বেসিসকে ঘিরে বিরোধ, রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন আলোচনা; বিভিন্ন নথি ও জিডির তথ্য সামনে
বিশেষ অনুসন্ধান | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম ব্যবসায়িক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস—বেসিসকে ঘিরে পেশাজীবী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলী মোঃ জুয়েলের রাজনৈতিক পরিচয়, বেসিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা নানা বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের প্রকাশিত একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, প্রকৌশলী মোঃ জুয়েলকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগ’ পরিচয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পোস্টটিতে তাঁর দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বেসিস-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৌশলী জুয়েলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত রাজনৈতিক পরিচয়-সংক্রান্ত অভিযোগ কিংবা তাঁকে ঘিরে কথিত ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে নয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও উপস্থাপিত নথির আলোকে দেখা প্রয়োজন।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জুয়েলের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার দাবি
উপস্থাপিত নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী ঘরানার বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সাইবারভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২০২৯-এর আংশিক প্যানেল-১-এ জুয়েলকে সহ-সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়।
এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের অনুমোদিত প্রথম কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের তথ্যও প্রতিবেদনের উপকরণে রয়েছে।
এগুলো ছাড়াও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা কমিটিতে তাঁর সদস্য হিসেবে কাজ করার তথ্য খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব পদ ও দায়িত্বের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মূল অনুমোদনপত্র বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা এই প্রতিবেদনের আওতায় সম্ভব হয়নি।
বেসিসকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত কোথায়
প্রকৌশলী জুয়েল বেসিসের দীর্ঘদিনের সদস্য—এমন দাবি করা হয়েছে উপস্থাপিত নথিতে। খসড়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে সংগঠনটির সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেসিসের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ও সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তাঁর পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বেসিসের কিছু কর্মকাণ্ড ও পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ ও হুমকির মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার একটি সাধারণ ডায়েরির তথ্যও প্রতিবেদনের উপকরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে কী বলা হয়েছিল
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ১৪৪৭ নম্বর সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
খসড়ায় দাবি করা হয়েছে, বেসিস-সংক্রান্ত বিরোধের জজেরে কয়েকজন ব্যক্তি প্রকৌশলী জুয়েলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন করা, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং তাঁকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে কোনো জিডি বা অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে উত্থাপিত বক্তব্যকে আদালতের রায় বা তদন্তে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
বেসিসের সহায়ক কমিটিতে জুয়েলের অন্তর্ভুক্তির দাবি
প্রকৌশলী জুয়েলের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নথির মধ্যে বেসিসের কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার আরও কিছু তথ্য রয়েছে।
খসড়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি নোটিশের উল্লেখ করা হয়েছে। স্মারক নম্বর ১০৬৩৬/২৬ হিসেবে উল্লেখিত ওই নথি অনুযায়ী বেসিসের নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত সাত সদস্যের একটি সহায়ক কমিটিতে জুয়েলকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
খসড়ায় তাঁকে ওই কমিটির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নথিটির পূর্ণাঙ্গ কপি ও সরকারি ওয়েবসাইটের স্বাধীন যাচাই ছাড়া এর প্রতিটি বিবরণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া এর আগে বেসিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত একটি ১০ সদস্যের সহায়ক কমিটিতেও তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
‘আওয়ামী ট্যাগ’ দেওয়ার অভিযোগ কেন উঠছে
প্রকৌশলী জুয়েলকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও তাঁর পক্ষের বক্তব্য থেকে সামনে এসেছে।
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বেসিস ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধের কারণে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে জুয়েলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।
তাঁর পক্ষের বক্তব্য হলো, দীর্ঘদিন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত সম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় পদ, সাংগঠনিক নথি, প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং স্বাধীন প্রমাণ—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্টের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট নয়।
উপস্থাপিত নথিতে যে তথ্যগুলো রয়েছে
প্রকৌশলী জুয়েলকে ঘিরে উপস্থাপিত তথ্যগুলোকে মোটামুটি কয়েকটি ভাগে দেখা যায়—
প্রথমত, জাতীয়তাবাদী সাইবার দল ও জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে তাঁর সম্পৃক্ততার দাবি।
দ্বিতীয়ত, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার দাবি।
তৃতীয়ত, বেসিসের কার্যক্রম ও পরিচালনা নিয়ে তাঁর আপত্তি এবং এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য।
চতুর্থত, ২০২৪ সালের একটি সাধারণ ডায়েরিতে হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ থাকার দাবি।
পঞ্চমত, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেসিসের সদস্য যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত একটি সহায়ক কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তির দাবি।
এই তথ্যগুলো প্রকৌশলী জুয়েলের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নথি ও বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি ও সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের মূল নথি ও বক্তব্য পাওয়া গেলে তথ্যগুলো আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, প্রয়োজন স্বাধীন যাচাই
একজন পেশাজীবীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা নিরসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রামাণ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ের দলীয় পদ, কমিটির অনুমোদন, প্রকাশ্য কর্মসূচি এবং দলীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা যেতে পারে। একইভাবে কাউকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করা হলেও তার পক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি ও প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রকৌশলী জুয়েলের ক্ষেত্রে উপস্থাপিত নথিগুলো তাঁর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি-সংগঠনভিত্তিক কর্মকাণ্ডের দাবি সমর্থন করার মতো তথ্য সামনে আনছে। তবে এর ভিত্তিতে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবকিছু সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
বেসিসের বিরোধের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক কতটা?
এই প্রশ্নটিই বর্তমানে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
জুয়েলের পক্ষের বক্তব্যে বেসিসের কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর বিরোধকে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর পেছনে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে—এমন দাবিও করা হয়েছে।
তবে কারও বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট’, ‘দুর্নীতি’, ‘লুটপাট’ বা ‘চক্রান্তের’ মতো গুরুতর অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে নির্দিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের নথি অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
সুতরাং এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ
বেসিসের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে, সেসব বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়নি।

একইভাবে প্রকৌশলী জুয়েলকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার যে অভিযোগ তাঁর পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সেই অভিযোগের সুনির্দিষ্ট উৎস, দাবির পক্ষে থাকা নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
প্রকৌশলী মোঃ জুয়েলকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে বেসিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগও জড়িয়ে পড়েছে।
উপস্থাপিত নথি ও তথ্য অনুযায়ী, জুয়েলের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার একাধিক দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে বেসিসের কার্যক্রম নিয়ে তাঁর আপত্তি, থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং বিভিন্ন সহায়ক কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তির কথাও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, তাঁকে ‘আওয়ামী লীগ’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও বর্তমানে মূলত সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। এ অভিযোগের সত্যতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও স্বাধীন ও প্রামাণ্য যাচাই প্রয়োজন।
তাই বেসিস, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রকৌশলী মোঃ জুয়েলের বক্তব্য—সব পক্ষের তথ্য সামনে এলে পুরো বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।