দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট২৪
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলী কদর সাহেবের বাড়ি থেকে বড়আঁচড়া ঈদগাহ পর্যন্ত সড়কটি অস্থায়ীভাবে সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল। অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বেনাপোল পৌর বিএনপির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নজরে আনেন এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান। তার এই উদ্যোগের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
বেনাপোল ও শার্শার রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুল মুন্নির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সড়কটির অস্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে, যাতে জনগণের দুর্ভোগ দ্রুত কমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে এ সড়কের স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বেড়েই চলছিল। অবশেষে অস্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আপাতত যাতায়াত স্বাভাবিক হবে এবং পরবর্তীতে সড়কটির টেকসই ও স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরাও সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সড়ক সংস্কার হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় কাদামাটি ও পানি জমে যাওয়ায় শিশুদের চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। সংস্কার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন, একটি সড়ক শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই অস্থায়ী সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। কাজ শুরুর সময়সূচি ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তা আরও স্পষ্ট হবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হলে বড়আঁচড়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট২৪ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং এ বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পাঠকদের সামনে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরবে।