সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক চক্রের সক্রিয়তা
লালটু–মনিরুলকে ঘিরে গাঁজা ও অন্যান্য মাদক কারবারের অভিযোগ
যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের ধান্যখোলা এলাকাকে কেন্দ্র করে সীমান্তপথে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ধান্যখোলার মনিরুল এবং লালটু নামে পরিচিত এক ব্যক্তি।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, মনিরুল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথ ব্যবহার করে গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে সরবরাহ করে আসছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লালটু নামে পরিচিত ব্যক্তি ভারতের বনগাঁ শহরে বসবাস করেন এবং সীমান্তের ওপারে অবস্থান করায় মাদক চোরাচালানে সুবিধা পান। স্থানীয়দের দাবি, এই লালটুর মাধ্যমেই বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মনিরুলের কাছে পাঠানো হয় এবং পরে সেগুলো যশোরসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ ডিসেম্বর যশোরে আটক হওয়া এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীর কাছ থেকে যে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, সেটির যোগান এই চক্র থেকে এসেছে—এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। যদিও এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুলের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসার কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া হবে এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।