• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক?

সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

 

সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন

ভালো চাকরি, সুখের সংসার ও জমি কেনার স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ; দেশে ফিরে প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার আকুতি ভুক্তভোগীর

ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

বিদেশে ভালো চাকরি, অধিক উপার্জন এবং পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র গ্রামের মোঃ মিলন। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর গহনা বিক্রির আরও ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। অথচ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে বিদেশের মাটিতে কর্মহীনতা, অসুস্থতা, নির্যাতন ও কারাবাসের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। দেশে ফিরে এখন আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি তাঁর।

ভুক্তভোগী মোঃ মিলন, পিতা মৃত আবেদ আলী। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র গ্রামে, ডাকঘর বাগুয়া।

মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে প্রায় ছয় বছর ওমানে ছিলেন। সেখানে কাজ করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা উপার্জন করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে কিছুদিন থাকার পর তাঁর বাড়ির পাশের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (পিতা মৃত ইমাম আলী সিকদার) তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

মিলনের অভিযোগ, আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁকে সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরি, সুন্দর কর্মপরিবেশ এবং ভবিষ্যতে পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকার আশ্বাস দেন। এমনকি জমি কেনার স্বপ্নও দেখান। এসব আশ্বাসে বিশ্বাস করে নিজের সঞ্চিত অর্থের ১৪ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে পাওয়া ৩০ হাজার টাকা তাঁর হাতে তুলে দেন বলে দাবি করেন মিলন।

তাঁর অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে অন্য একটি কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র এক মাস কাজ করার পর কোম্পানি থেকে বের করে দেওয়া হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে কাজ নেই বলে জানানো হলে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান।

মিলনের দাবি, কর্মহীন ও অসহায় অবস্থায় সৌদি আরবের রাস্তায় ঘোরাফেরার একপর্যায়ে দেশটির পুলিশ তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। প্রায় এক মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও শেষ পর্যন্ত সৌদি প্রশাসন তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

দেশে ফিরে মিলন দেখতে পান, বিদেশে যাওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব ব্যয় করলেও তাঁর হাতে আর কোনো সঞ্চয় অবশিষ্ট নেই। বর্তমানে তিনি নিজেকে সর্বস্বান্ত দাবি করে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ফেরত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

২০২০ সালের সালিশেও মেলেনি প্রতিকার

ভুক্তভোগী মিলন জানান, ঘটনার পর ২০২০ সালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে তাঁর দাবি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সালিশে উপস্থিত না হয়ে ঢাকায় চলে যান বলে অভিযোগ করেন মিলন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তির পেছনে ঘুরেও নিজের পাওনা টাকা ফেরত পাননি। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

মিলনের আরও অভিযোগ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে জামিনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুই লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকের নথিপত্র ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

যে এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাত্রা

মিলনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানোর ক্ষেত্রে ঢাকার বনানী এলাকার আর এম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সংশ্লিষ্টতা ছিল। প্রতিষ্ঠানটির রিক্রুটিং লাইসেন্স নম্বর হিসেবে তিনি আরএল-১৩৪৮ উল্লেখ করেছেন।

এজেন্সিটির মাধ্যমে তাঁর বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল বলে দাবি করলেও নিয়োগ, ভিসা, চাকরির চুক্তি, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীর আকুতি, টাকা ফেরত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই

মোঃ মিলন বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ এবং স্ত্রীর গহনা বিক্রির টাকা দিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু এখন তিনি নিঃস্ব। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেন।

একই সঙ্গে তাঁর মতো আর কেউ যেন বিদেশে চাকরির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই জরুরি

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য, আর এম এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, ভিসা ও চাকরির চুক্তিপত্র, পাসপোর্ট, সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর নথি, সালিশের সিদ্ধান্ত এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। তাই একজন প্রবাসীর দীর্ঘদিনের উপার্জন ও পরিবারের সম্পদ হারানোর এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর যোগাযোগ: ০১৭৬৪৫২৩৩৩০।

তথ্যসূত্র: ভুক্তভোগী মোঃ মিলনের দেওয়া বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাই সাপেক্ষে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd