আদালত চত্বরে দুই কাজিকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করলেন নারী, অভিযোগে উঠে সাবেক মেয়রের অনুসারীর নাম
ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ প্রতিবেদক
রাজশাহী | ১৪ জুলাই ২০২৫
রাজশাহী আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুইজন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজি) শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন এক নারী — মোসাঃ মুনিয়া আফরোজ মনি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি দুই কাজিকে মারধর ও গালিগালাজ করেছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা আমলি আদালতের মূল ফটকের সামনে এই অপ্রত্যাশিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
লাঞ্ছিত দুই কাজি: শাওন ও মোস্তফা
ভুক্তভোগী কাজী মোঃ মোকাদ্দিম হোসেন শাওন ও কাজী মোঃ মোস্তফা হোসেন দাবি করেন, মুনিয়া আফরোজ হঠাৎ করে চিৎকার করতে শুরু করেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে তিনি কাজী শাওনকে সবার সামনে থাপ্পড় ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সম্পর্ক, বিয়ে ও মামলা
কাজী শাওনের ভাষ্যমতে, মুনিয়া আফরোজের সঙ্গে তার পূর্বে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যা বিবাহ বহির্ভূত ছিল। পরবর্তীতে কাজী মোস্তফা হোসেনের মাধ্যমে তিনি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু সেই বিয়ে নিয়ে শুরু থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
বর মোস্তাফিজুর রহমান গত ১ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন— বিয়ে তাকে জোরপূর্বক করানো হয়েছে এবং এতে কাজী শাওন ও মোস্তফা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
প্রতারণার অভিযোগ মুনিয়ার
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নারী মুনিয়া আফরোজ দাবি করেছেন, “দুই কাজি আমাকে প্রতারণা করেছে। তারা দেনমোহরের ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে আমাকে ফাঁদে ফেলেছে। আপসের জন্য চাপ দিচ্ছে, আমি রাজি না হলে শাওন আমাকে লাথি মারে।”
তাঁর ভাষ্যমতে, বিয়ে পরবর্তীকালে তাকে জোর করে কিছু কাগজে সই করানো হয় এবং দেনমোহর সম্পর্কেও মিথ্যাচার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য
ঘটনার সময় উপস্থিত আইনজীবী, সাধারণ জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন। তবে মারধরের পর পরিস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিকী বলেন, “আদালত চত্বরে এমন ঘটনা দুঃখজনক। আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
—
আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা শুধু কাজীদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে নয়, বরং নারী অধিকার, জোরপূর্বক বিয়ে, দেনমোহরের টাকা এবং আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।
পরিশিষ্ট
এখন প্রশ্ন হলো — একজন নারী যদি সত্যিই প্রতারিত হন, তবে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কী? আর যদি কেউ আদালত চত্বরে আইন নিজের হাতে তুলে নেন, তবে সেটির পরিণামই বা কী হবে?
সুস্পষ্ট তদন্ত না হলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ আরও বাড়বে — যা আদালতের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
–
[এই প্রতিবেদনটি ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে প্রস্তুত]
আপনারা সত্য জানুন, সচেতন থাকুন।
#WithTheTruth #WithBangladesh