হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাত্র একটি শব্দের পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল; হ্যাকিং নয়, ‘রস+আলো’র ব্যতিক্রমী প্রচারণা
স্টাফ রিপোর্ট
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হঠাৎ মাত্র একটি শব্দ—‘স্যরি!’ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও কৌতূহল। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ পেজ হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা করেন, আবার কেউ মনে করেন এর পেছনে রয়েছে বিশেষ কোনো বার্তা।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ‘স্যরি’ পোস্টের পেছনে রয়েছে প্রথম আলোর রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন।
কী কারণে ক্ষমা চাইল প্রথম আলো?
প্রথম আলোর ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘স্যরি!’ শিরোনামের রসক্লেইমারে রস+আলোর পক্ষ থেকে পাঠকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, এবারের সংখ্যার জন্য উপযুক্ত রম্য ভাবনা বা আইডিয়ার সংকট দেখা দেওয়ায় পাঠকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কভার প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
লেখাটিতে দেশের গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ‘আইডিয়া সংকট’ বিষয়টিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা
শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই শেষ হয়নি আয়োজনটি। বরং পাঠকদের জন্য দেওয়া হয়েছে বিশেষ একটি সুযোগ। রংপেনসিল ব্যবহার করে পাঠকেরা নিজেরাই রস+আলোর জন্য পছন্দমতো প্রচ্ছদ বা কভার তৈরি করতে পারবেন।
এরপর সেই প্রচ্ছদের ছবি ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে প্রকাশ করে রস+আলোর অফিশিয়াল পেজ ট্যাগ করতে হবে। নির্বাচিত সেরা তিনটি প্রচ্ছদ পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক বিজয়ীর জন্য রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা অর্থ পুরস্কার।
প্রচারণার আড়ালে সৃজনশীল উদ্যোগ
প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে হঠাৎ ‘স্যরি’ শব্দটি প্রকাশের ফলে পাঠকদের মধ্যে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেটি রস+আলোর বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বলে স্পষ্ট হয়।
অর্থাৎ, এটি কোনো পেজ হ্যাকিংয়ের ঘটনা কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদগত ভুল স্বীকারের ঘোষণা নয়। বরং ‘আইডিয়া সংকট’কে কেন্দ্র করে পাঠকদের সম্পৃক্ত করার একটি ব্যতিক্রমী রম্য আয়োজন।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রকাশিত লেখা এবং পরবর্তী আলোচনার তথ্য থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
সূত্র: প্রথম আলো, রস+আলো, ১ নভেম্বর ২০২৬।