বেনাপোল কাস্টমসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: আলোচনায় রিপন দাস
বেনাপোল, যশোর | নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের সীমান্তবন্দর Benapole Land Port–সংলগ্ন কাস্টমস কার্যালয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook–এ প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে কাস্টমসের এক কর্মচারী Ripon Das–এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসছে।
জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমসের গ্রুপ নম্বর–৮ এর বন্ড শাখায় কর্মরত রিপন দাসের বিরুদ্ধে প্রতি কনসাইনমেন্টে পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নাকি ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এই অর্থ আদায় করতেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই অভিযোগ সামনে আসে সাংবাদিক Anisur Rahman–এর একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মচারী আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি
ফেসবুকে প্রকাশিত ওই পোস্টের পরপরই বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে দাবি করেছেন, বেনাপোল কাস্টমসে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা গেলেও সেগুলো নিয়ে কার্যকর তদন্ত খুব কমই হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, কাস্টমস সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নামে কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা যেমন হয়রানির শিকার হন, তেমনি দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি
অভিযোগ ওঠার পর সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র Benapole Land Port–এ এ ধরনের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
তারা বলছেন, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অবস্থান
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত বাণিজ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। এতে একদিকে যেমন দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগ ঘিরে বেনাপোল বন্দর এলাকায় নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবেন।
সাংবাদিক আনিসুর রহমানের করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে রিপন দাশকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা। ওই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান আশিক বলেন, অনেক আগে তিনি যখন দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুব সাধারণ একটি কাজে দেখতে পেয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সে সময় তিনি সুইপারের কাজ করতেন। তবে বর্তমানে তাকে বেশ প্রভাবশালী অবস্থানে দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এ মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ
সূত্র: সাংবাদিক আনিসুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট।