বিশেষ প্রতিনিধি : পাভেল ইসলাম মিমুল
রাজশাহীতে পুলিশের কনস্টেবল বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগে তোলপাড় বেলপুকুর-চারঘাট থেকে সারাদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া অভিযোগে জনমনে উদ্বেগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো
আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল বিজয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বেলপুকুর থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
বেলপুকুর ও চারঘাট থানা কেন্দ্রিক এসব অভিযোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বেলপুকুর ও চারঘাটে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বেলপুকুর থানায় কর্মরত কনস্টেবল রাজিব কুমার হৃদয় এবং কথিত মাদক ব্যবসায়ী রানা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চারঘাট থানার সারদা পুলিশ একাডেমি সংলগ্ন এলাকাকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করছেন স্থানীয়রা।তাদের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এই কার্যক্রম চললেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ইয়াবা লেনদেন নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ:
অভিযোগ অনুযায়ী,এক ঘটনায় ১০০ পিস ইয়াবা সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪০ পিস দেওয়া হয় এবং বাকি অংশ পরে সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য—“আইনের রক্ষক যদি নিজেই আইনের ভঙ্গকারী হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপত্তা পাবে?”
মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র আরও দাবি করেছে, অভিযুক্তরা নিজেরাও ইয়াবা ও ফেনসিডিল সেবনের সাথে জড়িত।
পারিবারিক প্রভাব ও এলাকায় অবস্থান নিয়ে আলোচনা অভিযোগে আরও উঠে এসেছে,সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের পারিবারিক প্রভাব ও অতীত অবস্থান নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। জানা যায়, অভিযুক্ত রাজিব কুমার হৃদয় এর বাড়ি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া এলাকায়। তার বাবা একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন এবং চাকরিকালীন সময়ে রাজশাহীর চারঘাট থানার এলাকায় বসবাস করতেন এখন রাজিব কুমার সেখানেই থাকেন।
স্থানীয়দের দাবি,সেই সূত্র ধরে বর্তমানেও চারঘাটের সারদা এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ এটিকে “মাদক সিন্ডিকেটের শক্ত ঘাঁটি” হিসেবেও উল্লেখ করছেন।
গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন,“মাদক ব্যবসা কমার বদলে উল্টো বাড়ছে। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই এতে জড়িত থাকে,তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
প্রশাসনের নীরবতা,বাড়ছে প্রশ্ন এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এবিষয়ে জানতে মুঠোফোনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেননি। থানা বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
এতে করে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত আইন ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে,এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জনগণের জোর দাবি অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা
মাদক সিন্ডিকেট সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেওয়া
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
শেষ কথা আইনের রক্ষক হিসেবে পুলিশের ভূমিকা একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যখন মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়—বরং পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্যই এক বড় সতর্কবার্তা।
সচেতন মহলের মতে, এখনই সময় এসব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কার্যকর তদন্ত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার—নয়তো ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
রাজশাহীতে পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয় বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট: শাস্তি ও তদন্তের নির্দেশনা
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, বেলপুকুর থানা
কনস্টেবল রাজিব কুমার ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী রানা-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে ইয়াবা বিক্রি, সরবরাহ ও সেবন, সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বাণিজ্য পরিচালনা এবং স্থানীয় ও পারিবারিক প্রভাবের অপব্যবহার।
১. সম্ভাব্য শাস্তি
চাকরিচ্যুতি: সিনিয়র পুলিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা।
গ্রেফতার ও কারাদণ্ড: যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় তারা সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িত।
অর্থ জরিমানা ও সম্পত্তি জব্দ: অভিযোগ প্রমাণিত হলে।
সব শাস্তি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কার্যকর হবে।
২. প্রযোজ্য আইন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮: ইয়াবা বিক্রি, সরবরাহ বা সেবনের ক্ষেত্রে।
প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission) তদন্তে যুক্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে পুরো সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
৩. তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক
মাদক কোথা থেকে আসে এবং থানায় কিভাবে পৌঁছায়
মাদক বিক্রির অর্থ কারা গ্রহণ করছে
থানা, সিন্ডিকেট ও বাহ্যিক সহযোগীদের সম্পৃক্ততা
অভিযুক্তদের পারিবারিক প্রভাব ও পূর্ববর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা
স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন
৪. জনমনের দাবি
নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা
মাদক সিন্ডিকেট সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেওয়া
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
বিশেষ অনুরোধ
এই অভিযোগ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত কনস্টেবলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল রাজিব কুমার হৃদয় এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। বরং তিনি বলেছেন, প্রতিবেদনের প্রকাশ হলে তিনি আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ফাঁসানোর চেষ্টা করবেন।
এই মন্তব্য বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে এবং নিরাপত্তা ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করেছে।