• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ‘মেম্বার পার্টি’র তাণ্ডবের অভিযোগ: টিপসই দলিলে ১৮ হিন্দু পরিবার ও মন্দির উচ্ছেদের শঙ্কা ১৯ জুলাই রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সেই দেশপ্রেমিক প্রকৌশলী জুয়েলকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার অভিযোগ, নথিতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার তথ্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেধাস্বত্বের আন্তর্জাতিক কাঠামো, কৃষকের বীজ অধিকার ও জেনেটিক প্রযুক্তি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন—তবে বিতর্কিত দাবির সঙ্গে প্রমাণিত তথ্য আলাদা করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের UNGA-৮১ শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, শান্তি ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন সহযোগিতার অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শার্শায় আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের বিক্ষোভে মিছিল সহকারে অংশ নিল শার্শা উপজেলা ছাত্রদল আরাফাত রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ কোয়ার্টার ফাইনালে তুমুল উত্তেজনা, পেনাল্টি শুটআউটে রাহাত ট্রেডার্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সিংড়ায় বিএনপির কর্মীসভা পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতির পিতার ইন্তেকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অ্যাডমিন অফিসার হাজী মোঃ ওয়াহিদ উদ্দিন আহমেদ আর নেই শার্শায় রাতারাতি ‘বিএনপি’ পরিচয়ে সরকারি ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ শফিকুলের সারের ডিলারশিপ ঘিরে ১০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ; রাজনৈতিক পরিচয়, টিসিবি ডিলারশিপ ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রক্তচোষা দুর্নীতিবাজের খতিয়ান: ১৪তম গ্রেডের সচিব বারেকের শতকোটি টাকার ‘মধুচক্র’ ও তার অবধারিত পরিনতি

নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর / ১৩৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

 

রক্তচোষা দুর্নীতিবাজের খতিয়ান: ১৪তম গ্রেডের সচিব বারেকের শতকোটি টাকার ‘মধুচক্র’ ও তার অবধারিত পরিনতি
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | অপরাধ বিভাগ

সরকারি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা বিষধর সাপেদের একজন মীর আব্দুল বারেক। ইউনিয়ন পরিষদের একজন সাধারণ ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ যার পদমর্যাদা ১৪তম গ্রেডে, তার বেতন দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে গত এক দশকে তিনি গড়েছেন শতকোটি টাকার পাহাড়। সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক এই সচিব (বর্তমানে ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নে কর্মরত) ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিজেকে বানিয়েছেন কুবের।

স্বৈরাচারী শাসনের দোসর এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম সমরের ছায়াতলে থেকে বারেক যে তান্ডব চালিয়েছেন, তা কেবল দুর্নীতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

১. দুর্নীতির মহোৎসব: যেভাবে হলো শতকোটি টাকা
মীর আব্দুল বারেক ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করতেন। তার আয়ের প্রধান খাতগুলো ছিল এক একটি অপরাধের কারখানা:

লাইসেন্স ও সিন্ডিকেট বাণিজ্য: সাভারের শিল্পাঞ্চল থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা ও ঘুষ আদায়।

ভূমি দস্যুতা ও জালিয়াতি: প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং সরকারি খাস জমি নামে-বেনামে রেকর্ড করানো।

প্রকল্পের টাকা হরিলুট: টিআর, কাবিখা ও এডিপি’র বরাদ্দ করা অর্থ কাজ না করেই আত্মসাৎ।

২. অবৈধ সম্পদের বিবরণ: দুর্নীতির দৃশ্যমান দালিলিক প্রমাণ
চালচুলোহীন অবস্থা থেকে ১০ বছরে বারেকের অর্জিত সম্পদ কোনো রূপকথা নয়, বরং দুর্নীতির জীবন্ত প্রমাণ:

সাভারে অট্টালিকা: তেঁতুলঝোড়া এলাকায় চোখ ধাঁধানো ৫ তলা বহুতল ভবন।

জমির সাম্রাজ্য: নামে ও বেনামে অন্তত ২৫ শতাংশেরও বেশি বাণিজ্যিক ও আবাসিক জমি।

রাজধানীতে বিলাসিতা: কল্যাণপুরসহ ঢাকার অভিজাত এলাকায় একাধিক সুসজ্জিত ফ্ল্যাট ও প্লট।

গোপন তহবিল: বিদেশে অর্থ পাচার এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা সরানোর জোরালো অভিযোগ।

৩. আইনের শাসন ও বারেকের অবধারিত শাস্তি: জেল না ফাঁসি?
মীর আব্দুল বারেক যে অপরাধ করেছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাকে কঠিন চড়া মূল্য দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে নিচের আইনি ধারাগুলো প্রয়োগ হওয়া এখন সময়ের দাবি:

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২৭(১) ধারা): জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে তার ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (৪ ধারা): অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ স্থানান্তর বা পাচারের দায়ে তাকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডবিধি ১৬১ ধারা: সরকারি কর্মচারী হয়ে ঘুষ গ্রহণের দায়ে তাকে কঠোর কারাদণ্ড প্রদান করা হবে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮: এই বিধিমালার অধীনে তাকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্ত’ করা হবে এবং তার সকল পেনশন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল হবে।

৪. জনগণের কাঠগড়ায় বারেক ও তার দোসররা
স্বৈরাচারের তল্পিবাহক এই মীর আব্দুল বারেক ও তার গডফাদার ফখরুল ইসলাম সমরদের মতো কালপ্রিটরা দেশটাকে শ্মশানে পরিণত করেছে। তেঁতুলঝোড়া ও কুল্লা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবি—শুধু বদলি বা বরখাস্ত নয়, বারেককে হাতকড়া পরিয়ে জনসমক্ষে বিচার করতে হবে। তার অবৈধ অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে সাধারণ মানুষের সেবাকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

শেষ কথা: দুর্নীতিবাজদের কোনো ক্ষমা নেই। মীর আব্দুল বারেকের মতো ‘পকেটমার’ সচিবদের শেকড় উপড়ে ফেলার সময় এসেছে। প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই উইপোকাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে দেশবাসী।

বারেক সিন্ডিকেটের আরও গোপন আস্তানা এবং বেনামি সম্পদের তালিকা নিয়ে আমাদের পরবর্তী পর্ব আসছে। সাথে থাকুন।


More News Of This Category
bdit.com.bd