টিফিনের পর বিদ্যালয় ফাঁকা, তালাবদ্ধ প্রধান ফটক ও শ্রেণিকক্ষ; নির্ধারিত সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি না পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ
মোঃ আব্দুর রব মনসুর,
কাজিপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরপাড় খুকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিনের পর পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় বিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকসহ সবকটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারার বাড়ি স্কুলের পাশেই অবস্থিত।
এ সময় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রওশনারা উপস্থিত হয়ে জানান, দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত টিফিনের বিরতি থাকে। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন।
তবে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের পরও সরেজমিনে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে টিফিনের বিরতির সময়সীমা এবং বাস্তবে পাঠদান কার্যক্রম শুরুর সময় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট ও উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট পাঁচজন শিক্ষক পদায়িত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং অন্য একজন ঐচ্ছিক ছুটিতে রয়েছেন। সে হিসাবে বাকি তিনজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শনের সময় তাঁদের কাউকেই বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বার্থে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইদ বলেন, টিফিনের পর বিদ্যালয় বন্ধ রাখা এবং শিক্ষকদের অনুপস্থিত থাকা গুরুতর অনিয়মের শামিল। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদান নিশ্চিত করা শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব। টিফিনের বিরতির নামে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এখন স্থানীয় অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলও জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।