‘পাইলটের পানিতে ডুবে মৃত্যুর’ বর্ণনা বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না—ফেসবুক পোস্টে তিন দফা দাবি; হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আইনি অধিকার ও সংবিধানের ৪৫ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসায় জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এবার তাহসিফ সাউরীর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ বক্তব্য প্রকাশ করে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন কে এস এম ইন্তিসার ইনজিমাম (Ksm Intisaar Inzimam) নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারী।
নিজেকে তাহসিফ সাউরীর বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে তিনি মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে প্রচারিত কিছু তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত মর্যাদা, আইনি সুরক্ষা, স্বাধীনভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় শুধু একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর তদন্ত নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে ও বাইরে সম্ভাব্য অন্যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে বাহিনীকে ব্যবহারের ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর আইনি সুরক্ষা প্রতিষ্ঠা করা।
তিন দফা দাবিতে কী বলেছেন ইন্তিসার?
ফেসবুক পোস্টে ইন্তিসার ইনজিমাম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, কে এম তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর নিরপেক্ষ, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা বাহিনীর পরিচয়কে বিবেচনায় না নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, হুইসেলব্লোয়ার বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা জোরদার করতে হবে। যাতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অন্যায়ের তথ্য প্রকাশ করার কারণে চাকরিগত হয়রানি, ভয়ভীতি, প্রতিশোধ কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন।
তৃতীয়ত, কর্মরত কিংবা সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ, মিডিয়া ট্রায়াল, মানহানি কিংবা বাহিনীর অভ্যন্তরে কোনো অন্যায় আচরণের অভিযোগ উঠলে তাঁদের স্বাধীন ও কার্যকর বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৫ অনুচ্ছেদ সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
‘পানিতে ডুবে মৃত্যুর’ বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন
ইন্তিসার ইনজিমামের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশটি তাহসিফ সাউরীর প্রশিক্ষণ ও পানিতে বেঁচে থাকার সক্ষমতা নিয়ে।
তাঁর দাবি, তাহসিফ বিমানবাহিনীর একজন জিডিপি পাইলট ছিলেন এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, পানিতে ভেসে থাকা ও জীবন রক্ষার মতো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশেষভাবে ওয়াটারম্যানশিপ প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইন্তিসারের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন প্রশিক্ষিত পাইলটের ক্ষেত্রে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর পানিতে ডুবে মৃত্যুর যে বর্ণনা সামনে এসেছে, সেটি তাঁর কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, যিনি পেশাগতভাবে পানিতে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণে দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে থাকার সক্ষমতা তৈরি করা হয়। এমনকি প্রশিক্ষিত একজন ব্যক্তি প্রতিকূল জলপরিবেশেও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারেন বলে তিনি নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তির সাঁতার জানা, পানিতে ভেসে থাকার প্রশিক্ষণ থাকা কিংবা পেশাগতভাবে শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করা মানেই সব পরিস্থিতিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা নয়। পানির স্রোত, শারীরিক অবস্থা, আঘাত, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পানির গভীরতা, পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয় একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তির জীবনও বিপন্ন করতে পারে।
তাই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। তাহসিফের প্রশিক্ষণের প্রকৃত রেকর্ড, সার্টিফিকেট, কোর্সের ধরন, মেয়াদ এবং মৃত্যুর সময়কার শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তের আওতায় আনার দাবি যৌক্তিকভাবে সামনে এসেছে।
তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে অনুমান নয়, প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণ।
৫ আগস্টের আন্দোলনের সময়ও দাবি জানিয়েছিলেন, দাবি ইন্তিসারের
ফেসবুক পোস্টে ইন্তিসার ইনজিমাম দাবি করেছেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ও তিনি এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নিরাপত্তার দাবি তুলেছিলেন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে কাঁধে তুলে নেওয়ার একটি ভিডিওতে দেওয়া লেখার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট মহল এসব দাবিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো মৌলিক সংস্কার উপেক্ষিত থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা বাইরের কোনো শক্তির স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ করতে হলে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন।
হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা: শুধু দাবি নয়, বিদ্যমান আইন কার্যকর করার প্রশ্নও
ইন্তিসারের দ্বিতীয় দাবিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অনিয়ম প্রকাশকারীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১ রয়েছে। অর্থাৎ হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষার বিষয়টি দেশে একেবারে আইনবিহীন নয়। তবে এই আইনের বাস্তব প্রয়োগ, সুরক্ষার পরিধি, অভিযোগকারীর নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
ইন্তিসারের বক্তব্যে যে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো—কোনো কর্মকর্তা যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা গুরুতর অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে যেন মিথ্যা অভিযোগের দায়ে হয়রানি করা না যায় এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন প্রক্রিয়া থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
সংবিধানের ৪৫ অনুচ্ছেদ নিয়ে কেন আলোচনা?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৫ অনুচ্ছেদে শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাবিষয়ক আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বাহিনীর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
ইন্তিসার ইনজিমাম মনে করেন, এই বিধানের প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো এমনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, যাতে বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সদস্যদের ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও কার্যকর থাকে।
তাঁর দাবি, কোনো কর্মকর্তা যদি বাহিনীর অভ্যন্তরে অন্যায়ের শিকার হন কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়, তাহলে তিনি যেন যথাযথ বিচারিক প্রতিকার পেতে পারেন।
এখানে উল্লেখযোগ্য, সংবিধানের ৪৫ অনুচ্ছেদ নিজে কাউকে আদালতের বাইরে রাখার সরাসরি বিধান নয়; বরং শৃঙ্খলাবিষয়ক আইনের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের কিছু বিধানের প্রযোজ্যতা সীমিত করে। ফলে অনুচ্ছেদটির সংস্কারের প্রশ্নটি সাংবিধানিক ভারসাম্য, বাহিনীর শৃঙ্খলা ও সদস্যদের ন্যায়বিচারের অধিকার—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনজ্ঞ ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের আলোচনার দাবি রাখে।
মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য, উদ্ধার হয়েছে মোটরসাইকেল
এদিকে কে এম তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ নামের এক ব্যক্তির দেখা হয়েছিল। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই হেফাজতে নেয়। তদন্তে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত পিবিআই-সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফ ও দীপের সঙ্গে থাকা অবস্থায় কিছু লোকের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দীপের একটি বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বক্তব্যে অসংগতি থাকার কথাও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে ওই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
৩০ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সেটি তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কি না, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা থাকলেও মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সংস্থা।
পিবিআই ছায়া তদন্তের মাধ্যমে নৌপুলিশকে সহযোগিতা করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাপ্রবাহ নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মোবাইল ফোনের তথ্য, উদ্ধার হওয়া আলামত, মোটরসাইকেলের অবস্থান এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকেও ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর বর্ণনা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাঁর বাবা ছেলের সাঁতার ও প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখার কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। তবে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন
তাহসিফ সাউরী কী পরিস্থিতিতে তুরাগ নদে পৌঁছেছিলেন? তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে অসংগতি কেন? কথিত ধাওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন? তাঁরা আদৌ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন কি না? মোটরসাইকেলটি কোথায় এবং কীভাবে পাওয়া গেল? মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও বিরোধ, হুমকি কিংবা চাপের ঘটনা ঘটেছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া কোনো একটি বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে মৃত্যুর ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে চূড়ান্ত করা কিংবা হত্যাকাণ্ড বলে ঘোষণা করা—কোনোটিই দায়িত্বশীল হবে না।
প্রয়োজন ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়রেখা তৈরি করে প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক আলামতের মিল খুঁজে বের করা।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর মর্যাদা ও নাগরিকের ন্যায়বিচার—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ
ইন্তিসার ইনজিমামের বক্তব্যে আবেগ ও ক্ষোভের পাশাপাশি একটি বড় রাষ্ট্রীয় প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের পেশাগত মর্যাদা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আইন ও সংবিধানের অধীন জবাবদিহির আওতায় রাখাও অপরিহার্য।
কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার হতে হবে। আবার কোনো সদস্য অন্যায়, হয়রানি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের শিকার হলে তাঁরও স্বাধীনভাবে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগের মাধ্যমে। তাই তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর তদন্তে কোনো পক্ষকে আগাম দায়মুক্তি দেওয়া কিংবা প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা—দুটিই পরিহার করা প্রয়োজন।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানিয়েছেন
পোস্টের শেষাংশে ইন্তিসার ইনজিমাম জানিয়েছেন, তাহসিফের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে তিনি এখনো স্বাভাবিক হতে পারছেন না। এমনকি ভিডিওর সামনে এসে এ বিষয়ে কথা বলার মতো মানসিক শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি তাঁর কাছে শুধু একটি সংবাদ বা আলোচিত মৃত্যু নয়; বরং ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত একজন মানুষের মৃত্যু এবং এর পেছনের প্রকৃত ঘটনা জানার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি মনে করেন, তাঁর উত্থাপিত তিন দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কোনো অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, ব্যক্তি কিংবা বাইরের শক্তির পক্ষে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা কঠিন হবে।
সরকারের কাছে প্রত্যাশা
তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের ফলাফল, ফরেনসিক তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইনের কার্যকর প্রয়োগ, বাহিনীর সদস্যদের বিচারিক প্রতিকার এবং সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার হতে পারে না। একইভাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো নাগরিক কিংবা বাহিন