বেনাপোলে পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা: সন্ত্রাসী জুয়েলের হুমকির প্রতিবাদে মালিক সমিতির আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | বেনাপোল তারিখ: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্যের নিরাপত্তা এবং ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় এক নেতার প্রশ্রয়ে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্তৃক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রতিবাদে এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংগঠনের ঐতিহ্য
বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি এবং ট্রাক মালিক সমিতির যৌথ সমন্বয়ে একটি বিশেষ ‘নাইট গার্ড’ ইউনিট গঠিত হয়। সংগঠনটির সৃষ্টিলগ্ন থেকেই অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা তদারকি করে আসছে এই সমন্বিত কমিটি।
সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ও দখলদারিত্বের অপচেষ্টা
সম্প্রতি বড় আঁচড়া গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী জুয়েল, স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার সরাসরি মদদে বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে জনসম্মুখে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জুয়েল তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে উক্ত হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নে প্রবেশ করে এবং ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বাধীন সংগঠনটি জোরপূর্বক দখলের হুমকি প্রদান করে। তাদের মূল লক্ষ্য নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল এবং বন্দরের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার ও অপপ্রচার
সন্ত্রাসী হুমকির বিষয়টি জানতে পেরে বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সভাপতি একেএম আতিকুজ্জামান সনি বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে জুয়েলকে ফোন করেন। অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাংগঠনিকভাবে কথা বললেও, সন্ত্রাসী জুয়েল তার নেতার ইন্ধনে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার শুরু করে।
সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি অভিযোগ করেন যে, তার ফোনালাপকে এআই (Artificial Intelligence) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এডিট ও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত তার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এই ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি
সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে একেএম আতিকুজ্জামান সনি বলেন:
“আমরা বন্দরে বাণিজ্যিক পরিবেশ শান্ত রাখতে কাজ করছি। কিন্তু সন্ত্রাসী জুয়েল ও তার নেপথ্যের কুশীলবরা যে নোংরা খেলায় মেতেছে, তা বরদাশত করা হবে না। আমার ফোনালাপ বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা কোনো সন্ত্রাসীর কাছে মাথানত করবে না।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট দাবি
ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
সভাপতি সনির বিরুদ্ধে এডিট করা অডিও ছড়ানোর দায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রকারী সন্ত্রাসী জুয়েল ও তার মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার।
ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত রাখতে মালিক সমিতিকে প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয় যে, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বন্দরের সাধারণ ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতি বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
তথ্যসূত্র : বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি।