নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একটি অনলাইন ই-পেপারে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত অপপ্রচার এবং মিডিয়া শক্তির অপব্যবহার।
সম্প্রতি “প্রতিদিনের কথা” নামের একটি অনলাইন ই-পেপারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস এলাকায় একটি কথিত “সিন্ডিকেট” পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যুবদল নেতা রিপন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ, যুবদল নেতা সুবহান এবং কৃষক দল নেতা জসিম–এর নাম উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাংবাদিক সুন্দর সাহা।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ–এর প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—প্রকাশিত তথ্যগুলোর অনেকটাই অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপমানজনক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ
প্রতিবেদনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ–এর নাম বিকৃত করে তাকে “হিজড়া মাসুদ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে অত্যন্ত অশালীন, অসম্মানজনক এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। স্থানীয় সচেতন মহল এটিকে ব্যক্তিগত মানহানিকর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের নেতা ও এক সাংবাদিকের মাধ্যমে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায়ের একটি প্রথা চালু ছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি—প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রথা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বর্তমানে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ
দৈনিক চট্রবানী–এর আজগার সাংবাদিক নিজের ফেসবুক পোস্টে “প্রতিদিনের কথা”–এর ওই প্রতিবেদনকে ভুয়া ও মিথ্যা অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন।

যুবদল নেতা রিপন বলেন,
“এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার পরিবারের তিনজন সদস্য টেলিভিশন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত—বড় ভাই মিলন এশিয়ান টিভিতে, ভাইপো সিয়াম নাইন টিভিতে এবং আরেক ভাই গ্রিন টিভিতে কাজ করেন। আমার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার দোকান বেনাপোল এলাকায় হওয়ায় পাসপোর্ট যাত্রীদের আনাগোনার কারণে মাঝে মাঝে কাস্টমস এলাকায় যাওয়া-আসা হয়। কিন্তু কোনো সিন্ডিকেট বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
সুবহানের বক্তব্য
যুবদল নেতা সুবহান বলেন,
“আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ আল্লাহর বিচার থেকে রক্ষা পাবে না।”
জসিমের বিরুদ্ধেও পূর্বে অপপ্রচারের অভিযোগ
কৃষক দল নেতা জসিম–এর বিরুদ্ধেও অতীতে একাধিকবার অপপ্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাকে “ধর্ষক” উল্লেখ করে শিরোনাম করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে—যা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
বেনাপোল কাস্টমসের সুপারিনটেনডেন্ট ফয়জুল করিম বলেন,
“কাস্টমস কার্যক্রম নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়। ট্রাক থেকে রাজস্ব ও ভ্যাট আদায়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়মের বাইরে কাউকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া হয় না।”
এদিকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি–র কঠোর নজরদারি থাকার কারণেও অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালনার সুযোগ সীমিত বলে স্থানীয়দের অনেকেই মত দিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতামত
স্থানীয়দের একাংশের মতে,
“বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় কথিত সিন্ডিকেটের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করতে অথবা ব্যক্তিগত স্বার্থে অপপ্রচার চালানো হতে পারে।”
অনুসন্ধান অব্যাহত।
স্থানীয়ভাবে সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে উক্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়েছে—তারা প্রত্যেকেই এলাকায় পরিচিত ও স্বনামধন্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে তাদের ব্যক্তিগত সুনাম ও আত্মসম্মান রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এ ধরনের ভিত্তিহীন ও যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত সংবাদ শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানহানিই নয়, বরং তাদের সামাজিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় রেখে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ জানায়, বিষয়টি নিয়ে তাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি কোনো অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়—তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
একই সঙ্গে “প্রতিদিনের কথা” ই-পেপারের প্রতি সম্মান বজায় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পরবর্তী প্রতিবেদন
এ বিষয়ে সাংবাদিক সুন্দর সাহা–এর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ।