশ দিয়েছে, কে সমন্বয় করেছে, কে নথি তৈরি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত কে অনুমোদন দিয়েছে?
একজন আমদানিকারক একা পুরো কাস্টমস প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।
একজন সিএন্ডএফ এজেন্টও একা সরকারি মূল্যায়ন পরিবর্তন করতে পারেন না।
একটি চালান ছাড়াতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
তাই যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—
এটি কি একক কোনো ব্যক্তির কাজ, নাকি একাধিক স্তরের সমন্বিত ব্যর্থতা/অনিয়ম?
—
কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তের বাইরে নয়
অভিযোগে কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তার নাম এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য আমাদের হাতে নেই।
তবে যেহেতু চালানটি সরকারি কাস্টমস প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে কয়েকটি সরাসরি প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক—
কেন চালানটি লক করা হয়েছিল?
কী কারণে লক করা হয়েছিল?
প্রথম পরীক্ষণে কী পাওয়া গিয়েছিল?
কত প্যাকেজ পরীক্ষা করা হয়েছিল?
কত কেজি অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া গিয়েছিল?
কেন অতিরিক্ত ওজনের হিসাব ২,০৪০ কেজি?
চূড়ান্ত মূল্যায়ন কত?
চূড়ান্ত রাজস্ব কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
কোন HS Code ব্যবহার করা হয়েছে?
চালানটি ছাড় হয়েছে কি না?
এই প্রশ্নগুলোর লিখিত উত্তরই অনেক রহস্যের সমাধান করতে পারে।
—
৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার হিসাব—কোথায় দাঁড়ায়?
ব্যবসায়ীদের দেওয়া আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী—
ইমিটেশন
৫৭১ প্যাকেজ × আনুমানিক ১ লাখ টাকা
= ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা
কাচের চুড়ি
৭১ প্যাকেজ × আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা
= ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা
সেপটিফিন
১৫ প্যাকেজ × আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা
= ১২ লাখ টাকা
লেডিস ব্যাগ
১৪ প্যাকেজ × আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা
= ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা
এর বাইরে MT Box ও A Flowerসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব আনুমানিক হিসাব যোগ করে ব্যবসায়ীরা চালানটির সম্ভাব্য মূল্য ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি করছেন।
তবে এটি ব্যবসায়ীদের আনুমানিক হিসাব, সরকারি মূল্যায়ন নয়। প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করবে কাস্টমসের আইনসম্মত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া।
রাজস্ব ফাঁকি হলে রাষ্ট্রের ক্ষতি কত?
চালানের প্রকৃত পণ্য, প্রকৃত মূল্য, HS Code এবং প্রযোজ্য TTI নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজস্ব ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা সম্ভব নয়।
তবে ঘোষিত মূল্য ও প্রকৃত মূল্য বা শ্রেণিবিন্যাসে বড় পার্থক্য থাকলে সম্ভাব্য শুল্ক-কর ব্যবধানও বড় হতে পারে।
এই কারণেই প্রশ্ন—
কাস্টমস শেষ পর্যন্ত কত টাকা Duty + VAT + অন্যান্য প্রযোজ্য কর + জরিমানা ধার্য করে?
এই একটি সংখ্যা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ কাস্টমসের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় Bill of Entry-এর assessed, paid এবং revenue তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
—
‘গডফাদার’ খুঁজতে হলে যে ১০টি নথি চাই
এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধান এখানেই শেষ নয়।
চালানটির সত্যতা যাচাই করতে নিম্নলিখিত নথি সংগ্রহ করা জরুরি—
১. মূল Bill of Entry
২. Import Invoice
৩. Packing List
৪. Manifest
৫. পরীক্ষণ/Examination Report
৬. ওজনের রেকর্ড ও Weight Slip
৭. HS Code ও মূল্যায়ন Sheet
৮. Duty Assessment
৯. জরিমানা/Detention/Release Order
১০. পণ্য খালাসের চূড়ান্ত নথি
এর সঙ্গে CCTV ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটশিট পাওয়া গেলে পুরো প্রক্রিয়ার একটি টাইমলাইন তৈরি করা সম্ভব।
কমিশনারের সিদ্ধান্তই এখন বড় পরীক্ষা
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কমিশনার পর্যায়ে এ ধরনের চালানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক বা মূল্যায়নের বিষয় থাকে।
কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়, সংশ্লিষ্ট চালানের চূড়ান্ত আদেশ দেখতে হবে।
এই চালানে—
কত মূল্যায়ন করা হয়েছে?
