মামলা থাকা সত্ত্বেও বিএনপিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ
আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ এক নেতার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদ বাগানোর তদবির
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি | বগুড়া
বগুড়ায় জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি, মারপিট ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি হয়েও এক আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সামনের কাতারে যাওয়ার জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, একাধিক মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি বিএনপির কিছু নেতাকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন এবং পদ পেতে অর্থ লেনদেনের ঘটনাও ঘটেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির কিছু নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার বিস্তারিত তথ্য
সূত্র জানায়, বগুড়া সদর থানার মামলা নং ৬৬/২০২৫ ইং–এ জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, মারধর ও নাশকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন বৃন্দাবন পাড়া এলাকার নুর হোসেন মন্ডলের পুত্র আলিফ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে বগুড়া সদর থানায় ২০২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় ১১১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে খয়বরের পুত্র ফিরোজ আহম্মেদ বাবুকে, যাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ওপর হামলায় ফিরোজ আহম্মেদ বাবু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের রক্তের দাগ এখনো মুছে না যেতেই তিনি নিজেকে বাঁচাতে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপিতে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দাবি
জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ধরনের ব্যক্তি যদি রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পায়, তবে তা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠবে। তাদের দাবি—
“আওয়ামী লীগের দোষরদের দৌরাত্ম এখনই বন্ধ না করা গেলে দেশ আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হতে পারে।”
তারা আরও দাবি করেন, যারা অর্থের বিনিময়ে এসব ব্যক্তিকে আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছে, সেসব নেতার তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আত্মীয়ের পরিচয় ও বক্তব্য
মামলার আসামি ফিরোজ আহম্মেদ বাবুর ভাতিজা হিসেবে পরিচিত আহসান হাবিব রিয়াদ, যিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ–দপ্তর বিষয়ক ও ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত—তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না।”
শাস্তির দাবি ও সম্ভাব্য ব্যবস্থা
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামলার আসামি হয়ে কোনো রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে—
মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা
আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা
অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থা
ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর যাচাই–বাছাই
—এই দাবিগুলো জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
সচেতন মহলের আহ্বান
জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,
“রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আন্দোলনের চেতনা বিক্রি হতে দেওয়া যাবে না। দোষীদের বিচার এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।”