ওলামালীগ নেতা শরীয়তপুরীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: ছাত্র হত্যা মামলা ও যৌন নিপীড়নে জড়িত থাকার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরীর বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা মামলা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চরবৃত্তি এবং ভুয়া কাবিননামার মাধ্যমে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নসহ অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মানববন্ধনের ছবি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ভুয়া কাবিননামা ও ব্ল্যাকমেইল সিন্ডিকেট
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মাওলানা শরীয়তপুরী শাহবাগের তোপখানা রোডে অবস্থিত একটি অবৈধ কাজী অফিসের মাধ্যমে দীর্ঘ বছর ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কাজী মো: সামছুল হকের সহকারী হিসেবে ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অসংখ্য ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি হলো, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের জিম্মি করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেন। পরবর্তীতে এসব ভুয়া কাবিননামায় ছাত্রীদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন চালাতেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ
আওয়ামী ওলামালীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে প্রভাবশালী এই ব্যক্তি নিজেকে ‘ফ্যাসিবাদ’ এর কট্টর সমর্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চর হিসেবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়া গত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তিনি অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি।
তদন্তের দাবি
তার অফিসের ঠিকানা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে— ২৭/৮-এ তোপখানা রোড (২য় তলা), নূর মসজিদের দক্ষিণে, শাহবাগ, ঢাকা। স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীদের দাবি, উক্ত অফিসের ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রি বা বালাম বহি যাচাই করলে অসংখ্য ছাত্রীর জীবন ধ্বংসের প্রমাণ পাওয়া যাবে।
একজন ধর্মীয় লেবাসধারী নেতার এমন ঘৃণ্য অপরাধের তথ্য ফাঁস হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অবিলম্বে এই ‘ভণ্ড’ নেতার গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।