পিপিএম-সেবা পদকে সম্মানিত রাজশাহী পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ
আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো:
সাহস, পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)’ পেয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি তাঁদের পদক পরিয়ে দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, পেশাগত দক্ষতা ও নিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে সাফল্য, জননিরাপত্তা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)’ প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এ সম্মাননা পাওয়ার খবরে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, পেশাগত নিষ্ঠা এবং জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
রাজশাহী রেঞ্জে গৌরবের অর্জন
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদের পিপিএম-সেবা পদকপ্রাপ্তিকে রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যরা বিশেষ সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখছেন। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটের নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় এ স্বীকৃতি তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের একজন ইউনিট প্রধানের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অধীনস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নেও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ডিআইজি আশিক সাঈদের পদকপ্রাপ্তি রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নগর পুলিশের জন্যও সম্মান
একইভাবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএমের রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) অর্জনকে নগর পুলিশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরএমপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের পুলিশি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিট প্রধান হিসেবে কমিশনারের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পদকপ্রাপ্তি আরএমপির কর্মকর্তা ও সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
যে অবদানের স্বীকৃতিতে পিপিএম-সেবা
পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিপিএম-সেবা পদক প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাগত কর্মকাণ্ড ও দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, পেশাগত দক্ষতা ও নিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে সাফল্য, জননিরাপত্তা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ড অন্যতম।
২০২৫ সালের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এসব ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরকে এ রাষ্ট্রীয় পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহের প্রত্যাশা
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনিট প্রধান পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে উৎসাহ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে পেশাগত দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও জনসেবার মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্বীকৃতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজশাহী রেঞ্জ ও আরএমপির দুই শীর্ষ কর্মকর্তার এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তাঁদের অধীনস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিগুলোর একটি। দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তাদের এ ধরনের সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
রাজশাহী পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার একই সঙ্গে এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জনে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।