• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট নারীর মেসেঞ্জারে পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানোর অভিযোগ মোঃ দিদারের বিরুদ্ধে, সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা, মালিকানা ও ট্রাস্ট নিয়ে পুরোনো বিরোধ: ২০১৪ সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে একাধিক গুরুতর অসংগতি ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বন্ধে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদক-সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে ফখরুল ইসলাম এমপির আহ্বান হাতিয়ায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: যুব র‍্যালি, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৮ মামলার বাধা পেরিয়ে এবার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশায় দুলাল সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: এমপি নূরুল ইসলাম নয়ন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ: ২৪ ঘণ্টার আইনি আলটিমেটাম, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে সতর্ক করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী

নারী সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা: ৩টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামিকে মুক্ত ছেড়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নাজমুল হাসান চীফ ইন এডিটর / ৪৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

কুমিল্লা বিচারালয়ের এজলাসে নারী সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা: ৩টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামিকে মুক্ত ছেড়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
বিশেষ অনুসন্ধানী ডেস্ক:

আইনের শাসন, বিচারালয়ের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে। এজলাস কক্ষেই বিচারকের উপস্থিতিতে মামলার শুনানিকালে বাদী—জাতীয় দৈনিক ‘বাংলার নবকণ্ঠ’-এর স্টাফ রিপোর্টার সালমা আক্তারের ওপর মারাত্মক অতর্কিত হামলা ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়—আসামি শাহনাজ আক্তার সুমনার বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant) বহাল থাকা এবং একই এজলাসে পর্নোগ্রাফি আইন সহ গুরুতর ধারার জি.আর মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও, বাদীর আইনজীবী জামিন বাতিলের সুনির্দিষ্ট আবেদনের পর আসামি বিচারিক হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় পুরো কুমিল্লা বিচারালয় প্রাঙ্গণ ও সাংবাদিক সমাজে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও সরেজমিন তথ্য
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:৩০ মিনিটে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত, কুমিল্লার বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জনাবা আবিদা সুলতানা মলির এজলাসে সি.আর দ্রুত বিচার মামলা নং- ৩৭/২৪-এর নির্ধারিত হাজিরা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

মামলার বাদী সাংবাদিক সালমা আক্তার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। এজলাসে বিচারিক কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই উক্ত মামলার বিবাদী শাহনাজ আক্তার সুমনা বিনা উস্কানিতে বাদী সালমা আক্তারের ওপর অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে শারীরিক আক্রমণ চালান। মারপিটের এক পর্যায়ে সাংবাদিক সালমা আক্তার রক্তাক্ত জখম হন। আদালতের পুলিশ, উপস্থিত আইনজীবী ও অন্যান্য বিচারপ্রার্থীরা তাৎক্ষণিক এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

⚖ আইনি মারপ্যাঁচ ও আসামির অপরাধের খতিয়ান
অনুসন্ধানে দেখা যায়, হামলাকারী আসামি শাহনাজ আক্তার সুমনা কোনো সাধারণ বিবাদী নন; বরং তিনি একাধিক গুরুতর অপরাধের পরোয়ানাভুক্ত আসামি। ভুক্তভোগী ও আইনি সূত্র মতে, তার বিরুদ্ধে নিচের মামলাগুলোতে আদালত কর্তৃক ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (CW) বলবৎ রয়েছে:

ক্র. নং মামলা নম্বর ও থানা আইনের ধারা ও অপরাধের প্রকৃতি পরোয়ানা ও বর্তমান অবস্থা
১ সি.আর ১১৫২/২৫ ইং (দাউদকান্দি থানা) দণ্ডবিধি ৩৮০/৪৪৫/৫১১/৩৪ ধারা (চুরি, অনধিকার গৃহপ্রবেশ ও অপরাধমূলক প্রচেষ্টা) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (CW) বলবৎ
২ সি.আর ৯৮০/২৪ ইং (কুমিল্লা) দণ্ডবিধি ৩৮০/৪৫৪/৩৪ ধারা (গৃহভেদ ও চুরি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (CW) বলবৎ
৩ জি.আর ৪২০/২৬ (কোতয়ালী থানা, ১নং আমলী আদালত) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর ৮(১)(২)(৩) ধারা ও দণ্ডবিধি এফআইআর রুজু ও বিচার চলমান
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যে এজলাসে ঘটনা ঘটেছে, সেই একই ১নং আমলী আদালতে আসামির বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে জি.আর ৪২০/২৬ মামলা প্রক্রিয়াধীন। তা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বাদীকে এজলাসে পেটানো এবং একাধিক পরোয়ানা থাকার বিষয়টি নজরে আনার পরও আসামিকে পুলিশ হেফাজতে না পাঠিয়ে মুক্ত ছেড়ে দেওয়া নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সালমা আক্তারের বক্তব্য
রক্তাক্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় বিচারপ্রার্থী সাংবাদিক সালমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:

“আমি বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের পবিত্র কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলাম। বিচারকের সামনেই আসামিরা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে মারপিট করে রক্তাক্ত করল! আমি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটকে চিৎকার করে বলেছি—’মাননীয় আদালত, এই আসামির বিরুদ্ধে আরও ৩টি মামলায় ওয়ারেন্ট ঝুলছে, আপনার কোর্টেই পর্নোগ্রাফি আইনের জি.আর মামলা চলছে।’

কিন্তু কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, উল্টো আমাকে শাসানো হলো! আমি ঘটনার কোনো ভিডিও বা প্রমাণ রাখছি কিনা তা নিশ্চিত হতে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে একাধিকবার তল্লাশি ও চেক করা হয়। আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনে আঘাত পেয়েও যদি আমরা পুলিশ বা আদালতের কাছ থেকে সুরক্ষা না পাই, তবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

⚖ আইন বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা
কুমিল্লা বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, বিচারালয়ের ভেতরে এমন সহিংসতা এবং আইন প্রয়োগের ব্যর্থতা আইনি ব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়:

আদালত অবমাননা আইন ও দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা: এজলাসে বিচারকার্য চলাকালে হট্টগোল, মারপিট ও শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা সরাসরিসরাসরি “Contempt of Court” (আদালত অবমাননা) এবং দণ্ডবিধির ২২৮ ধারায় আমলযোগ্য অপরাধ। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত আসামিকে সোপর্দ (Custody) করার এখতিয়ার রাখেন।

ফৌজিদারী কার্যবিধি (CrPC) ও পরোয়ানা তামিল: পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে বিচারক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে দেখতে পেলে ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন তাকে গ্রেপ্তার করা আইনি বাধ্যবাধকতা।

দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারা: সংবাদকর্মীকে হত্যা ও মারাত্মক আঘাতের উদ্দেশ্যে আক্রমণ আইনত জামিনঅযোগ্য গুরুতর অপরাধ।

🏛 সার্বিক পরিস্থিতি ও বিচারবিভাগীয় শাস্তির দাবি
এ ঘটনায় কুমিল্লাসহ সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিচারালয় প্রাঙ্গণে বাদীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির অবাধ বিচরণ বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী ও সাংবাদিক মহলের পক্ষ থেকে দাবিসমূহ:

আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

শাহনাজ আক্তার সুমনার অবিলম্বে জামিন বাতিল করে জারি করা ৩টি পরোয়ানা ও নতুন হামলার ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার (CW Issue) করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

কুমিল্লার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসক (DC) মহোদয়কে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে আদালতের বিচারক ও বিচারপ্রার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd