• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও কাস্টমস দেশের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এবং শত শত আমদানি-রপ্তানির চালান এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ, পূর্বে চালু থাকা কিছু স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্পট ট্যাক্স বন্ধ—কেন? স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে পণ্য জব্দ, জটিলতা কিংবা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন— স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থা কেন বন্ধ? এটি কি কোনো নতুন সরকারি নীতির অংশ, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? যদি নতুন নিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা জনসাধারণকে কেন স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি? রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার কার? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। উন্নয়নের ছোঁয়া কোথায়? বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী সীমান্তবন্দর হলেও অনেক যাত্রীর অভিযোগ, যাত্রীসেবার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিযোগ রয়েছে— লাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষা। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। তথ্যকেন্দ্র ও নির্দেশনামূলক সাইনেজ অপ্রতুল। আধুনিক যাত্রীবান্ধব অবকাঠামোর ঘাটতি। অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা দুর্বল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার। যাত্রীর অভিজ্ঞতা: কেনাকাটার পর লাগেজ হয়রানির অভিযোগ সম্প্রতি এক যাত্রী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি ভারত সফরে গিয়ে প্রায় ১১,৬৯৩ ভারতীয় রুপির গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের কিছু পণ্য কেনেন। এর সঙ্গে ছিল কয়েকটি শাড়ি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তে কেনাকাটার রসিদ প্রদর্শনের পর কোনো জটিলতা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের পর তার সব লাগেজ খুলে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পরে শাড়ি নিয়ে আপত্তি তুলে কয়েকটি শাড়ি জব্দ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রীরা যদি নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা না পান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যাত্রীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যাত্রীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এখন আলোচনায় এসেছে— বর্তমান ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী কতটি শাড়ি বা কী পরিমাণ পণ্য বৈধভাবে আনতে পারবেন? ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য এবং বাণিজ্যিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কি দৃশ্যমানভাবে চেকপোস্টে প্রদর্শন করা হয়েছে? কাস্টমস কর্মকর্তারা কি একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করছেন? জব্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি সচেতন নাগরিকদের মতে, যাত্রীদের সঙ্গে কাস্টমসের সম্পর্ক হওয়া উচিত সেবামূলক ও আইনসম্মত। এজন্য তারা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন— ব্যাগেজ রুলস বাংলা ও ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন। কোন পণ্যে কত শুল্ক বা কর প্রযোজ্য—তার তালিকা প্রকাশ। ডিজিটাল রসিদ ও অনলাইন শুল্ক পরিশোধ ব্যবস্থা চালু। অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। যাত্রীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাশা এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো মূলত যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। উপসংহার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট শুধু একটি সীমান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশের ভাবমূর্তির অন্যতম প্রবেশদ্বার। তাই রাজস্ব আদায়, যাত্রীসেবা, আইন প্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা—সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। যাত্রীদের হয়রানি কমিয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও স্বচ্ছ কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় ‘ভাই-ভাই’ রাজনীতির বিস্ফোরণ: জেলা বিএনপির সভাপতি মো: রেজাউল করিম বাদশা বনাম জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন—পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে তৃণমূলের তীব্র ক্ষোভ

সেলিম চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি / ২২৫ Time View
Update : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: ‘আওয়ামী-পরিবারতন্ত্র’ থেকে মুক্তির আকুল আবেদন; বিএনপির দুর্গ রক্ষায় তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চায় তৃণমূল

বগুড়া প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেস্ক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: ধানের শীষের অস্তিত্ব বনাম পারিবারিক আঁতাত
বগুড়া: উত্তরবঙ্গের রাজনীতির রাজধানীখ্যাত বগুড়ায় এখন উৎসবের বদলে আতঙ্কের ছায়া। দীর্ঘদিন ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পর যখন সাধারণ মানুষ নতুন ভোরের অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে জন্ম নিয়েছে এক নজিরবিহীন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে—বগুড়া কি সত্যিই আওয়ামী মুক্ত হয়েছে, নাকি পর্দার আড়ালে এক শক্তিশালী ‘ভাই-ভাই’ সমঝোতার কাছে জিম্মি হতে চলেছে এই পুণ্যভূমি?

