প্রকাশের তারিখ: ২ জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে দালালমুক্ত নতুন যুগ: প্রশাসনের প্রশংসনীয় পদক্ষেপে যাত্রাসেবা এখন শৃঙ্খলিত ও নিরাপদ
দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে এখন নতুন বাস্তবতা — দালালমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, ও উন্নত সেবার শৃঙ্খলা। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস যৌথভাবে এ চেকপোস্টে এমন পরিবেশ গঠনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যার বাস্তব প্রমাণ মিলছে প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রীর নির্বিঘ্ন যাতায়াতে।
প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এখন পুরোপুরি দালালমুক্ত
দালাল ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন, সিসি ক্যামেরা এবং নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থা।
বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে — পাসপোর্টধারী বৈধ যাত্রী ব্যতীত কেউই চেকপোস্টে প্রবেশ করতে পারবে না। নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযানে কোনো দালাল টার্মিনালে ঢুকতে পারছে না। এ উদ্যোগে দালালচক্র কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
👮ইমিগ্রেশন পুলিশ ওসি সন্তুর দক্ষ নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা এখন শক্ত অবস্থানে
বেনাপোল ইমিগ্রেশন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সন্তু সাহেব এর নেতৃত্বে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে চলছে নজিরবিহীন আইনশৃঙ্খলা।
নিয়মভঙ্গ, সিরিয়াল লঙ্ঘন, অথবা যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ এখন অতীত। যাত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য, দ্রুত সেবা ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করেছেন ওসি সন্তু — যা সাধারণ নাগরিকের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
ছয় মাসে ১ লাখ যাত্রী, রাজস্ব আয় ১০ কোটি টাকা
গত ৬ মাসে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছেন প্রায় ১ লাখ যাত্রী, প্রতিদিন গড়ে ৮০০-১০০ হাজার। যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেবার মানে কমতি নেই।
বিদেশগামী যাত্রীদের ভ্রমণ কর বাবদ সরকার আয় করেছে ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সুশৃঙ্খল সেবা শুধু নাগরিকদেরই সুবিধা দিচ্ছে না — রাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও দিচ্ছে অবদান।
লাগেজ পার্টি ও হকারদের চিরতরে বিদায়
দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ ছিল তথাকথিত ‘লাগেজ পার্টি’ ও অনুপ্রবেশকারী হকারদের দৌরাত্ম্য। বর্তমানে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে এদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ফলে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এখন পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক ও নিয়ন্ত্রিত — যেখানে যাত্রীরা নিজেদের প্রয়োজনে নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারছেন।

কাস্টমস সুপারদের কার্যকর তদারকিতে দ্রুত পদ্ধতি
জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল গনি — এই দুই কাস্টমস সুপার কর্তব্যরত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন আন্তরিকভাবে। পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ছাড়াই দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হচ্ছে, যা আগে ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল।
—
শৃঙ্খলা ও নিরপত্তার জন্য বহুমাত্রিক ব্যবস্থাপনা
এখন টার্মিনালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য, আর্মড ব্যাটালিয়ন, এবং গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত তদারকি চলছে। বাইরে দাঁড়িয়ে দালালদের যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও বন্ধ। এমনকি পাসপোর্ট দেখিয়েও যদি কেউ সিরিয়াল ভেঙে ঢুকতে চায় — সঙ্গে সঙ্গেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।
—
✈যাত্রীরা নিজেরাই করায় দায়িত্বের সচেতনতা বেড়েছে
বর্তমানে যাত্রীরা নিজেরাই অনুধাবন করছেন, হয়রানি নয় বরং আত্মমর্যাদা নিয়ে যাত্রা করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে নিজের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন তারা — যা দালালনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট নিদর্শন।
উপসংহার: প্রশাসনিক সাফল্যেই তৈরি হয়েছে আস্থার বাতিঘর
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যেটা সম্ভব হয়েছে তা শুধুই প্রশাসনের দৃঢ় মনোভাব, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল আচরণের কারণে। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের প্রতিটি স্তরে এখন স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা চালু রয়েছে।
বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর ওসি সন্তু সাহেবের নেতৃত্বে যে নিরাপত্তা ও মানবিকতা-সম্বলিত সেবাপদ্ধতি গড়ে উঠেছে, তা দেশের অন্যান্য বর্ডার চেকপোস্টগুলোর জন্যও উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে নিঃসন্দেহে।