ঢাকা | ১৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী সামরানা হাসান। তার অসাধারণ প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও শিল্পসাধনার মাধ্যমে আজ বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের নাম। জাপানের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীতে সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জন করে তিনি শুধু নিজের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মর্যাদাকে বিশ্বদরবারে আরও উঁচুতে তুলে ধরেছেন।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-১ এ বসবাসকারী এই মেধাবী শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিল্পচর্চা করে আসছেন। জাপানের প্রখ্যাত শিল্পসংগঠন Biiku Bunka Kyokai (Foundation for Art Education) আয়োজিত আন্তর্জাতিক চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তিনি একাধিকবার অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত ৫৩তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তিনি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন, যা ছিল তার আন্তর্জাতিক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তবে তার সাফল্যের শিখর স্পর্শ করে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ৫৫তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে। ওই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সামরানা হাসান অর্জন করেন সর্বোচ্চ সম্মান “Supreme Gold Award”। একই প্রদর্শনীতে তিনি একটি ব্রোঞ্জ পদকও লাভ করেন। জাপানের মতো শিল্পসমৃদ্ধ দেশে বাংলাদেশের কোনো শিল্পীর এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে বিরল এবং গৌরবের বিষয়।
শুধু ক্যানভাসে চিত্রাঙ্কনেই সীমাবদ্ধ নন সামরানা হাসান। তিনি শিল্প ও কারুকার্যের সমন্বয়ে বিশ্বের বিখ্যাত স্থাপত্যগুলোর নিখুঁত প্রতিরূপ তৈরি করেও শিল্পবোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার হাতে তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্র White House, দুবাইয়ের আধুনিক স্থাপত্য Twin Towers এবং লন্ডনের ঐতিহাসিক Tower Bridge–এর রেপ্লিকাগুলো এতটাই নিখুঁত যে অনেকেই এগুলোকে ক্ষুদ্র স্থাপত্যের বিস্ময় বলে আখ্যায়িত করছেন।
নিখুঁত নকশা, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং বাস্তবতার কাছাকাছি উপস্থাপনার কারণে তার এসব কাজ আন্তর্জাতিক স্থাপত্যপ্রেমী ও শিল্পবোদ্ধাদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। শিল্পের প্রতি তার এই গভীর নিষ্ঠা ও দক্ষতা তাকে বিশ্বমানের শিল্পীর কাতারে স্থান করে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে তার অসাধারণ শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-এর হাত থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। সেই সময় তার প্রতিভাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল।

সামরানা হাসানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী ফাহাদ বিন আব্বাস বলেন,
“সামরানা হাসান শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার। তার প্রতিটি সাফল্য দেশের জন্য গৌরবের বিষয়। একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে তিনি যেভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা চাই বর্তমান সরকার তার মতো আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন করুক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও বড় পরিসরে সম্মান প্রদান করুক।”
শিল্পবোদ্ধাদের মতে, সামরানা হাসানের মতো প্রতিভাবান শিল্পীরা বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের সাফল্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে এবং দেশের শিল্পচর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে।
বিশ্বজয়ী এই শিল্পীর অর্জন আজ দেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। অনেকের মতে, সামরানা হাসানের মতো শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান দেওয়া নয়—বরং বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির মর্যাদাকে বিশ্বদরবারে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
শিল্পাঙ্গনের অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এমন শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এতে শুধু শিল্পীই অনুপ্রাণিত হন না, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মও নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস পায়।
বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে সামরানা হাসান আজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—যার আলো বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা।