নরসিংদীর শিবপুরে অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ১৭ মামলার আসামি গ্রেফতার, আদালত থেকে পলায়ন আরেক আসামির
রিপোর্ট: মোঃ কামাল হোসেন প্রধান, জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী
তারিখ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
নরসিংদী জেলার শিবপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত মোট ১৭টি মামলার পলাতক আসামি আমিন সরকার ওরফে আমিন ডাকাত এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদিকে, একই দিনে নরসিংদী জেলা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যায় এক চুরি মামলার আসামি।
শিবপুরে ১৭ মামলার আসামি গ্রেফতার
শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসাইন সকালে সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবপুর উপজেলার গোবিন্দ গ্রামে অভিযান চালিয়ে আমিন সরকার ও তার সহযোগী মঞ্জুকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
আমিন সরকার (২৮), ওরফে আমিন ডাকাত, পিতা: মেজবাহ উদ্দিন (ওরফে মেসো ডাকাত), গোবিন্দ গ্রাম, শিবপুর।
মঞ্জু (৩৪), পিতা: মেনু মিয়া, করাইকান্দি গ্রাম, নান্দাইল থানা, ময়মনসিংহ।
পুলিশ জানায়, আমিন ডাকাত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল এবং একাধিক জেলায় ডাকাতি, অস্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। গোপনে নিজ বাড়িতে বসে বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা করছিলেন তারা। অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালতের কাঠগড়া থেকে পালালো চুরি মামলার আসামি
অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে নরসিংদী জেলা জজ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এক নাটকীয় পলায়নের ঘটনা ঘটে। রিয়াজুল ইসলাম ওরফে হৃদয় (২৫), পিতা: দানা মিয়া, গ্রাম: বালুয়াকান্দি, রায়পুরা—একটি অটোরিকশা চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিল।
ঘটনার সময় আদালতের এজলাসে লোডশেডিং চলছিল, যা কাজে লাগিয়ে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাঠগড়া থেকে নেমে চুপিসারে পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাইরুল ইসলাম জানান, আসামি রিয়াজুল গত ৭ জুলাই রায়পুরা থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়। তার পালিয়ে যাওয়ার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণ এবং আশপাশে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। কোর্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল তাকে পুনরায় গ্রেফতারের জন্য চলমান অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
—
বিশেষ মন্তব্য:
নরসিংদীতে একই দিনে একাধিক অপরাধীর গ্রেফতার এবং একটি দৃষ্টিকটু নিরাপত্তা ব্যর্থতা প্রমাণ করছে—একদিকে পুলিশের সফলতা, অন্যদিকে দুর্বল প্রহরার বাস্তবতা। এই ধরনের ঘটনা বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস করতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা।