রাজউকের রুদ্রমূর্তি: অপরাধী সিন্ডিকেটের ‘কলিজা’ কাঁপানো হুঙ্কার!
চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের জিরো টলারেন্স: নকশা জালিয়াতি ও অবৈধ দখলে সরাসরি জেল-জরিমানা
বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন | ঢাকা
রাজধানীর আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলোর আড়ালে যারা এতদিন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছিল, তাদের সাম্রাজ্যে এখন আতঙ্কের কম্পন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—পরিকল্পনাহীন নগরায়ন আর দুর্নীতির দিন শেষ। এবার আর শুধু শোকজ নয়, সরাসরি উচ্ছেদ, সম্পত্তি ক্রোক এবং শ্রীঘর হবে অপরাধীদের শেষ ঠিকানা।
১. নকশাবহির্ভূত ভবন ও অবৈধ স্থাপনা: বুলডোজারের মুখোমুখি
অনুমোদিত নকশার বাইরে এক ইঞ্চি পরিমাণ বারান্দা বা অতিরিক্ত তলা যারা বাড়িয়েছেন, তাদের জন্য রাজউকের বর্তমান প্রশাসন কোনো সমঝোতায় বিশ্বাসী নয়।
শাস্তির বিধান: ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ অনুযায়ী নকশা বহির্ভূত বা নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ করলে অনধিক ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং মোটা অংকের অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া রাজউক কোনো নোটিশ ছাড়াই পুরো ভবন বা অবৈধ অংশটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
প্রশাসনের আওতা: রাজউকের নিজস্ব ভ্রাম্যমাণ আদালত, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২. ড্যাপ (DAP) লঙ্ঘন ও জলাশয় দখল: কঠোর শাস্তির ফাঁদ
ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (২০২২-২০৩৫) অমান্য করে যারা জলাশয় ভরাট করে প্লট বিক্রির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন ডিরেক্ট’ শুরু হয়েছে।
শাস্তির বিধান: পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট করলে অপরাধীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। উচ্ছেদের যাবতীয় খরচও অপরাধীর পকেট থেকে আদায় করা হবে।
প্রশাসনের আওতা: রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়।
৩. আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার: সিলগালা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন
আবাসিক প্লটে যারা অবৈধভাবে হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা কেমিক্যাল গোডাউন খুলে জনজীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান।
শাস্তির বিধান: রাজউক প্রবিধানমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য দৈনিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। রাজউক সরাসরি প্রতিষ্ঠানটি ‘সিলগালা’ করার ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।
প্রশাসনের আওতা: রাজউক জোন অফিসার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ।
৪. রাজউকের অন্দরে ‘শুদ্ধি অভিযান’: ঘরশত্রু বিভীষণদের রেহাই নেই
বাইরের অপরাধীদের আগে ভেতরের ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের ধরছেন চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম।
শাস্তির বিধান: ঘুষ ও ফাইল জালিয়াতির প্রমাণ পেলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ৪৭ ধারায় স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি ক্রোক করা হবে এবং তাৎক্ষণিক চাকরি থেকে বহিষ্কারসহ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
প্রশাসনের আওতা: দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এক নজরে অপরাধ ও দণ্ডবিধি
অপরাধের ধরণ প্রয়োগকৃত আইন সর্বোচ্চ শাস্তি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন
নকশা বহির্ভূত নির্মাণ ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ ৭ বছরের জেল ও উচ্ছেদ রাজউক ও পুলিশ
জলাভূমি ভরাট পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ১০ বছরের জেল ও জরিমানা পরিবেশ অধিদপ্তর
নকশা জালিয়াতি দণ্ডবিধি ৪২০/৪৬৭ ধারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (ভয়াবহতায়) দুদক ও আদালত
আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক রাজউক প্রবিধানমালা সিলগালা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন তিতাস ও ডেসকো
চেয়ারম্যানের হুঁশিয়ারি:
“কোনো রাজনৈতিক তদবির বা প্রভাবশালী মহলের চাপ আর কাজ করবে না। ঢাকা শহরকে যারা বিষিয়ে তুলছেন, তারা রাষ্ট্রের শত্রু। হয় আইনের পথে ফিরুন, নয়তো কঠোর সাজার জন্য প্রস্তুত হোন।”
উপসংহার:
চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের এই ‘রণকৌশল’ কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়, এটি একটি জাতীয় শুদ্ধি অভিযান। যার ‘কলিজা বড়’ সে আইন মানবে, আর যে আইন ভাঙবে তার ‘কলিজা কাঁপতে’ বাধ্য—এই দর্শনেই এখন পরিচালিত হচ্ছে রাজউক।