১. একই ছাদের নিচে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি: রাজনৈতিক সুবিধাবাদ নাকি গভীর ষড়যন্ত্র?
বগুড়ার রাজনীতিতে বর্তমান সময়ের সবচাইতে বড় টক অব দ্য টাউন হলো দুই সহোদরের অবস্থান। একদিকে মো: রেজাউল করিম বাদশা, যিনি জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও সাবেক মেয়র। অন্যদিকে তাঁরই আপন ভাই মঞ্জুরুল আলম মোহন, যিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই ‘দুই ভাইয়ের রাজনীতি’ আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তখন এই পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে বাদশা পরিবার বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছে, অথচ সাধারণ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ছাড়া হতে হয়েছে। এখন বিএনপির সুসময়ে আবারও সেই একই পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়াকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতির পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

২. আওয়ামী প্রেতাত্মার আস্ফালন ও নেতাকর্মীদের রক্তক্ষরণ
তৃণমূলের ক্ষোভের আগুন আরও ঘি ঢেলেছে মঞ্জুরুল আলম মোহনের অতীত কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন মোহন প্রকাশ্য জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অত্যন্ত ধৃষ্টতাপূর্ণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন।

বগুড়ার সচেতন ভোটারদের প্রশ্ন:

“যে পরিবারের একজন সদস্য আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানকে অপমান করেছে, সেই পরিবারের আরেকজন সদস্যকে আমরা কোন মুখে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেব? এটি কি শহীদ জিয়ার আদর্শের সাথে চরম বেইমানি নয়?”

৩. বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: জনমতের প্রতিফলন বনাম বিতর্কিত মনোনয়ন
বগুড়া-৬ আসনটি বিএনপির জন্য কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, এটি দলটির অস্তিত্ব ও সম্মানের প্রতীক। এখান থেকে স্বয়ং তারেক রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই পুণ্যভূমিতে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী করার বিরোধিতায় উত্তাল রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া।

তৃণমূলের মূল অভিযোগ ও দাবি:

আঞ্চলিক পরিচয় সংকট: জনগণের একাংশের দাবি, বাদশা মূলত বগুড়ার মাটির সন্তান নন। এই আসনে একজন ভূমিপুত্র ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকে প্রার্থী করা হোক।

ছায়া শাসনের ভয়: সাধারণ ভোটারদের আশঙ্কা, বাদশা নির্বাচিত হলে আড়াল থেকে তাঁর আওয়ামী লীগপন্থী ভাই-ই জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করবেন। এতে বগুড়ায় আবারও ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

অপারেশন সভাপতি বনাম সাধারণ সম্পাদক: একই ঘরে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদের অবস্থান জনগণের ভোটের অধিকারকে প্রহসনে পরিণত করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

৪. “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী” ও জননেতা তারেক রহমানের প্রতি সরাসরি আহ্বান
বগুড়া জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখন শেষ ভরসা তাদের প্রিয় নেতা, নতুন বাংলাদেশের আগামীর কান্ডারি তারেক রহমান।

বগুড়াবাসীর স্পষ্ট বার্তা:

“হে আমাদের নেতা, আপনি এই আবেগকে অবজ্ঞা করবেন না। বগুড়ার মানুষ আওয়ামী লীগের কবল থেকে মুক্তি চেয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের পকেট বন্দি হতে চায়নি। রেজাউল করিম বাদশার মতো বিতর্কিত কাউকে হাত দিয়ে দয়া করে একজন যোগ্য, ত্যাগী এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিন।”

তারা আরও দাবি করেন, যে ব্যক্তি দলের দুঃসময়ে ভাইয়ের আওয়ামী পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তাকে সরিয়ে রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হোক।

৫. উপসংহার: ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে বগুড়া
বগুড়া-৬ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন কেবল একটি জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; এটি আদর্শ রক্ষার লড়াই। যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৃণমূলের এই যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে, তবে সাধারণ ভোটাররা নিজেদের বঞ্চিত মনে করবেন, যার প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে।

