এক রাতের মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ইমামদের আর্থিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য সম্মানী নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন ফাতিহা আয়াত। তাঁর মতে, দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক ও সাধারণ মসজিদের ইমামরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরিচালনা করেও যে সম্মানী পান, তা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এক রাতের ওয়াজ মাহফিলে আমন্ত্রিত বক্তাদের পেছনে লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা হলেও সারা বছর যাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, সেই ইমামের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনেক মসজিদ পরিচালনা কমিটির যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখা যায় না।
পোস্টে তিনি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, একজন ইমামকে যথাযথ সম্মানী দিতে না পারলে মসজিদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে ভাবা উচিত।
ফাতিহা আয়াত তাঁর পোস্টে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আম্বিয়ার ৭৩ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে ইমামদের মর্যাদা ও দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাস্তবতায় ইমামদেরও পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে হয় উল্লেখ করে তাঁদের আর্থিক সংকটের প্রতি সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজেদের বেতন ও অধিকার নিয়ে দাবি জানাতে পারেন। কিন্তু ইমামরা সম্মানী বৃদ্ধির দাবি তুললে কোনো কোনো মহল সেটিকে ধর্মব্যবসা হিসেবে আখ্যায়িত করে। তাঁর মতে, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের কারণে ইমামদের ন্যায্য পারিশ্রমিকের অধিকার খর্ব করা উচিত নয়।
ইমামদের জন্য স্থায়ী বেতন কাঠামোর দাবি
ফাতিহা আয়াত তাঁর পোস্টে দেশের সব মসজিদের ইমামদের জন্য স্থায়ী ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর দাবির মূল বিষয় হলো, মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় ইমামদের ন্যূনতম মাসিক বেতন নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, চিকিৎসা সুবিধা, উৎসব ভাতা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু ধর্মীয় মর্যাদার নয়, বরং পেশাগত স্বীকৃতি, সামাজিক দায়িত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তবে দেশের সব মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা এক নয়। তাই একটি কার্যকর বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে মসজিদের আয়, স্থানীয় বাস্তবতা এবং সরকারি সহায়তার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইমামদের ন্যায্য সম্মানী নিশ্চিত করতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির স্বচ্ছতা, আয়-ব্যয়ের জবাবদিহি এবং বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
মসজিদের সৌন্দর্য শুধু দৃষ্টিনন্দন ভবন, দামি কার্পেট কিংবা বড় আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যাঁরা প্রতিদিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে মুসল্লিদের নেতৃত্ব দেন, তাঁদের সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করাও মসজিদ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ফাতিহা আয়াতের বক্তব্যের মূল আবেদন—ইমামদের সম্মান শুধু কথায় নয়, তাঁদের ন্যায্য বেতন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ফাতিহা আয়াতের ফেসবুক পোস্ট।