কত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে?
কত জরিমানা হয়েছে?
কোন ধারায় জরিমানা হয়েছে?
চালানটি শেষ পর্যন্ত ছাড়া হয়েছে কি না?
কে অনুমোদন করেছেন?
এসব তথ্য প্রকাশিত হলেই বোঝা যাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি নিয়মসঙ্গত ছিল কি না।
তদন্ত হোক ‘ব্যক্তি’ নয়, পুরো চক্রকে ঘিরে
এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কাউকে আগেভাগে অপরাধী বানানো নয়।
যদি অনিয়ম না থাকে, তাহলে নথি প্রকাশ করলেই অভিযোগের অবসান হবে।
আর যদি অনিয়ম থাকে, তাহলে শুধু আমদানিকারক বা সিএন্ডএফ এজেন্টকে দায়ী করে তদন্ত শেষ করলে চলবে না।
তখন দেখতে হবে—
ঘোষণা কে করেছে?
HS Code কে দিয়েছে?
মূল্য কে নির্ধারণ করেছে?
পরীক্ষণ কে করেছে?
ওজন কে নিয়েছে?
রিপোর্ট কে লিখেছে?
আপত্তি কে তুলেছে?
আপত্তি কে নিষ্পত্তি করেছে?
জরিমানা কে নির্ধারণ করেছে?
চালান ছাড়ার অনুমোদন কে দিয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিললেই বেরিয়ে আসবে—
‘গডফাদার’ আদৌ আছে কি না, নাকি এটি একাধিক পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতা।
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের প্রশ্ন
বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের সরাসরি প্রশ্ন—
১. মেনিফেস্ট নম্বর ৬০১/২০২৬/০০৩/০০৪৭২৭৯/০৮-এর চালানটি বর্তমানে কোন অবস্থায় রয়েছে?
২. ঘোষিত ৫১ লাখ টাকার পণ্য ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে পার্থক্য কত?
৩. মোট কত প্যাকেজ পরীক্ষা করা হয়েছে?
৪. অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া গেলে তার সঠিক পরিমাণ কত?
৫. ২,০৪০ কেজি অতিরিক্ত পণ্যের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
৬. ব্যবসায়ীদের দাবি করা ৬ হাজার কেজি অতিরিক্ত পণ্যের বিষয়ে কোনো পুনঃপরীক্ষণ হয়েছে কি?
৭. ৫৭১ প্যাকেজ ইমিটেশন পণ্যের HS Code কী?
৮. ওই পণ্যের মূল্যায়ন কত?
৯. প্রযোজ্য TTI কত?
১০. মোট কত টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে?
১১. কোনো জরিমানা করা হয়েছে কি?
১২. চালানটি ছাড়ের অনুমোদন কে দিয়েছেন?
১৩. কোনো কর্মকর্তা বা সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে কি?
১৪. চালানটি শতভাগ পরীক্ষণের আওতায় নেওয়া হবে কি?
১৫. রাতের লক থেকে পরদিনের রিপোর্ট পর্যন্ত CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে কি?
—
শেষ কথা: মুখোশ খুলবে নথিতে
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি হয়। একটি চালানকে কেন্দ্র করে যদি ঘোষিত মূল্য, প্রকৃত পণ্য, ওজন, HS Code এবং শুল্কায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেটিকে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এটি রাজস্ব, কাস্টমস প্রশাসন এবং বাণিজ্যিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
কেউ অপরাধী কি না—তা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যখন—
তখন উত্তরও দিতে হবে।
৫১ লাখের ঘোষণার বিপরীতে যদি সত্যিই ৬ কোটির বেশি মূল্যের পণ্য থাকে, তাহলে সেই পার্থক্যের উৎস কী?
যদি অতিরিক্ত পণ্য থাকে, তাহলে ঘোষণায় তা কেন নেই?
যদি HS Code ভুল হয়, তাহলে ভুলটি কীভাবে হলো?
যদি মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তার ভিত্তি কী?
আর যদি সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়ে থাকে—
তাহলে সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করে অভিযোগের অবসান ঘটানো হোক।
আর যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়—
তাহলে শুধু দৃশ্যমান ব্যক্তিকে নয়, পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেইন এবং নেপথ্যের সম্ভাব্য সমন্বয়কারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি উঠবেই।
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে।
সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের কোনোটি আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে,এমন দাবি করা হচ্ছে না। প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা প্রশ্ন এসেছে, তাদের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকবে এবং প্রাপ্ত প্রামাণ্য জবাব পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।