• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা–আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ” আরএমপিতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংবাদ দমনের চেষ্টা

পাভেল ইসলাম মিমুল নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৪২ Time View
Update : রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা–আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ”
আরএমপিতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংবাদ দমনের চেষ্টা

১৮-০১-২০২৬

পাভেল ইসলাম মিমুল নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত এক হেডমোহরারের বিরুদ্ধে বদলির লিখিত আদেশ অমান্য করে সদর দপ্তরে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন এবং তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগটি ইতোমধ্যে মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দাখিল করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারী মোঃ পাভেল ইসলাম মিমুল জাতীয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান, জাতীয় দৈনিক যায়যায়কাল-এর উত্তরবঙ্গের প্রধান প্রতিবেদক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) কার্যালয়ে কর্মরত হেডমোহরার কাজী মো. শাহ আলমকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বদলি করা হয়। তবে সরকারি ওই আদেশ উপেক্ষা করে তিনি নিয়মিতভাবে আরএমপি সদর দপ্তরেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও প্রত্যক্ষ তথ্যে জানা গেছে।

বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিধিভঙ্গের একাধিক তথ্য উঠে আসে, যা জনস্বার্থে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার আলোকে এসব সংবাদ প্রকাশ করা হলেও অভিযোগ অনুযায়ী এর প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট হেডমোহরার সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি সকালে হেডমোহরার কাজী মো. শাহ আলম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭১৫-৩১৯২১৯ থেকে ফোন করে অভিযোগকারী সাংবাদিককে স্পষ্টভাবে জানান, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ বন্ধ না হলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য কর্তৃক এ ধরনের হুমকি প্রদানকে আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক মহল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকাশ্য অপব্যবহার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর বাধা হিসেবে দেখছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কাজী মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এবং আদালতের স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও এবং বদলির আদেশ অমান্য করে তিনি কীভাবে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরেও অসন্তোষ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কোনো পুলিশ সদস্য বদলির আদেশ অমান্য করলে বা সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তা সরাসরি গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তরের অবস্থান শূন্য সহনশীল। লিখিত অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সাংবাদিক সমাজের মতে, পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে কেউ যদি সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশ্রয় নেয়, তবে তা শুধু একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। অভিযোগের পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনিয়ম আড়াল করার প্রবণতা আরও উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


More News Of This Category
bdit.com.bd