কেশবপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এমপির বিরুদ্ধে
ঈদ উপলক্ষে ২১ হাজার ৫২১ পরিবার পাবে চাল, বঞ্চনার আশঙ্কায় ক্ষোভ
যশোর জেলা প্রতিনিধি
যশোরের Keshabpur Upazila-এ আসন্ন Eid al-Fitr উপলক্ষে ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য Professor Moktar Ali-এর দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কেশবপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মোট ২১ হাজার ৫২১টি দরিদ্র পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।
এর মধ্যে কেশবপুর পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫টি পরিবার এবং উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৯৫৬টি পরিবার এই সহায়তার আওতায় রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য Professor Moktar Ali তার প্রভাব খাটিয়ে চাল বিতরণে দলীয় কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী—
পৌরসভায়:
৪৫% কার্ডের চাল Bangladesh Jamaat-e-Islami
৪৫% কার্ডের চাল Bangladesh Nationalist Party
১০% কার্ডের চাল পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে:
৩০% কার্ডের চাল Bangladesh Jamaat-e-Islami
৩০% কার্ডের চাল Bangladesh Nationalist Party
২০% কার্ড ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে
২০% কার্ড চেয়ারম্যান বা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে করে শত শত প্রকৃত দরিদ্র পরিবার ভিজিএফ চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
এলাকাজুড়ে অসন্তোষ
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে Keshabpur Upazila জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকার ঘোষিত দরিদ্র সহায়তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
কেশবপুর পৌরসভার সচিব Enamul Haque বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৬২৫টি পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা Nasrin Sultana জানান, উপজেলার ১৬ হাজার ৯৫৬টি পরিবার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির অভিযোগ
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক Alamgir Kabir Biswas অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ইউনিয়ন পর্যায়ে চাল বিতরণে দলীয় কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক Sheikh Shahidul Islam বলেন, চাল বিতরণের বিষয়ে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সরাসরি সম্পৃক্ত নন।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক Reksona Khatun বলেন, বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে উপকারভোগীদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে যাচাই-বাছাই চলছে এবং যারা প্রকৃতপক্ষে পাওয়ার যোগ্য তাদের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে।
উপকারভোগীদের প্রত্যাশা
স্থানীয় অনেক দরিদ্র পরিবার আশা করছেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এই সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতেই পৌঁছায়। তারা প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তালিকা যাচাই করে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে কেশবপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসনের তদারকিতে শেষ পর্যন্ত এই সহায়তা কর্মসূচি কতটা স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয়।