ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
নয়ন হোসেন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঠাকুরগাঁও শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ২২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯ বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে সন্দেহভাজন নগদ ৩২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন আর রশিদ। অভিযানে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি মো. রাহেজের অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও হেফাজতে থাকা সামগ্রী তল্লাশি করে ২২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯ বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে সন্দেহভাজন নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে সম্ভাব্য সহযোগী ও মাদক সরবরাহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অধিদপ্তর জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. হারুন আর রশিদ বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো মাদক কারবারিকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সহযোগিতা পেলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হলে মাদক কারবারিদের তৎপরতা কমবে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।