📰 বিশেষ প্রতিবেদন | Daily Bangladesh Prothom Sangbad
তারিখ: ৬ জুলাই ২০২৫
শিরোনাম:
‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপি’র দৌরাত্ম্য—শুদ্ধি অভিযানে কঠোর হচ্ছে বিএনপি
✍️ রিপোর্ট: নাজমুল হাসান
দেশজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু অংশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও কোন্দলসহ নানামুখী অপকর্মের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে দলের হাইকমান্ড। বিশেষ করে ‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপি’ নামধারী এক শ্রেণির নেতাকর্মীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে তৃণমূল রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা, সৃষ্টি হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও।
দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, এসব অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িতদের চিহ্নিত করে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিএনপিকে পরিশুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিটি কমিটি এখন পুনর্মূল্যায়নের আওতায়। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকলেই তাকে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “জনগণ যাদের ওপর রুষ্ট, তাদের সতর্ক করে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। যারা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করবে, তারা দলের বোঝা—এমন কাউকে রাখার প্রশ্নই আসে না।”
গত ১১ মাসে এ ধরনের অভিযোগে অন্তত ৫,০০০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ১,০০০ জনকে শোকজ করা হয়েছে। লালমনিরহাট ও ভোলার সাম্প্রতিক ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “দল ও দেশের স্বার্থে বিএনপি যা যা করার তাই করবে। যে কোনো অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপি পিছপা হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এসেছে। এখনো কেউ যদি অপকর্মে জড়ায়, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা অন্যান্য অপরাধ মেনে নেওয়া হবে না। আমরা সব জায়গায় কঠোর বার্তা দিয়েছি—আওয়ামী লীগের মতো কাজ করলে বিএনপিতে জায়গা নেই।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, অপকর্মের চেয়ে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে, যা একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে চালাচ্ছে।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশী কর্মীরা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে জড়াচ্ছে। এসব অপকর্মের মাধ্যমে বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্য বিশেষ সায়েন্টিফিক “পুশইন প্ল্যান” বাস্তবায়ন করছে শাসকদল।
তদন্তে এসব ‘হাইব্রিড’ ও অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছেন দায়িত্বশীলরা।
কোনো কোনো জেলায় বিএনপির পক্ষ থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের ভেতরকার এই শুদ্ধি অভিযানে কেউই ঊর্ধ্বে নয়—চলমান শুদ্ধি অভিযান আরও বিস্তৃত হবে বলে জানান একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
বিএনপির এই শুদ্ধি অভিযান কেবল একটি দলীয় পুনর্গঠন নয়—এটি একটি বার্তা:
“এই বিএনপি আর ২০১৩-১৪’র বিএনপি নয়।”
দলীয় পরিচয়ের আড়ালে থাকা অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক, শুদ্ধি অভিযানে কেউ রেহাই পাবে না।
অন্যদিকে, এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে অনেকে বলছেন, যদি সত্যিকারের সাংগঠনিক শুদ্ধি হয়, তবে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বহুগুণ।