বগুড়ার আকাশ থেকে এই ‘পরিবারতন্ত্রের কালো মেঘ’ সরানোর দায়িত্ব এখন সরাসরি কেন্দ্রের। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর চোখ এখন লন্ডনের দিকে—তারা বিশ্বাস করেন, তাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান বগুড়াবাসীর এই রক্তের ঋণ ও আবেগ বুঝতে পারবেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বগুড়াকে কলঙ্কমুক্ত করবেন।

কে এই মঞ্জুরুল আলম মোহন?
বগুড়ার ত্রাস এবং দেড় দশকের ‘ফ্যাসিস্ট’ রাজত্বের নেপথ্য কারিগর


মঞ্জুরুল আলম মোহন
পদবী: ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বগুড়া জেলা শাখা।
পরিচয়: জেলা বিএনপির সভাপতি মো: রেজাউল করিম বাদশার আপন ছোট ভাই।

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রেজাউল করিম বাদশাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন জনমনে সবচাইতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর ছোট ভাই মোহনের রাজনৈতিক পরিচয় ও তাঁর আমলের অন্ধকার ইতিহাস। নিচে তাঁর রাজনৈতিক পদবী ও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো:

১. ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মঞ্জুরুল আলম মোহন গত ১৫ বছর বগুড়া জেলাকে নিজের ব্যক্তিগত জমিদারি হিসেবে পরিচালনা করেছেন। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন তাঁর ইশারা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না। সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ—সবই ছিল মোহনের ‘অপারেশন’ এর অংশ।

২. শত মায়ের আর্তনাদ ও খুনের রাজত্ব
মোহরের বিরুদ্ধে সবচাইতে বড় অভিযোগ হলো বিরোধী দল দমনে চরম বর্বরতা। তাঁর শাসনামলে:

গুম ও খুন: অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মীকে গুম এবং চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়।

মায়ের কান্না: বগুড়ার শত শত মা মোহনের বাড়ির সামনে ধর্ণা দিয়েছেন তাদের সন্তানের জীবনের বিনিময়ে, কিন্তু মোহনের কঠোর মনে বিন্দুমাত্র দয়া জাগেনি। অনেক মায়ের কোল খালি করার পেছনের নায়ক ছিলেন এই মোহন।

৩. পারিবারিক মর্যাদা হরণ ও নোংরা আচরণ
মঞ্জুরুল আলম মোহন কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করেননি, বরং তাদের পরিবারের মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেছেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে সম্মানিত পরিবারের নারীদের সম্মানহানি এবং মুরুব্বিদের জনসম্মুখে অপমান করা ছিল তাঁর নিত্যদিনের স্বভাব।

পারিবারিক গোপনীয়তা ভঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানোর মাধ্যমে তিনি অনেক পরিবারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।

৪. শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তিনি প্রতিটি জনসভায় অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আক্রমণ করতেন।

“তারেক রহমান সম্পর্কে মোহনের সেই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যগুলো আজও বগুড়ার মানুষের কানে বাজে। এখন তাঁরই ভাই রেজাউল করিম বাদশা যখন ধানের শীষ নিয়ে ভোট চাইতে আসবেন, তখন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করবে—যাদের পরিবার আমাদের নেতাকে গালি দেয়, তাদের আমরা কেন ভোট দেব?”

৫. ভাই-ভাই আঁতাত ও পরিবারতন্ত্র
বগুড়ার সচেতন মহল মনে করে, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি (রেজাউল করিম বাদশা) এবং বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (মঞ্জুরুল আলম মোহন)—এই দুই ভাইয়ের সমীকরণ আসলে এক বিশাল প্রতারণা। এই ‘ভাই-ভাই’ সম্পর্কের কারণে আওয়ামী লীগ আমলে বাদশা সুরক্ষিত ছিলেন, আর এখন বাদশার ছায়ায় মোহন আবারও ফিরে আসার ষড়যন্ত্র করছেন।

তৃণমূলের চূড়ান্ত দাবি:
বগুড়ার সাধারণ মানুষ মনে করে, মঞ্জুরুল আলম মোহন কেবল একটি দলের নেতা নন, তিনি এক পৈশাচিক অধ্যায়ের প্রতীক। তাঁর অপরাধের ফিরিস্তি এতোটাই দীর্ঘ যে, তাঁর পরিবারের কাউকে (রেজাউল করিম বাদশা) বগুড়ার অভিভাবক হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

জনগণ সরাসরি তারেক রহমানের কাছে প্রার্থনা করছে: > “মাননীয় নেতা, খুনি ও দুর্নীতিবাজ মোহনের পরিবারের হাত থেকে বগুড়াকে রক্ষা করুন। রেজাউল করিম বাদশাকে সরিয়ে কোনো সৎ ও ত্যাগী নেতৃত্বকে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন দিন।”


More News Of This Category

বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও কাস্টমস দেশের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এবং শত শত আমদানি-রপ্তানির চালান এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ, পূর্বে চালু থাকা কিছু স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্পট ট্যাক্স বন্ধ—কেন? স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে পণ্য জব্দ, জটিলতা কিংবা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন— স্পট ট্যাক্স বা তাৎক্ষণিক রাজস্ব আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থা কেন বন্ধ? এটি কি কোনো নতুন সরকারি নীতির অংশ, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? যদি নতুন নিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা জনসাধারণকে কেন স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি? রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার কার? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। উন্নয়নের ছোঁয়া কোথায়? বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী সীমান্তবন্দর হলেও অনেক যাত্রীর অভিযোগ, যাত্রীসেবার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিযোগ রয়েছে— লাগেজ স্ক্যানিং ও পরীক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষা। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। তথ্যকেন্দ্র ও নির্দেশনামূলক সাইনেজ অপ্রতুল। আধুনিক যাত্রীবান্ধব অবকাঠামোর ঘাটতি। অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা দুর্বল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার। যাত্রীর অভিজ্ঞতা: কেনাকাটার পর লাগেজ হয়রানির অভিযোগ সম্প্রতি এক যাত্রী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি ভারত সফরে গিয়ে প্রায় ১১,৬৯৩ ভারতীয় রুপির গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের কিছু পণ্য কেনেন। এর সঙ্গে ছিল কয়েকটি শাড়ি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তে কেনাকাটার রসিদ প্রদর্শনের পর কোনো জটিলতা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের পর তার সব লাগেজ খুলে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পরে শাড়ি নিয়ে আপত্তি তুলে কয়েকটি শাড়ি জব্দ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ যাত্রীরা যদি নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা না পান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যাত্রীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যাত্রীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এখন আলোচনায় এসেছে— বর্তমান ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী কতটি শাড়ি বা কী পরিমাণ পণ্য বৈধভাবে আনতে পারবেন? ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য এবং বাণিজ্যিক পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কি দৃশ্যমানভাবে চেকপোস্টে প্রদর্শন করা হয়েছে? কাস্টমস কর্মকর্তারা কি একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করছেন? জব্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি সচেতন নাগরিকদের মতে, যাত্রীদের সঙ্গে কাস্টমসের সম্পর্ক হওয়া উচিত সেবামূলক ও আইনসম্মত। এজন্য তারা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন— ব্যাগেজ রুলস বাংলা ও ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন। কোন পণ্যে কত শুল্ক বা কর প্রযোজ্য—তার তালিকা প্রকাশ। ডিজিটাল রসিদ ও অনলাইন শুল্ক পরিশোধ ব্যবস্থা চালু। অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। যাত্রীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাশা এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো মূলত যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। উপসংহার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট শুধু একটি সীমান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশের ভাবমূর্তির অন্যতম প্রবেশদ্বার। তাই রাজস্ব আদায়, যাত্রীসেবা, আইন প্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা—সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। যাত্রীদের হয়রানি কমিয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও স্বচ্ছ কাস্টমস ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের লক্ষ্য।

bdit.com.bd